রংপুরে আলুর কোল্ড ষ্টোরেজের ভাড়া অস্বাভাবিক বৃদ্ধির প্রতিবাদে রাস্তায় আলু ফেলে দিয়ে রংপুর ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে রংপুরের আলু চাষিরা।
বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে রংপুর নগরীর মর্ডান মোড় এলাকায় রংপুর ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে এ কর্মসূচি পালন করে আলু চাষিরা। দাবি মানা না হলে লাগাতার অবরোধ সহ কঠোর কর্মসূচি দেবার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
দুপুরে ঢাকা রংপুর-মহাসড়ক অবরোধ করে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এ সময় বিক্ষুব্ধ আলু চাষিরা মহাসড়কে আলু ফেলে দিয়ে বিক্ষোভ করেন। প্রায় দেড় ঘন্টাব্যাপি মহাসড়ক অবরোধ করা হলে শত শত যান বাহন আটকা পড়ে যায়।
সমাবেশে বক্তব্য দেন রংপুর জেলা আলু চাষি সমিতির সভাপতি তৈয়বুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ বণিক, সহ-সভাপতি আব্দুন নূর, জেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক আনোয়ার সাদাত, সদস্য সচিব আদিল মেরাজুল দুলুসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, আলুর রাজধানী বলে খ্যাত রংপুরে এ বছর আলু চাষিরা অসময়ে বৃষ্টির কারণে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। অপরদিকে বাজারে আলুর ন্যায্য দাম থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। এরই মধ্যে রংপুরের কোল্ড স্টোরেজের মালিকেরা একতরফা সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রতি বস্তা আলুর ভাড়া ২৬০ থেকে ২৮০ টাকার স্থলে সাড়ে ৪০০ টাকা নির্ধারণ করেছে। এর ফলে আলু চাষিরা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।”
সমাবেশে রংপুর জেলা আলু চাষী ও ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি তৈয়বুর রহমান অভিযোগ করেন, “হিমাগার অ্যাসোসিয়েশন এসি রুমে বসে প্রতি ৬০ কেজি বস্তা আলুর জন্য সংরক্ষণ মূল্য ৪৩০ টাকা করেছে। এতে প্রতি কেজি আলুর সংরক্ষণ মূল্য পড়ছে প্রায় ৭ টাকা। ফলে এক কেজি আলুর উৎপাদন খরচ দাড়াচ্ছে ২৪ টাকার উপরে। কিন্তু বাজারে পাওয়া যাচ্ছে ১৬-১৭ টাকা।”
তিনি আরও বলেন, “আলুর বস্তা প্রতি সর্বোচ্চ ২৮০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে হিমাগার সংরক্ষণের ভাড়া নির্ধারণ করতে হবে। এই দাবিতে কাল বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসকের সাথে আলাপ আলোচনা করার পর সমাধান না হলে লাগাতার অবরোধ সহ কঠোর আন্দোলনে যাব আমরা।”
অভিযোগের বিষয়ে বাংলাদেশ হিমাগার অ্যাসোসিয়েশন মালিক সমিতির সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বলেন, “কৃষি মন্ত্রণালয়ের বেঁধে দেয়া প্রতি কেজি ৬ টাকা ৭৫ পয়সা বদলে আমরা ৬ টাকা ৩২ পয়সা করে সংরক্ষণমূল্য নিচ্ছি। এখানে কোন সিন্ডিকেট নেই। আমরা সরকারের কাছে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়ে উপস্থাপন করে ভাড়া বাড়ানোর দাবি করেছি। যারা এসব আন্দোলন করছে, মব তৈরির চেষ্টা করছে, তাদেরকে আইনের আওতায় আনা উচিত।”
এ ব্যাপারে তাজহাট থানার ওসি আতাউর রহমান জানান, আলু চাষিরা তাদের দাবি আদায়ের জন্য মহাসড়ক কিছু সময় অবরোধ করেছিলেন। তাদের আমরা মহাসড়ক ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করি। পরে, তারা অবরোধ তুলে নেয়। পরিস্থিতি এখন পুরোপুরি স্বাভাবিক রয়েছে।



