Friday, August 07, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

এআই দিয়ে প্রথমবার নতুন ভাইরাস তৈরি

এ ভাইরাস কেবল ব্যাকটেরিয়াকে সংক্রমিত করে, মানুষ বা অন্য প্রাণীকে নয় 

আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৪৯ পিএম

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে প্রথমবারের মতো নতুন ভাইরাস তৈরি করেছেন বিজ্ঞানীরা।

এখানে যে ভাইরাস তৈরি করা হয়েছে, তা ব্যাকটেরিওফাজ বা ফাজ নামে পরিচিত। এ ধরনের ভাইরাস কেবল ব্যাকটেরিয়াকে সংক্রমিত করে, মানুষ বা অন্য প্রাণীকে নয়। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অ্যান্টিবায়োটিকে কাজ না করা দীর্ঘস্থায়ী ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের চিকিৎসায় ফাজ থেরাপি ব্যবহার করা হচ্ছে।

গবেষকদের মতে, এ প্রযুক্তি অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ার চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। তবে ভবিষ্যতে এআই দিয়ে আরও জটিল ও বিপদজনক ভাইরাস তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে নিরাপত্তা উদ্বেগও তৈরি হয়েছে।

দ্য গার্ডিয়ান-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের রাসায়নিক প্রকৌশলী ড. ব্রায়ান হাই ও তার সহকর্মীরা এ গবেষণার নেতৃত্ব দিয়েছেন। গবেষণায় তারা ‘জিনোম ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল’ নামের এক ধরনের এআই ব্যবহার করেন।

এরপর সেই নকশা ব্যবহার করে পরীক্ষাগারে সত্যিকারের ফাজ তৈরি করা হয় এবং ব্যাকটেরিয়ার ওপর পরীক্ষা চালানো হয়।

গবেষকরা মনে করেন, ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তির সাহায্যে খুব দ্রুত নির্দিষ্ট ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে নতুন ফাজ তৈরি করা যাবে। ফলে এমন অনেক সংক্রমণের চিকিৎসা করা সম্ভব হবে, যেগুলো এখন সহজে সারানো যায় না। এই গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় বিজ্ঞান সাময়িকী সায়েন্স-এ।

তবে বিজ্ঞানীরা বলেছেন, “এমন প্রযুক্তি ব্যবহার করার সময় নিরাপত্তাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।” তাই এ ধরনের গবেষণায় নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদেরও যুক্ত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

একই বিষয়ে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই গবেষক, টম ইংলেসবি ও মরিটজ হ্যাঙ্কে। তাদের মতে, এখন এআই দিয়ে ভাইরাসের জিনোম তৈরি করা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু এই প্রযুক্তিকে নিরাপদভাবে নিয়ন্ত্রণ করার মতো নিয়মকানুন এখনো পুরোপুরি তৈরি হয়নি।

গবেষণায় ইভিও১ এবং ইভিও২ নামে দুটি এআই মডেল ব্যবহার করা হয়েছে। এগুলোকে প্রায় ২০ লাখ ব্যাকটেরিওফাজের জিনগত তথ্য দিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। তবে মানুষ, প্রাণী বা গাছে রোগ ছড়াতে পারে এমন কোনো ভাইরাসের তথ্য এতে দেওয়া হয়নি। এতে বিপদজনক ভাইরাস তৈরির ঝুঁকি কমে।

এআই কয়েক হাজার সম্ভাব্য জিনোম তৈরি করেছিল। সেখান থেকে বিজ্ঞানীরা প্রায় ৩০০টি বেছে নিয়ে পরীক্ষাগারে তৈরি করেন। কিন্তু এর মধ্যে মাত্র ১৬টি সত্যিই কাজ করেছে। যদিও সংখ্যায় কম, এই ১৬টি ফাজ একসঙ্গে ব্যবহার করে ই. কোলাইয়ের দুটি কঠিন ধরনের ব্যাকটেরিয়াকে সফলভাবে ধ্বংস করা গেছে।

বিজ্ঞানীদের মতে, এখানে থেকে দেখা গেছে এআই সত্যিই কাজ করতে পারে। তবে এর মানে এই নয় যে, এখনই এআই দিয়ে যেকোনো ভাইরাস সহজে তৈরি করা সম্ভব। কারণ, ব্যাকটেরিওফাজের জিনোম খুব ছোট ও তুলনামূলক সহজ। মানুষ বা প্রাণীতে রোগ ছড়ানো ভাইরাসের জিনোম অনেক বেশি জটিল।

যুক্তরাজ্যের ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের অধ্যাপক টম এলিস বলেন, “এআইকে যদি বিপদজনক রোগজীবাণুর তথ্য দিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, তাহলে ভবিষ্যতে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তবে জিনগত তথ্যের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা এবং বিপজ্জনক জিনোম তৈরির ওপর নজরদারি রাখলে সেই ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।”

কিংস কলেজ লন্ডনের গবেষক ড. ফিলিপা লেনজোস মনে করেন, শুধু এআইকে নিয়ন্ত্রণ করলেই হবে না, একইসঙ্গে গবেষণা, প্রযুক্তির ব্যবহার ও পরীক্ষাগারের নিরাপত্তা সব ক্ষেত্রেই সতর্ক থাকতে হবে।

বিজ্ঞানীদের মতে, এআই চিকিৎসাবিজ্ঞানে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে। তবে এই প্রযুক্তি যাতে চিকিৎসার উপকারের বদলে নতুন ঝুঁকি তৈরি না করে, তা নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

   

About

Popular Links

x