Sunday, July 26, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

সাবেক রাষ্ট্রপতিকে ঘিরে আর্থিক অনিয়মের তদন্ত হবে কিনা জানালো বাংলাদেশ ব্যাংক

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেন

আপডেট : ২৬ জুলাই ২০২৬, ০৫:৪১ পিএম

পদত্যাগী সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে লক্ষ্য করে আলাদাভাবে কোনো আর্থিক অনিয়মের তদন্ত পরিচালনার পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের চলমান সংস্কার প্রক্রিয়ায় যদি তার বা অন্য কোনো ব্যক্তির অনিয়মে সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়, তবে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে স্পষ্ট করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

রবিবার (২৬ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘‘সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সাংবিধানিকভাবে দেশের সর্বোচ্চ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। ফলে তাকে কেন্দ্র করে পৃথক কোনো অনুসন্ধান বা তদন্তের উদ্যোগ বাংলাদেশ ব্যাংকের নেই। তবে ব্যাংক ও আর্থিক খাতের সুশাসন নিশ্চিত করতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওপর আমাদের নিয়মিত তদন্ত চলমান রয়েছে। এসব তদন্তে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনিয়মের প্রমাণ মিললে আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’

এদিকে, ইসলামী ব্যাংকের আলোচিত প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকার ঋণ অনিয়মের ঘটনায় সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও তার সাবেক প্রতিষ্ঠান 'জেএমসি বিল্ডার্স'-এর নাম উঠে এসেছে। এ সংক্রান্ত বিষয়ে হাইকোর্টে একটি পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন জমা দিয়েছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।

মামলার আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির জানান, বিএফআইইউ-এর ওই প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে আদালত বিষয়টি তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী বুধবার বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চে এই বিষয়ের ওপর পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য রয়েছে।

হাইকোর্টে জমাকৃত বিএফআইইউ-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০১৭ সালে জেএমসি বিল্ডার্সের মনোনীত পরিচালক হিসেবে ইসলামী ব্যাংকে যোগ দেন মো. সাহাবুদ্দিন। পরবর্তীতে তিনি ব্যাংকটির ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং ২০২৩ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার আগ পর্যন্ত ওই পদে বহাল ছিলেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, তার মেয়াদে ইসলামী ব্যাংক থেকে ২৪টি প্রতিষ্ঠানের নামে প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়, যার মধ্যে একটি ছিল জেএমসি বিল্ডার্স। এসব ঋণের বড় একটি অংশ এখনো অনাদায়ী ও খেলাপি অবস্থায় রয়েছে।

হাইকোর্টে প্রতিবেদন জমা এবং দুদকের তদন্ত নির্দেশের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক পুনরুল্লেখ করেছে যে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মূল লক্ষ্য হলো আর্থিক খাতের প্রতিষ্ঠানভিত্তিক সুশাসন ফিরিয়ে আনা। ব্যক্তিবিশেষকে উদ্দেশ্য করে নয়, বরং সুনির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানভিত্তিক তদন্তের মাধ্যমে যার বিরুদ্ধে তথ্য-প্রমাণ ও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাবে, তার বিরুদ্ধেই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

   

About

Popular Links

x