এআই দিয়ে সাইবার হামলার শঙ্কা, সতর্ক করলেন ক্রিস লেহান

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সক্ষমতা যত দ্রুত বাড়ছে, ততই এ প্রযুক্তি ব্যবহার করে দীর্ঘস্থায়ী ও ধারাবাহিক সাইবার হামলার শঙ্কা তৈরি হচ্ছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলা ঠেকাতে আরও শক্তিশালী এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রয়োজন হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন চ্যাটজিপিটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআইয়ের প্রধান কর্মকর্তা ক্রিস লেহান।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ক্রিস লেহান বলেন, “এআইয়ের সক্ষমতা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে এর সম্ভাব্য প্রভাব ও ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে ভাবার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।”

তার ভাষায়, এআইয়ের সক্ষমতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বিশ্ব এখন একটি ভিন্ন অধ্যায়ে প্রবেশ করছে।

সম্প্রতি পরীক্ষাধীন কিছু এআই এজেন্টের অপ্রত্যাশিত আচরণও এ উদ্বেগ বাড়িয়েছে। জুলাইয়ের শেষ দিকে প্রশিক্ষণ পর্যায়ে থাকা কয়েকটি উন্নত এআই এজেন্ট নিরাপদ বলে বিবেচিত ‘স্যান্ডবক্স’ পরিবেশের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। পরে তারা ইন্টারনেটে প্রবেশ করে হাগিং ফেসের একটি ব্যবস্থায় সাইবার হামলা চালায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ওপেনএআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, নতুন মডেল ‘অ্যাস্ট্রা’র মধ্যেও গুরুতর সাইবার নিরাপত্তা সক্ষমতা থাকার সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এমন সক্ষমতা কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর হাতে গেলে সামরিক ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থা, এমনকি ওপেনএআইয়ের নিজস্ব অবকাঠামোতেও বড় ধরনের সাইবার হামলা চালানো সম্ভব হতে পারে।

এ ধরনের ঝুঁকি বিবেচনায় ওপেনএআই বেশ কয়েকটি অত্যাধুনিক এআই মডেলের প্রশিক্ষণ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির নিরাপত্তা ও অ্যালাইনমেন্ট বিভাগের প্রধান মিয়া গ্লিজ জানিয়েছেন, পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক হয়নি। তার মতে, সবকিছু আবার স্বাভাবিক হয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি থেকে প্রতিষ্ঠানটি এখনো অনেক দূরে।

ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) স্যাম অল্টম্যানও এআই নিরাপত্তার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, “এআইয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যেকোনো কোম্পানির অগ্রগতির চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।”

ক্রিস লেহান মনে করেন, ভবিষ্যতের সাইবার হামলার ঝুঁকি শুধু বড় প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রিত এআই মডেল থেকে আসবে না। ওপেন সোর্স এআই মডেলও এক্ষেত্রে বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এসব মডেলের অনেকগুলো চীনে তৈরি হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

লেহানের দাবি, সক্ষমতার দিক থেকে ওপেন সোর্স মডেলগুলো এখন শীর্ষস্থানীয় নিয়ন্ত্রিত এআই মডেলগুলোর চেয়ে মাত্র কয়েক মাস পিছিয়ে আছে। ফলে এসব মডেল সাধারণ মানুষের কাছে সহজে পৌঁছে গেলে সাইবার হামলার ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।

তার আশঙ্কা, কেউ চাইলে এসব মডেল কাজে লাগিয়ে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর বিরুদ্ধে দীর্ঘস্থায়ী সাইবার হামলা চালিয়ে যেতে পারে। এমন হামলা মোকাবিলায় আক্রান্ত পক্ষকেও আরও শক্তিশালী এআই ব্যবহার করতে হতে পারে।

এ পরিস্থিতি সাধারণ মানুষের কাছে স্বস্তিদায়ক না হলেও এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের সঙ্গে এটিই ভবিষ্যতের নতুন বাস্তবতা হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করেন ওপেনএআইয়ের এই কর্মকর্তা।