শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করা দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আজ রোববার (২৬ জুলাই) বঙ্গভবন ত্যাগ করছেন। বঙ্গভবন ছাড়ার পর তিনি সপরিবারে রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবনে উঠবেন এবং চিকিৎসার জন্য শিগগিরই সিঙ্গাপুর বা ব্যাংককের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন।
এদিকে সংবিধান অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন।
শনিবার (২৫ জুলাই) মোবাইল ফোনে আলাপকালে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন জানান, তিনি বাইপাস সার্জারির পর ‘অটোনোমিক নিউরোপ্যাথি’ নামক জটিল স্নায়ুরোগসহ হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনিজনিত নানা সমস্যায় ভুগছেন। সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ) থেকে তাকে জরুরি ভিত্তিতে বিদেশে চিকিৎসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তার স্ত্রী রেবেকা সুলতানাও অসুস্থ থাকায় দুজনে একসঙ্গেই চিকিৎসার উদ্দেশ্যে বিদেশ যাবেন। তিনি আরও জানান, বঙ্গভবন ছাড়ার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে গত কয়েক দিন ধরে তার ব্যক্তিগত মালপত্র গুলশানের বাসভবনে স্থানান্তর করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন।
সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ায় স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তবে তিনি বঙ্গভবনে বসবাস করবেন না; জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গণস্থ স্পিকারের সরকারি বাসভবনেই তিনি অবস্থান করবেন এবং বঙ্গভবনে গিয়ে দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। ইতিমধ্যে স্পিকারের বাসভবন ও এর আশপাশে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সসহ (এসএসএফ) রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তা নিশ্চিতের সার্বিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর রোববার সকাল সাড়ে ১১টায় তিনি সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহীদদের স্মরণে এবং দুপুর সাড়ে ১২টায় শেরেবাংলা নগরে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও মোনাজাত করবেন।
নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রসঙ্গে গতকাল শনিবার বগুড়ার শেরপুরে এক অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, "দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হবেন, বিএনপির দলীয় নাকি অন্য কেউ, তা দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত হবে।"
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সাংবাদিকদের জানান, সংবিধান অনুযায়ী পদত্যাগের ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। আগামী ৬০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদ অধিবেশন বসবে এবং আশা করা যাচ্ছে সেপ্টেম্বর মাসেই ওই অধিবেশনে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়টি নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে।
অন্যান্য রাজনৈতিক আলোচনায়, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানান, পদত্যাগকারী রাষ্ট্রপতির বিচার দাবির বিষয়টি দলীয় স্থায়ী কমিটিতে আলোচনা করা হবে। অন্যদিকে পরিবেশমন্ত্রী ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, শারীরিক কারণে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে রাজনীতির কোনো সরাসরি যোগসূত্র আছে বলে তিনি মনে করেন না।



