Saturday, August 22, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

হিংসুটে আত্মীয়দের নজর এড়াতে আর ব্লক নয়, আসলো নতুন প্রযুক্তি

পারিবারিক ও সামাজিক অস্বস্তি থেকে বাঁচতে তরুণদের মধ্যে এমন কৌশল দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে

আপডেট : ২১ আগস্ট ২০২৬, ০১:২১ পিএম

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাউকে সরাসরি ব্লক না করেও তার কাছ থেকে দূরত্ব বজায় রাখা যায়। ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা, অনাকাঙ্ক্ষিত নজরদারি এড়ানো কিংবা পারিবারিক ও সামাজিক অস্বস্তি থেকে বাঁচতে তরুণদের মধ্যে এমন কৌশল দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নীরবে দূরত্ব তৈরির এই পদ্ধতিকে বলা হচ্ছে ‘সফট ব্লকিং’।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত জীবনের নানা মুহূর্ত সহজেই অন্যদের নজরে চলে আসে। কোথায় ঘুরতে যাওয়া, কার সঙ্গে সময় কাটানো কিংবা কোন রেস্তোরাঁয় খাওয়া, এসব তথ্য অনেক সময় আত্মীয়স্বজন, বন্ধু বা পরিচিতদের কাছেও পৌঁছে যায়। বিশেষ করে কেউ নিয়মিত এসব খোঁজখবর নিলে অস্বস্তিতে পড়তে পারেন অনেকে। এমন পরিস্থিতিতে সরাসরি ব্লক না করেই অনলাইনে দূরত্ব তৈরির পথ বেছে নিচ্ছেন তারা।

‘সফট ব্লকিং’ বলতে মূলত কাউকে সরাসরি ব্লক না করে বিভিন্ন গোপনীয়তা ও যোগাযোগের সেটিংস ব্যবহার করে তার সঙ্গে অনলাইনে দূরত্ব তৈরি করাকে বোঝায়। এতে সম্পর্ক পুরোপুরি ছিন্ন না করেও নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরিসর নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

কাউকে সরাসরি ব্লক না করে তার পোস্ট বা স্টোরি নিজের সামনে আসা বন্ধ করতে তাকে মিউট করা যায়। একইভাবে নিজের পোস্ট বা স্টোরি নির্দিষ্ট ব্যক্তির কাছ থেকে লুকিয়ে রাখার সুযোগও রয়েছে।

এ ছাড়া কাউকে আনফলো করা, নিজের অনুসারীর তালিকা থেকে সরিয়ে দেওয়া কিংবা তার বার্তার উত্তর ধীরে ধীরে কমিয়ে দেওয়াও সফট ব্লকিংয়ের কৌশল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ফলে ব্লকের মতো স্পষ্ট কোনো পদক্ষেপ না নিয়েই অনলাইনে যোগাযোগের পরিধি সীমিত করা যায়।

নিজের ব্যক্তিগত জীবনের সব তথ্য সবার সঙ্গে ভাগ করে নিতে চান না অনেকেই। কোথায় যাচ্ছেন, কার সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন বা ব্যক্তিগত জীবনে কী ঘটছে, এসব তথ্য নির্দিষ্ট কারও কাছ থেকে আড়াল রাখতে সফট ব্লকিং কার্যকর হতে পারে।

কাউকে সরাসরি ব্লক করলে পারিবারিক বা সামাজিক সম্পর্কে অস্বস্তি তৈরি হতে পারে। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন, তর্ক কিংবা মনোমালিন্যের আশঙ্কাও থাকে। তাই প্রকাশ্য বিরোধে না গিয়ে নীরবে দূরত্ব তৈরি করাকে তুলনামূলক সহজ উপায় মনে করেন কেউ কেউ।

সরাসরি ব্লক করার ক্ষেত্রে বিষয়টি স্পষ্ট থাকে। কিন্তু সফট ব্লকিংয়ের ক্ষেত্রে কেন আচরণে পরিবর্তন এসেছে, তা অনেক সময় বোঝা যায় না। ফলে যার সঙ্গে এমন আচরণ করা হচ্ছে, তার মনে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে, কী ভুল হয়েছে, কেন তাকে এড়িয়ে চলা হচ্ছে বা তিনি কোনো ভুল করেছেন কি না।

বিশেষ করে কাছের বন্ধু, আত্মীয় কিংবা প্রিয়জনের আচরণ হঠাৎ বদলে গেলে এই অনিশ্চয়তা মানসিক অস্বস্তি বাড়াতে পারে।

সফট ব্লকিংয়ের প্রভাব অনেকটাই নির্ভর করে এর উদ্দেশ্য ও পরিস্থিতির ওপর। কোনো সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর নিজের মানসিক শান্তি ও ব্যক্তিগত সীমারেখা বজায় রাখতে প্রাক্তন সঙ্গীর কাছ থেকে দূরত্ব তৈরি করতে এটি ব্যবহার করা হলে তা ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার একটি উপায় হতে পারে।

তবে কাউকে অপরাধবোধে ভোগানো, বারবার নিজের কাছে ফিরিয়ে আনা কিংবা নিজের পেছনে ছুটতে বাধ্য করার উদ্দেশ্যে এমন কৌশল ব্যবহার করা হলে তা মানসিক নিয়ন্ত্রণের চেষ্টায় পরিণত হতে পারে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যক্তিগত জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও সেখানে সব তথ্য সবার সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার প্রয়োজন নেই। নিজের গোপনীয়তা ও মানসিক স্বস্তির জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী অনলাইন সীমারেখা তৈরি করা যেতে পারে।

তবে দীর্ঘদিনের বন্ধু বা গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হলে হঠাৎ নীরবে দূরত্ব বাড়ানোর বদলে প্রয়োজনে খোলাখুলি কথা বলাই ভালো। কারণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দূরত্ব তৈরি করা সহজ হলেও সম্পর্কের ভুল বোঝাবুঝি দূর করতে অনেক সময় সরাসরি কথোপকথনের বিকল্প থাকে না।

   

About

Popular Links

x