প্রযুক্তির উৎকর্ষতার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বিশ্বব্যাপী অনলাইনে প্রতারণা বাড়ছে। অনলাইনে প্রতারণার অন্যতম বড় লক্ষ্যবস্তু শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থী, শিক্ষাবিদ এবং প্রশাসকদের লক্ষ্য করে পরিশীলিত ফিশিংয়ের মাধ্যমে প্রতারক চক্র তাদের প্রতারণামূলক কার্যক্রম চালাচ্ছে।
যেভাবে শিক্ষার্থীদের ফাঁদে ফেলছে প্রতারক চক্র
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ল্যাপটপ জেতার সুযোগ এনে দেওয়া ভুয়া ক্যাম্পেইনের মাধ্যমেই প্রধানত শিক্ষার্থীদের প্রতারণার ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করে প্রতারকরা। এই ভুয়া ক্যাম্পেইনে অংশ নিতে ভুক্তভোগীদের নিজেদের ব্যক্তিগত তথ্য এবং পছন্দের ল্যাপটপ মডেলের কথা উল্লেখ করতে হয়।
হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমেও এ ধরনের প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়। ক্যাম্পেইনে অংশগ্রহণের শর্ত হিসেবে হোয়াটসঅ্যাপে ১৫ জন ব্যক্তির কাছে পেজের একটি নির্দিষ্ট লিংক শেয়ার করতে হয়। পরবর্তীতে এসএমএসের মাধ্যমে নিবন্ধন করে ড্রয়ে তাদের অংশ নিতে হয়।
অনলাইনে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডের আরেকটি বড় মাধ্যম হলো ভুয়া বৃত্তির প্রচারণা। আর্থিক সাহায্যের ব্যাপারটিকে নজরে রেখে প্রতারকরা শিক্ষার্থীদের প্রলুব্ধ করে। ভুক্তভোগীরা আপাতদৃষ্টিতে প্রকৃত আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতিতে প্রলুব্ধ হয়ে এসব বৃত্তির ক্যাম্পেইন নিয়ে আগ্রহী হয়।
এসব বৃত্তির ক্যাম্পেইনে শিক্ষার্থীদের অসংখ্য ব্যক্তিগত তথ্য দিতে বলা হয়। এসব তথ্যের মধ্যে সামাজিক নিরাপত্তা নম্বর (যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের আর্থিক বিষয়াদি দেখার জন্য প্রয়োজনীয় নম্বর) এবং ব্যাংক বিবরণীর মতো সংবেদনশীল তথ্য রয়েছে। পরবর্তীতে এসব তথ্য ব্যবহার করে ভুয়া পরিচয়ে আর্থিক জালিয়াতির মতো প্রতারণামূলক কাজ হয়।
অনলাইনে প্রতারণার হাত থেকে বাঁচার উপায়
অনলাইনে প্রতারণার অন্যতম মূল ভিত্তি হলো ল্যাপটপ কিংবা যেকোনো মূল্যবান জিনিস জেতার টোপ। এসব পুরস্কার জেতার একটা বড় পূর্বশর্ত হলো পুরস্কারের ডেলিভারি চার্জ বহন করা। পুরস্কারের জন্য অতিরিক্ত প্রদানের ব্যাপারটিকেই প্রতারণামূলক কর্মাকণ্ডের লক্ষণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
অনলাইনে এসব প্রতারণার হাত থেকে নিরাপদে থাকার জন্য শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ক্যাসপারস্কি বিশেষজ্ঞরা কিছু পরামর্শ দিয়েছেন-
ব্যক্তিগত তথ্যের ব্যাপারে সচেতনতা: ভুয়া ক্যাম্পেইনে অংশ নেওয়ার সময় অর্থগত কারণে ভুক্তভোগীদের সরবরাহ করা ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করেই প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয়। তাই যেকোনো জায়গায় ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়ার আগে শতভাগ নিশ্চিত হোন।
উৎস যাচাই: আপনার কাছে আসা যেকোনো স্কলারশিপ, উপহার বা অফার সংক্রান্ত ক্যাম্পেইনে অংশগ্রহণের আগে সেগুলো সম্পর্কে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করুন। অফিসিয়ালি যোগাযোগের বিস্তারিত বিবরণ দেখুন এবং কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার আগে ক্যাম্পেইনের বৈধতা নিয়ে নিশ্চিত হোন।
বিশ্বস্ত সূত্র ব্যবহার: অর্থ প্রদান বা ব্যক্তিগত তথ্য প্রদানের সময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট, স্বীকৃত স্কলারশিপ প্ল্যাটফর্ম এবং সুপরিচিত মাধ্যম ব্যবহার করুন।
মাল্টি-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন (এমএফএ) ব্যবহার: অনলাইনে ব্যক্তিগত যেকোনো তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন। অনলাইন প্ল্যাটফর্মের যেকোনো অ্যাকাউন্টে নিরাপত্তার একটি অতিরিক্ত স্তর যোগ করুন। এক্ষেত্রে একটি নির্ভরযোগ্য পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ব্যবহার করতে পারেন। এটি শুধু আপনার পাসওয়ার্ডই সংরক্ষণ করবে না; বরং মাল্টি-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশনের সময় স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওটিপি তৈরি করে।