রাজশাহী নগরীর কাদিরগঞ্জে কোচিং সেন্টার ঘিরে যৌথ বাহিনীর অভিযানে ৩ জনকে আটক করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে অস্ত্র ও বোমা তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম।
শনিবার (১৬ আগস্ট) সকালে অভিযানটি শুরু হয়। এসময় তিনজনকে আটক করা হয়।
তারা হলেন- মুনতাসির আলম অনিন্দ্য, মো. রবিন ও মো. ফয়সাল।
জানা গেছে, কোচিং সেন্টারটির নাম ‘‘ডক্টর ইংলিশ”। মুনতাসির আলম এই কোচিং সেন্টার পরিচালনা করেন। মুনতাসির মহানগর বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি শফিউল আলম লাটকুর ছেলে। এটি রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগের সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনের পৈত্রিক বাড়ি। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী অনিন্দ্য সাবেক মেয়রের আপন চাচাতো ভাই।
পুলিশ জানিয়েছে, অনিন্দ্য হলি আর্টিজান হত্যাকাণ্ডের পর জঙ্গি সন্দেহে এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক এ এফ এম রেজাউল করিম সিদ্দিকী হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। পরে ওই মামলা থেকে তিনি অব্যাহতি পান।
এ ঘটনায় সেনাবাহিনীর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, অভিযানে ৩টি আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি, সামরিক মানের দূরবীন ও স্নাইপার স্কোপ, ৬টি দেশীয় অস্ত্র, ৭টি বিদেশি ধারালো ডেগার, ৫টি উন্নতমানের ওয়াকিটকি সেট, একটি সামরিক মানের জিপিএস, একটি টিজার গান, বিভিন্ন দেশি ও বিদেশি কার্টিজ, বিপুলসংখ্যক অব্যবহৃত সিম কার্ড, বিস্ফোরক বোমা তৈরির সরঞ্জামাদি, ৬টি কম্পিউটার সেট, ৭,৪৪৫ টাকা, বিভিন্ন দেশি-বিদেশি মদ এবং ১১টি নাইট্রোজেন কার্টিজ।
এগুলো তাজা অবস্থায় থাকায় পরে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট তা নিষ্ক্রিয় করে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, আটক মুনতাসির আলম রাজশাহীর সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা খায়রুজ্জামান লিটনের ভাতিজা। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ইতোমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে এবং অভিযানের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।



