Sunday, June 28, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

চিকিৎসা বাবদ ৮২ লাখ টাকা ব্যয়ের ব্যাখ্যা দিলেন সাবেক উপদেষ্টা

নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই ব্যাখ্যা প্রদান করেন

আপডেট : ২৮ জুন ২০২৬, ০৩:১২ পিএম

অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক ধর্মবিষয়ক উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেনের দায়িত্ব পালনকালে সরকারি কোষাগার থেকে চিকিৎসা বাবদ ৮২ লাখ টাকা ব্যয়ের একটি অভিযোগ নিয়ে কয়েকটি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন তিনি। সাবেক এই উপদেষ্টা দাবি করেছেন, প্রচলিত আইন ও সুনির্দিষ্ট নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়া মেনেই সম্পূর্ণ বৈধভাবে তার এই চিকিৎসা ব্যয় সরকারি তহবিল থেকে মেটানো হয়েছে।

রবিবার (২৮ জুন) সকাল ১১টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই ব্যাখ্যা প্রদান করেন এবং গণমাধ্যমের 'মিডিয়া ফ্রেমিং'-এর তীব্র নিন্দা জানান।

পোস্টে সাবেক উপদেষ্টা খালিদ হোসেন জানান, বাংলাদেশে মন্ত্রীদের চিকিৎসা ব্যয়ের বিষয়টি ‘দ্য মিনিস্টার্স, মিনিস্টার্স অব স্টেট অ্যান্ড ডেপুটি মিনিস্টার্স (রেমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজ) অ্যাক্ট, ১৯৭৩’ অনুযায়ী পরিচালিত হয়। এই আইনের আওতায় মন্ত্রিসভার সদস্যরা দেশ বা বিদেশে চিকিৎসার সম্পূর্ণ খরচ সরকারি কোষাগার থেকে পাওয়ার অধিকারী।

নিজের শারীরিক অবস্থা ও বিদেশে চিকিৎসার পটভূমি তুলে ধরে তিনি জানান, তিনি দীর্ঘদিন যাবত জটিল হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসে ভুগছেন। উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হলে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে একটি বিশেষজ্ঞ মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। বোর্ড লিখিতভাবে জানায় যে তার ‘ক্যাথেটার এবলেশন’ নামক একটি জটিল অপারেশন প্রয়োজন, যার অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি দেশে নেই। ফলশ্রুতিতে মেডিকেল বোর্ডের সুপারিশ এবং সরকারপ্রধানের চূড়ান্ত অনুমোদন নিয়ে তিনি থাইল্যান্ডের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য যান।

ব্যয়ের বিবরণী দিয়ে সাবেক ধর্ম উপদেষ্টা জানান, প্রথম দফায় রোগ নির্ণয় ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা বাবদ প্রায় ১৭ লাখ টাকা ব্যয় হয়। এরপর গত জানুয়ারি মাসে তার মূল অপারেশন সম্পন্ন হয় এবং সেখানে হাসপাতাল বিল আসে প্রায় ৬৫ লাখ টাকা। থাইল্যান্ডের বাংলাদেশ দূতাবাসের অনুরোধে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কিছু ডিসকাউন্ট দেওয়ার পর এই বিল চূড়ান্ত হয়। দুই দফায় মোট ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৮২ লাখ টাকা।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সরকার নিয়মানুযায়ী শুধুমাত্র তার হাসপাতালের বিল, অপারেশন বিল ও মেডিসিনের ব্যয় বহন করেছে। এর বাইরে তার পরিচর্যার জন্য সঙ্গে যাওয়া সহযাত্রীর সমস্ত খরচ, থাইল্যান্ডে হোটেলে বসবাসের বিল, খাওয়া ও যাতায়াত খরচ তিনি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত তহবিল থেকে বহন করেছেন। সরকারি অর্থ ব্যয়ের প্রতিটি পয়সার প্রকৃত বিল, ভাউচার ও রসিদ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জমা দেওয়া হয়েছে এবং এর কপি তাঁর কাছেও সংরক্ষিত আছে।

সরকারি কোনো অর্থ আত্মসাৎ বা তছরুপের অভিযোগ অস্বীকার করে আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, তিনি উপদেষ্টা হিসেবে সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। বৈধ ও নিয়মতান্ত্রিক একটি বিষয়কে গণমাধ্যমগুলো এমনভাবে ফ্রেমিং করেছে যা জনমনে বিভ্রান্তি ও সন্দেহ তৈরি করেছে।

   

About

Popular Links

x