ফেসবুক মালিক প্রতিষ্ঠান মেটার বিরুদ্ধে ট্রিলিয়ন ডলারের মামলা

ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মালিক প্রতিষ্ঠান মেটার বিরুদ্ধে শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসক্ত করে তোলার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে বড় ধরনের আইনি লড়াই শুরু হতে যাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের চার অঙ্গরাজ্যে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে করা মামলায় সর্বোচ্চ ১.৪ ট্রিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে হতে পারে। মামলার প্রতিনিধিত্ব করছে ক্যালিফোর্নিয়া, কলোরাডো, কেনটাকি ও নিউ জার্সি। সংবাদ সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

বুধবার (১২ আগস্ট) যুক্তরাষ্ট্রের অকল্যান্ডে মামলার জন্য জুরি বাছাই শুরু হয়েছে। আগামী ১৮ আগস্ট থেকে উভয় পক্ষের প্রাথমিক বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।

মেটার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গও মামলায় গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী হিসেবে আদালতে উপস্থিত হতে পারেন।

এদিকে, মেটা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। প্রতিষ্ঠানটির এক মুখপাত্র বলেছেন, তরুণদের অনলাইনে নিরাপদ রাখতে মেটা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। এ বিষয়ে অভিভাবক, বিশেষজ্ঞ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সঙ্গেও কাজ করেছে তারা।

মামলায় মেটার বিরুদ্ধে শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতিপূরণই নয়, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের ফিচারে বেশ কিছু পরিবর্তন আনার দাবিও জানানো হয়েছে। ক্ষতিপূরণের পরিমাণ সর্বোচ্চ ১.৪ ট্রিলিয়ন ডলার হতে পারে। এটি মেটার বর্তমান বাজারমূল্য ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রায় কাছাকাছি।

তবে আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, অর্থের চেয়েও মেটার জন্য বড় সমস্যা হতে পারে প্রতিষ্ঠানটির সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া। আদালতের নির্দেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের ফিচার ও ব্যবসায়িক পদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে হলেও সেটি মেটার জন্য বড় চাপ তৈরি করবে।

২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্য মেটার বিরুদ্ধে মামলা করে। তাদের অভিযোগ, শিশু-কিশোরদের দীর্ঘ সময় ধরে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে আটকে রাখতে প্রতিষ্ঠানটি ইচ্ছাকৃতভাবে এমন কিছু ফিচার তৈরি করেছে, যা ব্যবহারকারীদের মধ্যে আসক্তি তৈরি করে।

প্রসঙ্গত, মেটার বিরুদ্ধে এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন আদালতে একাধিক মামলা হয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেস ও নিউ মেক্সিকোতে পৃথক দুটি মামলায় একই ধরনের অভিযোগে মেটার বিরুদ্ধে রায়ও হয়েছে। দুই মামলায় সব মিলিয়ে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ প্রায় ১০০ কোটি ডলার।

গত মে মাসে কেনটাকির একটি স্কুল ডিস্ট্রিক্টের করা মামলা মেটা, স্ন্যাপ, টিকটক ও ইউটিউব ২ কোটি ৭০ লাখ ডলারে সমঝোতা করে। ওই মামলা প্রায় ১,২০০টি একই ধরনের মামলার ওপর প্রভাব ফেলতে পারত।

এরপর চলতি মাসে একটি ফেডারেল আপিল আদালত মেটা, গুগল, স্ন্যাপ ও টিকটকের বিরুদ্ধে দায়ের করা আরও অন্তত ৩,০০০ মামলা চালুর অনুমতি দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার, মানসিক স্বাস্থ্য এবং প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর দায়বদ্ধতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এই আইনি লড়াই সহজে শেষ হচ্ছে না। বরং আগামী কয়েক বছর ধরে এর প্রভাব আরও বিস্তৃত হতে পারে।