ঢাকা-বাইপাস এক্সপ্রেসওয়ের উদ্বোধনের নামফলকে নিজের নাম দেখে ক্ষুব্ধ হয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, ‘‘এটা কি আমার বাপের টাকায় করছে? তাহলে কেন আমার নাম থাকবে? এটা ইমিডিয়েটলি চেঞ্জ করো। আমার নাম কেন থাকবে? যারা করেছে, মন্ত্রণালয়ের বা অন্যান্যদের নাম থাকতে পারে।’’
রবিবার (২৪ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে নামফলক উন্মোচন না করেই গাজীপুর মহানগরীর ভোগড়া এলাকায় টোল প্লাজার পাশে ফিতা কেটে ঢাকা-বাইপাস এক্সপ্রেসওয়ের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তিনি।
এরই মধ্য দিয়ে ঢাকা-বাইপাস এক্সপ্রেসওয়ের প্রথম ধাপের ১৮ কিলোমিটার অংশ খুলে দেওয়া হলো। উদ্বোধনের আগে গত বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) দুপুর ১২টা থেকে এই অংশ পরীক্ষামূলকভাবে তিন দিন টোল ফ্রি চালু করা হয়।
উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, ‘‘আশপাশের দেশের তুলনায় আমাদের রাস্তা নির্মাণের ব্যয় অনেক বেশি, এগুলো কমাতে হবে। আপনারা জানেন যে রাস্তাঘাট দুর্নীতির একটা বড় ক্ষেত্র। এই দুর্নীতি কমালে এবং আমাদের প্রকৌশলীরা যদি দেখেন তাহলে এটাকে ২০ থেকে ৩০% রাস্তা নির্মাণের ব্যয় কমানো সম্ভব। সড়কের ওপর আমাদের নির্ভরতা কমাতে হবে। অন্যান্য যেসব যাতায়াতের মাধ্যম রয়েছে, তার মধ্যে রেলপথ, নদীপথ ও বিমানের (আকাশপথ) ব্যবহার বাড়াতে হবে।’’
উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘‘আর কতকাল বাইরে থেকে লোক এসে আমাদের সড়ক বানিয়ে দিয়ে যাবে? আর কতকাল বাইরে থেকে লোক এসে আমাদের সেতু বানিয়ে দিয়ে যাবে? রেলপথ বানিয়ে দিয়ে যাবে? রেলের জন্য একটি ফিজিবিলিটি স্টাডি করবে টঙ্গী থেকে জয়দেবপুর ওই রাস্তাতে। আমি বললাম, এটার দরকার নেই। ওখানে একটা রেলের জন্য অলরেডি রাস্তা আছে। সেখানে এত হাজার হাজার কিলোমিটার রেলপথ হলো, আর এখন তোমরা এটার ফিজিবিলিটি স্টাডি করতে পারবা না? মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে যাবে। তাহলে আমাদের এত প্রকৌশলী থেকে লাভ কী? এই জন্যই প্রকৌশলীদের দায়িত্ব পালন করতে হবে। প্রকৌশলীরা এ কারণেই বেকার। বুয়েট থেকে পাস করে একটা ছেলে যখন একটা মেধাবী ছাত্র বেকার হয়, তখন এটা জাতির জন্য লজ্জার। এজন্য ইঞ্জিনিয়ারদেরক বলবো, নিজেরাই একটি রাস্তা করে দেখান; নিজেরা একটা পাওয়ার প্লান্ট করে দেখান; নিজেরা একটা ট্রান্সমিশন লাইন করে দেখান। এটাই আমাদের উত্তরণের পথ। আমাদেরকে বিদেশ নির্ভরশীলতা থেকে মুক্ত হয়ে আসতে হবে।”
প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, ৪৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এই এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০২২ সালের মে মাসে। ভোগড়া বাইপাস থেকে মদনপুর পর্যন্ত বিস্তৃত এই প্রকল্পের ৮০% কাজ ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী, পুরো এক্সপ্রেসওয়ে হস্তান্তরের সময়সীমা ২০২৬ সালের জুন।



