কোনো একটি লেখা মানুষ লিখেছে, নাকি সেটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে লেখা তা শনাক্ত করতে “শার্লক” নামে একটি এআই টেক্সট ডিটেক্টর চালু হয়েছে। টুলটি বেশ নির্ভুলভাবে কাজ করতে সক্ষম। তবে এআইয়ের বিস্তৃতির সঙ্গে সঙ্গে সেটির কর্মক্ষমতাও বাড়াতে হবে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
“শার্লক” টেক্সট ডিটেক্টরটির ডেভেলপারের নাম টম টলক। জার্মান নাগরিক টলকের এই এআই টুলটি দিয়ে আপাতত শুধু জার্মান ভাষার কোনো লেখা এআই দিয়ে লেখা হয়েছে কিনা, তা শনাক্ত করা যাচ্ছে। পরবর্তী সময়ে এটি অন্যান্য ভাষার ক্ষেত্রে কার্যকরী করার চেষ্টা চলছে।
টম টলক ডয়চে ভেলেকে বলেন, “চ্যাটজিপিটি এবং অন্যান্য বড় ভাষা মডেলগুলো সবচেয়ে সম্ভাব্য শব্দ নিয়ে সবসময় কাজ করে। তারা সম্ভাব্যতা নিয়ে কাজ করে। এই সম্ভাব্যতার বিতরণ শনাক্ত করা যায় - এটা তাদের লেখাগুলোর ধরনের মতো। আমার মডেল এই ধরন এবং মানুষের লেখার মধ্যে পার্থক্য করে। এক্ষেত্রে যে বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয় তা হচ্ছে- মানুষ ধারণা করা যায় না এমন শব্দও লেখে। আমরা একটু বেশি সৃজনশীল।”
টলক তার মাস্টার্স থিসিসের অংশ হিসেবে টুলটি তৈরি করেছেন। এটি দুই সেকেন্ডেরও কম সময়ের মধ্যে মানুষের লেখা শনাক্ত করতে পারে।
বর্তমান টুলটিকে প্রশিক্ষণে পাঁচ লাখ মানুষের তৈরি এবং এআইয়ের তৈরি লেখা ব্যবহার করা হয়েছে। লেখা যাচাইয়েরক্ষেত্রে এটি নব্বই শতাংশেরও বেশি নিঁখুত। এটি প্রবন্ধ, অনলাইন পোস্ট বা টুইট সবকিছুই যাচাই করতে পারে। তবে এটি ভুল তথ্য শনাক্ত করতে পারে না। শুধু সেগুলো মানুষের লেখা নাকি যন্ত্রের তা জানাতে পারে।
টম টলক বলেন, “সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হচ্ছে ভুল তথ্য এবং অপতথ্য। মানুষ এই মডেলগুলো ব্যবহার করে। কখনো হয়ত চ্যাটজিপিটি কোনো ভুল করে এবং সেটা ছড়াতে থাকে। আবার কখনো মন্দ লোকেরা অপতথ্য ছড়ায়। তারা বট ব্যবহার করে সোশ্যাল মিডিয়া এবং কমেন্টে সেকশনে সেগুলো ছড়িয়ে দয়। একজন পাঠক তখন হয়ত ভাবে- আমি এটা কয়েকশত বার দেখেছি,এটা নিশ্চয়ই সত্যি।”
তিনি জানান, শার্লক তৈরিতে দুই বছরের বেশি সময় লেগেছে এবং এটি ক্রমশ বিকশিত হচ্ছে। টুলটিকে প্রশিক্ষণে চ্যাটজিপিটি সৃষ্টির আগের প্রকাশিত মানুষের লেখা ব্যবহার করা হয়েছে। উইকিপিডিয়াসহ বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যম থেকে সেগুলো সংগ্রহ করা হয়েছে। এটিকে আরও সমৃদ্ধ করার কাজ চলছে।
টম টলক বলেন, “আমি চাইবো সব এআইয়ের তৈরি লেখায় উল্লেখ থাক যে এগুলো এআইয়ের তৈরি। তখন আমি যদি ইন্সটাগ্রাম বা টুইটারে যাই তাহলে বুঝবো কোনটা এআইয়ের তৈরি এবং সেটা কতটা নির্ভরযোগ্য হতে পারে।”
বর্তমানে চ্যাটজিপিটি এবং অন্যান্য এআই টেক্সট টুল শুধু লেখা তৈরির চেয়েও বেশি কিছু করে। কিন্তু সেগুলোর প্রোগ্রাম কোড, উপস্থাপনা, গণ ইমেল এবং একই ধরনের অনলাইন পোস্ট শনাক্ত করা যায়। কিন্তু এভাবে এআইয়ের তৈরি লেখা বাড়তে থাকলে তখন তা চিহ্নিত করা কঠিন হয়ে পড়বে।
বিষয়টি জার্মানির মিনিস্ট্রি অব ট্রান্সপোর্ট এন্ড ডিজিটাল ইনফ্রাস্টাকচারের অধ্যাপক হান্স ফেদেরাথ ডয়চে ভেলেকে বলেন, “যেহেতু এই এআই প্রযুক্তি আরও সহজলভ্য হচ্ছে, এগুলো আরও কনটেন্ট তৈরি করবে। তবে কিছু সেবাদাতা রয়েছে যারা বিশেষভাবে এধরনের এআই ব্যবহার করে কৌশলে মতামত পরিবর্তন করছে এবং বিভ্রান্ত ছড়াচ্ছে।”
তার মতে, টম টলকের শার্লক বেশ শক্তিশালী একটি টুল। তবে কার্যকারিতা ধরে রাখতে এআই প্রযুক্তির বিস্তৃতির সঙ্গে সঙ্গে এটি হালনাগাদও করতে হবে।