উদ্ধারকাজে এবার ডাইভিং স্যুট পরা ‘সাইবর্গ তেলাপোকা’

বিজ্ঞানের কিছু উদ্ভাবন প্রথমে অবিশ্বাস্য মনে হলেও বাস্তবে সেগুলো নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেয়। এবার তেমনই এক প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনায় এসেছেন সিঙ্গাপুর ও জাপানের একদল গবেষক। তারা দুর্যোগকবলিত এলাকায় উদ্ধারকাজে ব্যবহারের জন্য তৈরি করেছেন ‘সাইবর্গ তেলাপোকা’, যা বিশেষ ডাইভিং স্যুট পরে পানির নিচেও কয়েক ঘণ্টা সক্রিয় থাকতে পারে। 

প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ‘এনগ্যাজেট’ জানিয়েছে, গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন সিঙ্গাপুরের নানইয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটি এবং জাপানের ওয়াসেদা ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা। তাদের তৈরি ক্ষুদ্র ডাইভিং স্যুট পরা তেলাপোকাগুলো পানির নিচে টানা তিন ঘণ্টা পর্যন্ত বেঁচে থাকতে ও চলাচল করতে সক্ষম হয়েছে।

গবেষকদের মতে, এসব সাইবর্গ তেলাপোকা এমন সব সরু ফাঁক বা ধ্বংসস্তূপে প্রবেশ করতে পারবে, যেখানে মানুষ, উদ্ধারকারী প্রাণী কিংবা বড় আকারের রোবট পৌঁছাতে পারে না। তাই ভূমিকম্প, ভবনধস বা বন্যার মতো দুর্যোগে নিখোঁজ ব্যক্তিদের খোঁজে এগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তারা জানিয়েছে, চলতি বছরে মিয়ানমারের ভূমিকম্প-পরবর্তী উদ্ধার অভিযানে পরীক্ষামূলকভাবে এ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। 

সাধারণত ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ সংযুক্ত ‘মাদাগাস্কার হিসিং ককরোচ’ পানিতে দীর্ঘ সময় টিকে থাকতে পারে না। এ সীমাবদ্ধতা কাটাতেই গবেষকেরা তাদের জন্য বিশেষ নমনীয় ডাইভিং স্যুট তৈরি করেছেন। এতে রয়েছে অক্সিজেন উৎপাদনকারী ট্যাংক, নমনীয় আবরণ এবং চারটি সিলিকন টিউব, যা তেলাপোকার শ্বাসছিদ্রের সঙ্গে সংযুক্ত থেকে অক্সিজেন সরবরাহ করে।

গবেষকদের দাবি, উদ্ধার অভিযান শেষে তেলাপোকার কোনো ক্ষতি না করেই সহজে এ ডিভাইস খুলে নেওয়া যায়।  

গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে বিজ্ঞান সাময়িকী ‘নেচার কমিউনিকেশনস’এ। পরীক্ষায় দেখা গেছে, বিশেষ ডাইভিং স্যুট পরা সাইবর্গ তেলাপোকাগুলো পানির নিচে টানা তিন ঘণ্টা পর্যন্ত সফলভাবে চলাচল করতে সক্ষম হয়েছে।