ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির বিজয় ও সরকার গঠন নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমিরের করা মন্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি অভিযোগ করেছেন, জামায়াতে ইসলামী কখনোই সুস্থ চিন্তা করে না এবং তারা ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের অর্জনকে নস্যাৎ করে দেশে পুনরায় ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েমের পাঁয়তারা করছে।
শনিবার (২৫ এপ্রিল ) দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক যৌথ সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের একটি বক্তব্যের সূত্র ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, “আমি আজকে এক পত্রিকায় একটি সংবাদ দেখলাম। যে সংবাদটি আমাকে অত্যন্ত আহত করেছে। যে জামায়াতে ইসলামের আমির তিনি বলছেন যে, বিএনপি ইঞ্জিনিয়ারিং করে ক্ষমতায় এসেছে। আমি এটা তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি, প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং তিনি বা তার দল যে কখনোই সুস্থভাবে চিন্তা করেন না তা প্রমাণিত হয়েছে।”
নির্বাচনের স্বচ্ছতা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, “সমগ্র পৃথিবীর দেশগুলো থেকে যারা অবজারভার এসেছিল, বাংলাদেশের সমস্ত প্রতিষ্ঠানগুলো, পত্রপত্রিকা মিডিয়া এক বাক্যে স্বীকার করেছে যে এই নির্বাচনটি ছিল এই কালের অর্থাৎ বাংলাদেশের জন্মের পর থেকে সবচাইতে নিরপেক্ষ, অবাধ এবং সুষ্ঠু নির্বাচন এবং সেই সুষ্ঠু বিচারের মধ্য দিয়েই বিএনপি তার জনপ্রিয়তার মধ্য দিয়ে ২১৩টি আসন লাভ করে সে সরকার গঠন করার সুযোগ পেয়েছে। সুতরাং জামায়াতে ইসলামের আমিরের এই বক্তব্য আমি আবার আমরা প্রত্যাখ্যান করছি শুধু নয়, নিন্দা জানাচ্ছি এবং ক্ষোভ প্রকাশ করছি।”
মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেন যে, জামায়াতে ইসলামী রাজনৈতিক অঙ্গনে ধূম্রজাল ও বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, “বিএনপির বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের উপরে বিভিন্নভাবে প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে ওই শক্তিটির পক্ষ থেকেই একটা ধূম্রজাল সৃষ্টি করা, আবার একটা বিভেদ সৃষ্টি করা। আমরা ৫ অগাস্টের পরে যে সুযোগ পেয়েছি বাংলাদেশে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার, সেই প্রচেষ্টাকে নষ্ট করে দেওয়া, সুযোগকে নষ্ট করা এবং আবার একটা ফ্যাসিস্ট শাসনের পাঁয়তারা তারা করছে কি না সেটা আমাদেরকে চিন্তা করতে হবে, দেশবাসীকে চিন্তা করতে হবে। ভিন্নভাবে দেশকে আবার স্বৈরাচারের মধ্যে তারা নিতে চায় কিনা সেটাও আমাদেরকে চিন্তা করতে হবে।”
জামায়াতের অতীত ইতিহাসের সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “তাদের যে অতীত সে ইতিহাস আমরা সবাই খুব ভালো করে জানি। সেই কারণেই সমগ্র জাতি অত্যন্ত সচেতনভাবে তাদেরকে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং আগামীতে যেন পুরোপুরি তাদেরকে নির্মূল করা যায় রাজনৈতিকভাবে সেভাবে আমাদেরকে কাজ করতে হবে।”



