মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহাম্মেদ আযম খান বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সংসদকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেবার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। বিরোধীদলও আমাদের সহযোগিতা করছে। তারপরও সংসদে বিরোধী দল গরম গরম অনেক কথা বলে, এটা মেঠো বক্তৃতা, রাজনৈতিক বক্তব্য। আমরা সরকারি দল ও বিরোধী দল মিলে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন করব।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) খেলার মাঠে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রথম শহীদ এবং বেরোবি শিক্ষার্থী আবু সাঈদের দ্বিতীয় শাহাদত বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ‘জুলাই শহীদ দিবস ২০২৬’-এর বিশেষ স্মরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতাকালে তিনি এসব কথা বলেন।
শহীদ আবু সাঈদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রী বলেন, “২০২৪ সালের আজকের এই দিনে পুলিশের অব্যাহত গুলিবর্ষণের সময় দুই হাত প্রসারিত করে সে বলেছিল, বুক পেতে দিয়েছি, পারলে গুলি কর। এরপর তাকে গুলি করে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। এই ঘটনা দেশে-বিদেশে ব্যাপক আলোড়নের সৃষ্টি করে। তার এই আত্মাহুতির মধ্য দিয়েই মূলত আন্দোলন আরও বেগবান হয় এবং পতন ঘটে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের।”
রংপুরের প্রতি বিগত সরকারের বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রী বলেন, রংপুরের উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ একটু হলেও বাড়বে। আপনাদের এই কথা দিয়ে গেলাম। শেখ হাসিনার ফ্যাসিষ্ট সরকারের তীব্র সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, তারা দুর্নীতি ও লুটপাট করে দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করে গেছে। আমরা বাংলাদেশকে এখন গণতন্ত্রের বাংলাদেশ এবং সমৃদ্ধির বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলব। বাংলাদেশ বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে।
উল্লেখ্য, শিক্ষার্থীদের সরকারি চাকরিতে কোটাবিরোধী আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে শহীদ হন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদ। একই দিন চট্টগ্রামে শহীদ হন চট্টগ্রাম কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র ও কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ওয়াসিম আকরাম। বৈষম্যবিরোধী এ আন্দোলনে প্রথমবারের মতো এক দিনে প্রাণ হারান ছয় জন। পরে দিনটিকে সরকার ‘জুলাই শহীদ দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে। এ উপলক্ষে ১৬ জুলাই রাষ্ট্রীয়ভাবে শোক দিবস পালন করা হচ্ছে।
স্মরণ সভায় আবেগঘন বক্তব্যে আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন তার ছেলে হত্যাকারীদের সকলকে অনতিবিলম্বে গ্রেফতার এবং আদালতের বিচারের রায় দ্রুত কার্যকর করার জোর দাবি জানান।
সভায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বলেন, “আমরা শহীদ আবু সাঈদ হত্যার ঘটনার সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যারাই জড়িত ছিল, তাদের সকলকে ইতিমধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করেছি। সাজা হয়েছে অনেকের।” এই সভা থেকে ঘটনার সাথে জড়িত সকলকে গ্রেফতার করে সাজা কার্যকর করার দাবি জানান তিনি।
বিশেষ এই স্মরণ সভায় অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, রংপুর বিভাগীয় কমিশনার শহীদুল ইসলাম এবং রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আমিনুল ইসলাম। এ সময় জেলা ও বিভাগীয় প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাসহ বেরোবির শিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।



