বিদ্বেষমূলক প্রচার বাড়ায় ‘এক্স’ ছাড়ল বর্ণবাদবিরোধী সংস্থা

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম “এক্স” (টুইটার) থেকে বেরিয়ে এলো জার্মানির বর্ণবিদ্বেষবিরোধী সরকারি সংগঠন। সংস্থাটি জানিয়েছে, “এক্স” ইলন মাস্কের নিয়ন্ত্রণে আসার পর থেকে বেড়ে গেছে “হেট স্পিচ” বা ঘৃণা ছড়ানো মন্তব্য।

জার্মান বর্ণবিদ্বেষবিরোধী সংস্থা ফেডারেল অ্যান্টি-ডিসক্রিমিনেশন এজেন্সি বা এফএডিএ বুধবার (১১ অক্টোবর) জানিয়েছে, এক্স-এ সাম্প্রতিক সময়ে হেট স্পিচ “ব্যাপকভাবে” বেড়েছে। বিশেষ করে টেসলার প্রধান ইলন মাস্ক সাবেক টুইটার বা এক্সের মালিকানা পাওয়ার পর থেকে ঘৃণা ছড়ায় এমন মন্তব্য লক্ষণীয়ভাবে বেড়েছে।

বুধবার এক বিবৃতির মাধ্যমে এফএডিএ জানিয়েছে, লিঙ্গ রূপান্তরকামী ও সমকামীদের বিরুদ্ধে এক্সে বিদ্বেষমূলক প্রচার দেখা গেছে। এছাড়াও এই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বর্ণবাদী, ইহুদিবিদ্বেষী ও অন্যান্য সমাজবিরোধী আচরণ।

তাদের মতে, “এক্স আর আগের মতো নিরাপদ পরিবেশ দিচ্ছে না।”

অ্যাজেন্সির কমিশনার ফেরদা আটামান বলেন, “অন্যান্য দেশের সরকার ও সরকারি সংস্থাদের ভেবে দেখা উচিত। তারা এমন একটা প্ল্যাটফর্মে থাকতে চান কি-না, যা ‘গুজব ছড়াবার ময়দানে’ পরিণত হয়েছে।”

প্ল্যাটফর্মটিকে নিরাপদ করতে এই খাতে আরও বিনিয়োগ দরকার বলে জানান আটামান। কিন্তু সেটা জনতার করের কতটা সঠিক ব্যবহার হবে, সে বিষয়ে সন্দিহান তিনি।

শনিবার হামাসের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি সেনার আক্রমণের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভরে ওঠে ভুয়া খবর, গুজব ও নকল ছবিতে।

তবে জার্মান রাজনীতিবিদরা এখনই এক্স ছেড়ে বেরিয়ে আসার পক্ষে নন। তাদের মতে, এই প্ল্যাটফর্ম মানুষের কাছে যত দ্রুত নিয়ে যেতে পারে, তার বিকল্প এখনও তৈরি হয়নি।

জার্মান সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় যেমন অর্থ, স্বরাষ্ট্র বা পররাষ্ট্র তাদের এক্স বা টুইটার হ্যান্ডেল চালু রেখেছে। খোদ জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎজ বা জার্মান সরকারেরও রয়েছে আলাদা এক্স হ্যান্ডেল।

মঙ্গলবার ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন জানিয়েছে, সহিংসতাকে আশকারা দেয় এমন কন্টেন্টের পাশাপাশি ভুয়া খবর নিয়ে ইলন মাস্ককে সতর্ক করেছে তারা।

ইইউ’র ইন্টারনাল মার্কেট চিফ থিয়েরি ব্রেটন এক্সকে একটি চিঠিতে “সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের” সঙ্গে যোগাযোগ করে ২৪ ঘন্টার মধ্যে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেন।

এক্স জানিয়েছে, এসব বিষয়ে তারা ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করেছে ও পদক্ষেপ নিয়েছে।