Monday, July 06, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

বিয়ের জন্য চাপ দেওয়ায় মা-মেয়েকে হত্যা, যুবক আটক

১১ দিন নিখোঁজের পর মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় ওই নারী ও তার সন্তানের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ 

আপডেট : ১৮ মে ২০২৬, ১২:৪৯ পিএম

পরকীয়া প্রেমিককে বিয়ের জন্য চাপ দেওয়ায় শ্বাসরোধ করে এক নারী (৩০) এবং তার মেয়েকে (৩) হত্যার ঘটনা ঘটেছে।    

মরদেহ গুম করতে ঘটনাস্থলেই মাটি চাপা দেওয়া হয় মা-মেয়েকে। এ ঘটনায় মো. উজ্জ্বল খান নামের এক যুবককে আটক করে পুলিশ। 

রবিবার (১৭ মে) দুপুরে কোতয়ালী থানায় এক সংবাদ সম্মেলনে ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফাতেমা ইসলাম হত্যার রহস্য উদঘাটন ও উজ্জ্বল খানকে আটকের তথ্য নিশ্চিত করেন।  

আটক উজ্জ্বল খান (৩৮) রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার মঙ্গলপুর ইউনিয়নের বকারটিলা খাসেরকোল গ্রামের মৃত শাহজাহান খান এর ছেলে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) ফাতেমা ইসলাম জানান, মা ও মেয়ের মরদেহ উদ্ধারের পর নিহত জাহানারার বাবা মো. লালন মোল্লা বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।  

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ পরিদর্শক আবুল বাসার মোল্লা প্রাথমিক তদন্ত ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে ১৬ মে রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ থেকে উজ্জ্বলকে আটক করে। হত্যার পর মাটিচাপা দিতে ব্যবহৃত কোদালটি জব্দ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে উজ্জ্বল হত্যার ঘটনা বর্ণনা করেছে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও জানান, রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার কর্ণসোনা গ্রামের আমজাদ শেখ এর স্ত্রী জাহানারা বেগম ও হত্যাকারী উজ্জ্বল রাজধানীর আমিন বাজারে একটি ইট ভাটায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। সে সময় তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক হয়। প্রায় তিন বছর ধরে চলা প্রেমের এক পর্যায়ে বিয়ের জন্য চাপ দেয় জাহানারা।

গত ৪ মে জাহানারাকে মোবাইল ফোনে জামতলা বাজারে আসতে বলে উজ্জ্বল। বিকেলে আত্মীয়ের বাড়িতে মিলাদ মাহফিল শেষে জাহানারা তার শিশু কন্যা সামিয়াকে নিয়ে জামতলা বাজারে আসে। পরে উজ্জ্বল তাদেরকে ফরিদপুর সদর উপজেলার এক নির্জন পুকুর পাড়ে নিয়ে যায়। সেখানে প্রেম ও বিয়ে সংক্রান্ত বিষয়ে দুজনের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। রাত সাড়ে ১১ টার দিকে উজ্জ্বল উত্তেজিত হয়ে জাহানারার বুকে সজোরে ঘুষি মারলে অজ্ঞান হয়ে মাটিয়ে লুটিয়ে পড়ে জাহানারা। পরে গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে মৃত্যু নিশ্চিত করে উজ্জ্বল।  

এ সময় শিশু সামিয়া কান্না শুরু করলে তাকেও শ্বাসরোধ করে হত্যা করে সে। পরে ঘটনাস্থলের পাশেই নিজ বাড়ি থেকে উজ্জ্বল কোদাল এনে পুকুর পাড়ে মাটি খুঁড়ে মা ও মেয়ের মরদেহ পুঁতে কলাগাছ দিয়ে ঢেকে রাখে। গভীর রাত পর্যন্ত উজ্জ্বল একাই এই কাজ করেছে বলে পুলিশকে জানায়।   

নিহত জাহানারা মানিকগঞ্জ জেলার শিবালয় উপজেলার তেঁওতা ইউনিয়নের নারান তেঁওতা গ্রামের মো. লালন মোল্লার মেয়ে ও রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার কর্ণসোনা গ্রামের আমজাদ শেখ এর স্ত্রী। হত্যার শিকার শিশু সামিয়া, আমজাদ-জাহানারা দম্পতির একমাত্র মেয়ে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত নিহত জাহানার বাবা লালন মোল্লা তার মেয়ে ও নাতী হত্যার সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির দাবি করেছেন।

প্রসঙ্গত, গত ১৪ মে বিকেলে ১১ দিন নিখোঁজ থাকার পর ফরিদপুর সদর উপজেলার চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের কালিতলা এলাকার পুকুর পাড় থেকে মাটিচাপা অবস্থায় জাহানারা ও তার শিশু কন্যা সামিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। 

এ ঘটনায় ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় ৩০২/২০১/৩৪ (পেনাল কোড) ধারায় মামলা (মামলা নং-৫৮, জি আর-৩৮৭) হয়েছে।

   

About

Popular Links

x