Wednesday, June 10, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

পানি স্বল্পতায় কাপ্তাই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৩ ইউনিট বন্ধ

ভারী বৃষ্টিপাত না হলে কেন্দ্রটির অবশিষ্ট দুই ইউনিট থেকেও বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে যেতে পারে

আপডেট : ১০ জুন ২০২৬, ০৫:০৫ পিএম

রাঙ্গামাটির কাপ্তাই হ্রদের পানি স্বল্পতায় কাপ্তাইয়ে অবস্থিত কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে (কপাবিকে) পাঁচটি ইউনিটের মধ্যে তিনটি ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।

বুধবার (১০ জুন) কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

বাকি দুই ইউনিট থেকে বর্তমানে মাত্র ৫৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। অথচ এই কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিট থেকে সর্বোচ্চ ২৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব।  

কাপ্তাই হ্রদে পানির স্তর আরও কমে গেলে বিদ্যুৎ উৎপাদন পরিস্থিতি সংকটাপন্ন হয়ে উঠতে পারে। ভারী বৃষ্টিপাত না হলে যেকোনো সময় কেন্দ্রটির অবশিষ্ট দুই ইউনিট থেকেও বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে জানান ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান।

স্থানীয়রা জানান, কাপ্তাই হ্রদে পানির স্তর কমে যাওয়ায় শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনই নয়, হ্রদনির্ভর মানুষের দুর্ভোগও বাড়ছে। বিশেষ করে বিলাইছড়ি, বরকল, জুরাছড়ি, লংগদু ও বাঘাইছড়ি উপজেলার নৌপথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। হ্রদের বিভিন্ন স্থানে চর জেগে ওঠায় নৌযান চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং স্থানীয়দের চলাচলে ভোগান্তি বাড়ছে। পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যেও মারাত্মক প্রভাব পড়ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গেছে, ৬৮ এমএসএলকে বিপজ্জনক সীমা হিসেবে ধরা হয়। পানির স্তর ৬৮ এমএসএলে নেমে গেলে বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। কাপ্তাই হ্রদের সর্বোচ্চ পানি ধারণক্ষমতা ১০৯ এমএসএল। এই কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিট হতে সর্বোচ্চ ২৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। 

কপাবিকের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান জানান, শুষ্ক মৌসুমে কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর দিন দিন কমছে। চলতি সপ্তাহে মাঝে মাঝে বৃষ্টিপাত হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। যেখানে কাপ্তাই হ্রদের রুল কার্ভ অনুযায়ী, পানির লেভেল ৭৮.৩৪ ফুট মিন সি লেভেল থাকার কথা সেখানে বুধবার (১০ জুন) সকাল ৯টা পর্যন্ত কাপ্তাই হ্রদের পানির লেভেল ছিল ৭৩.৯১ ফুট মিন সি লেভেল। অর্থাৎ এখনও পানির লেভেল ৪.৪৩ ফুট মিন সি লেভেল কম আছে।  

কাপ্তাই কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের কন্ট্রোল রুমে দায়িত্বরত প্রকৌশলীরা জানান, আজ সকাল ৯টা পর্যন্ত শুধুমাত্র দুইটি ইউনিট হতে ৫৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। তার মধ্যে দুই নম্বর ইউনিট হতে ৩০ মেগাওয়াট এবং তিন নম্বর ইউনিট হতে ২৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে।

দ্রুত মুষলধারে বৃষ্টিপাত না হলে বাকি ইউনিটগুলো চালু করা সম্ভব হবে না বলে জানান বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা।

   

About

Popular Links

x