ম্যাকবুক, আইপ্যাডের দাম বাড়ালো অ্যাপল

বিশ্ববাজারে চিপের সরবরাহ ঘাটতি ও ক্রমাগত খরচের কারণে আইপ্যাড ও ম্যাকবুকসহ কিছু জনপ্রিয় ডিভাইসের দাম বাড়িয়েছে অ্যাপল।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) অ্যাপল বলেছে, এআই শিল্পের ডেটা সেন্টার সম্প্রসারণের কারণে মেমোরি ও স্টোরেজ চিপের উচ্চামূল্যের কারণে গ্রাহকদের সুরক্ষা দিতে পারছে না।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।   

অ্যাপলের আয়ের মূল উৎস আইফোনের ওপর এ দামবৃদ্ধির কোনো প্রভাব পড়বে না। তবে সাশ্রয়ী উইন্ডোজ ও ক্রোমবুক ল্যাপটপের সঙ্গে বাজারে প্রতিযোগিতা করতে আসা কোম্পানিটির সবচেয়ে সাশ্রয়ী দামের ল্যাপটপ ‘নিও’-এর প্রারম্ভিক দামে সরাসরি প্রভাব ফেলবে। বাজারে আসার কেবল কয়েক মাসের মাথায় ল্যাপটপটির শুরুর দাম ৫৯৯ ডলার থেকে বেড়ে দাঁড়াবে ৬৯৯ ডলারে।

রয়টার্স এর প্রতিবেদনের বরাতে জানা গেছে, এ দামবৃদ্ধি থেকে প্রমাণ পাওয়া যায়, গোটা বিশ্বে সবচেয়ে শক্তিশালী সাপ্লাই চেইন নেটওয়ার্ক থাকার পরও অ্যাপলের মতো মূল্যবান কনজিউমার ইলেকট্রনিক্স কোম্পানিও মেমোরি চিপের এ অস্বাভাবিক দামবৃদ্ধি থেকে রেহাই পেল না।

চিপের এ বাড়তি দাম এরইমধ্যে স্মার্টফোন ও পিসি বিক্রির পূর্বাভাসের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। সাম্প্রতিক মাইক্রনের মতো মেমোরি চিপ নির্মাতারা এনভিডিয়া’র মতো এআই চিপমেকারদের বিভিন্ন অর্ডারকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে।

এতে চিপ নির্মাতারা রেকর্ড মুনাফা করলেও বাজারে চিপের সরবরাহ ঘাটতি দেখা দিয়েছে। ফলে অন্য ইলেকট্রনিক্স নির্মাতারা পণ্যের দাম বাড়াতে বাধ্য হচ্ছে।

এক বিবৃতিতে অ্যাপল জানায়, কোনো উপাদানের বা যন্ত্রাংশের দাম এত কম সময়ে এতটা বাড়ে নি। এ পযন্ত গ্রাহকদের এ দামবৃদ্ধির প্রভাব থেকে দূরে রাখা সম্ভব নয়। বেশ কিছু পণ্যের দাম বাড়ানো জরুরি হয়ে পড়েছে। এর অংশ হিসেবেই আইপ্যাড ও ম্যাকের দাম বাড়াল।  

অ্যাপলের ওয়েবসাইটে পরিবর্তিত দামের তালিকা অনুসারে, ৫১২ গিগাবাইট স্টোরেজের ম্যাকবুক এয়ারের দাম ১,০৯৯ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১,২৯৯ ডলার করা হয়েছে।

অন্যদিকে, ১ টেরাবাইট স্টোরেজের ম্যাকবুক প্রো’র দাম ১,৬৯৯ ডলার থেকে দাঁড়িয়েছে ১,৯৯৯ ডলারে। পাশাপাশি ১২৮ গিগাবাইট স্টোরেজের আইপ্যাড এয়ারের দামও ৫৯৯ ডলার থেকে বাড়িয়ে ৭৪৯ ডলার করেছে অ্যাপল।

এ তথ্য আসার পরই প্রাক-বাজার লেনদেনে অ্যাপলের শেয়ারের দাম ০.৭% কমেছে।

এপ্রিলের শেষদিকে বিশ্লেষকদের সঙ্গে এক কনফারেন্সে কোম্পানিটির বিদায়ী প্রধান নির্বাহী টিম কুক বলেন, “আমরা মেমোরি চিপের খরচ ব্যাপকহারে বাড়ার আশঙ্কা করছি। জুনের পরের সময়টুকুর সুনির্দিষ্ট কোনো রূপরেখা আমরা এখনই দিচ্ছি না ঠিকই, তবে আমি আপনাদের এটুকু বলতে পারি, জুন কোয়ার্টার বা প্রান্তিকের পর মেমোরি চিপের এ বাড়তি খরচ আমাদের ব্যবসায় ব্যাপকহারে প্রভাব ফেলবে।”