বর্তমান সময়ে মোবাইল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ নানা ধরনের বিভ্রান্তির কারণে কোনো কাজে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে মানুষ নিজের কাজ কিংবা কাছের মানুষের সঙ্গে পুরোপুরি মনোযোগী থাকতে পারেন না। এই সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যেই ‘অ্যাটলাস ১.০’ নামে একটি পরিধানযোগ্য ডিভাইস তৈরি করেছে স্টার্টআপ অ্যাটলাস।
প্রযুক্তি বিষয়ক সংবাদমাধ্যম এনগ্যাজেট-এর প্রতিবেদনে লিখেছে, অ্যাটলাস ১.০ নামের এই ডিভাইসটি কানের পেছনের ত্বকে একটি আঠালো প্যাডের মাধ্যমে লাগানো যায়। এটি মস্তিষ্কের তরঙ্গ, ত্বকের বৈদ্যুতিক কার্যকলাপ, শরীরের নড়াচড়া এবং কণ্ঠস্বরের ধরন রেকর্ড করে। পরে এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে ব্যবহারকারীর মনোযোগ কোথায় রয়েছে, তা পরিমাপ করার চেষ্টা করে ডিভাইসটি।
ধরা যাক, কেউ পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন। কিন্তু সেই সময় তার মনোযোগ যদি বারবার নিজের দিকে চলে যায়, তাহলে ডিভাইসটি সেটি শনাক্ত করতে পারবে। অর্থাৎ, তিনি ওই মুহূর্তে পরিবারের সঙ্গে কতটা মনোযোগী ছিলেন, তার একটি ধারণা পাওয়া যাবে।
আপাতত কেবল আইওএস ডিভাইসে ব্যবহারযোগ্য এ অ্যাপটি খুললেই জানা যাবে আপনি কতটা মনোযোগী, মানসিক চাপে কেমন পারফর্ম করছেন বা মানসিক চাপ থেকে কতটা দ্রুত মানিয়ে নিতে পারছেন।
এছাড়া দিনের বিভিন্ন সময়ে তিনি কী করছিলেন, সেটিও অ্যাপে লিখে রাখতে পারবেন। পরে এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে কোন পরিবেশ বা পরিস্থিতিতে তিনি সবচেয়ে ভালো কাজ করেন, তা বোঝার সুযোগ থাকবে। এর মাধ্যমে নিজের জন্য কার্যকর অভ্যাস ও পরিস্থিতিগুলো চিহ্নিত করা সম্ভব হবে।
তবে ডিভাইসটি ব্যবহারকারীর কথাবার্তা রেকর্ড করে না। কণ্ঠস্বরের পরিবর্তে কখন কথা বলা হচ্ছে এবং কথাবলার ধরন কেমন-এসব তথ্য ব্যবহার করে ওই সময় ব্যবহারকারী কেমন মানসিক অবস্থায় আছেন তা বুঝতে কথা বলার সক্রিয়তা ও ধরন বিশ্লেষণ করে।
অ্যাটলাস ১.০ এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। তাই এটি ব্যবহারকারীর মনোযোগ বা কর্মদক্ষতা বাড়াতে কতটা কার্যকর হবে, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
তবে ডিভাইসটির প্রথম সংস্করণের জন্য প্রি-অর্ডার নেওয়া শুরু করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এর দাম ৫০০ ডলার। পাশাপাশি সেন্সর ও আঠালো প্যাড সচল রাখতে প্রতি মাসে গুনতে হবে আরও ৩০ ডলারের সাবস্ক্রিপশন ফি।