ঢাকাসহ সারা দেশেই এখন গ্যাসের তীব্র সংকট। গ্রামে মাটির চুলার ব্যবহার থাকলেও শহরাঞ্চলে বিকল্প ব্যবস্থার অভাবে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পাইপলাইন কিংবা সিলিন্ডার, দুই ধরনের গ্যাসের সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় ভোগান্তি এড়াতে শহরের মানুষের প্রথম পছন্দ হয়ে উঠেছে বিদ্যুৎচালিত ইন্ডাকশন ও ইনফ্রারেড চুলা।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বর্তমানে বাজারে মূলত দুই ধরণের আধুনিক ইলেকট্রিক চুলা পাওয়া যাচ্ছে:
১. ইন্ডাকশন চুলা: এটি মূলত তড়িৎ-চুম্বকীয় প্রযুক্তিতে আগুনের শিখা ছাড়াই কাজ করে। এই চুলার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো নিরাপত্তা। যে অংশে পাত্র বসে শুধু সেই অংশটুকুই উত্তপ্ত হয়, পুরো কাচের উপরিভাগ গরম হয় না। অন থাকার পরও পাত্র না রাখলে বা সরিয়ে নিলে তাপ উৎপন্ন হওয়া বা চুলা চালু রাখা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যায়। তবে এতে শুধু লোহা বা বিশেষ স্টেইনলেস স্টিলের (ফেরোম্যাগনেটিক) পাত্র ব্যবহার করা যায়।
২. ইনফ্রারেড চুলা: বিদ্যুৎ-প্রবাহের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ কয়েল উত্তপ্ত করে তাপ তৈরি করে এটি। ইন্ডাকশনের চেয়ে বাজারে ইনফ্রারেড চুলার চাহিদা তুলনামূলক বেশি। কারণ, এ চুলায় কাচ, সিরামিক, অ্যালুমিনিয়াম কিংবা মাটিসহ প্লাস্টিক ছাড়া প্রায় সব ধরনের পাত্রেই রান্না করা সম্ভব।
বর্তমানে বাজারে ভিশন, ভিগো, ওয়ালটন, কিয়াম ও মিয়াকোর মতো ব্র্যান্ডের চুলা মিলছে। গুণমান ও ওয়ারেন্টির ওপর ভিত্তি করে ইন্ডাকশন চুলার দাম পড়ছে ৩,৭৫০ টাকা থেকে ১০,৪১৭ টাকা পর্যন্ত। অন্যদিকে, সাধারণ পাত্র ব্যবহারের সুবিধাসম্পন্ন ইনফ্রারেড চুলা মিলছে ৩,৬৯০ টাকা থেকে ৬,২৯৯ টাকার মধ্যে।
ইলেকট্রনিক বিশেষজ্ঞ ও বিক্রেতারা পরামর্শ দিয়েছেন, এ ধরণের চুলার উপরের অংশ সাধারণত উন্নত কাচের তৈরি হওয়ায় রান্নার পরপরই এটি গরম থাকা অবস্থায় ঠান্ডা পানি দিয়ে পরিষ্কার করা যাবে না, এতে কাচ ফেটে যেতে পারে। চুলা পুরোপুরি ঠান্ডা হওয়ার পর গ্লাস ক্লিনার দিয়ে পরিষ্কার করা নিরাপদ।