Wednesday, July 29, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

‘সুন্দরবনকে রক্ষা করতে না পারলে, বাঘকে রক্ষা করা যাবে না’

১৯৩০ এর দশকে পূর্ব বাংলার ১৭ জেলার মধ্যে ১১ জেলাতে বুনো বাঘের অস্তিত্ব ছিলো

আপডেট : ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৪:৫৭ পিএম

প্রাকৃতিক ঐতিহ্যের স্মারক সুন্দরবনের প্রধান অলংকার বাঘ রক্ষা করা আমাদের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ। বাঘের আবাসস্থল সুন্দরবনকে রক্ষা করতে না পারলে, বাঘকে রক্ষা করা যাবে না। ১৯৩০ এর দশকে পূর্ব বাংলার ১৭ জেলার মধ্যে ১১ জেলাতে বুনো বাঘের অস্তিত্ব ছিলো। গত ১০০ বছরে পৃথিবী থেকে ৯৩% বাঘ বিলুপ্ত হয়ে গেছে। উনিশ শতকে পৃথিবীতে ৩৩টি দেশে বাঘের সংখ্যা ছিলো ১ লাখের মতো। বর্তমানে ৮টি দেশে বাঘের সংখ্যা মাত্র ৪ হাজারের কাছাকাছি।

বুধবার (২৯ জুলাই) সকালে মোংলার মিঠাখালী বাজারে বিশ্ব বাঘ দিবসের আলোচনা সভায় বক্তারা একথা বলেন। 

“ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)”, “পশুর রিভার ওয়াটারকিপার”, “বাদাবন সংঘ এবং ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ”র আয়োজনে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

“সুন্দরবন বাঁচাও, বাঘ বাঁচাও” শীর্ষক আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন  ধরা’র কেন্দ্রীয় নেতা. পশুর রিভার ওয়াটারকিপার পরিবেশযোদ্ধা মো. নূর আলম শেখ। 

এতে ব্ক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপি সভাপতি আব্দুল মান্নান হাওলাদার, সমাজসেবক রাজনীতিক শেখ রুস্তুম আলী, পরিবেশকর্মী নাজমুল হক, জানে আলম বাবু গীতিকার মোল্লা আল মামুন, ছাত্রনেতা মঈন গাজী, আরাফাত দূর্জয়, পরিবেশযোদ্ধা মেহেদী হাসান। 

আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে ধরা’র কেন্দ্রীয় নেতা পরিবেশযোদ্ধা মো. নূর আলম শেখ বলেন, “দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক বাঘ চোরাচালানি চক্র সুন্দরবনে সক্রিয় আছে। এই চক্র বাঘ হত্যা করে দেহাংশ বিদেশে পাচার করে থাকে। এই চোরাচালানি চক্রকে দমন করতে হবে। জলবায়ুর অভিঘাত থেকে বাঘের আবাস্থল সুন্দরবনকে রক্ষা জরুরি হয়ে পড়েছে। বন্যপ্রাণী হত্যা, বিষ প্রয়োগে মাছ নিধন, চোরা শিকারী এবং সুন্দরবনের দূষণ বন্ধ করতে না পারলে বাঘ রক্ষা করা যাবে না। বাঘ রক্ষায় টাইগার একশন প্লান বাস্তবায়ন করতে হবে। আলোচনা সভায় 

বিএনপি নেতা আব্দুল মান্নান বলেন, “বাঘ আমাদের শৌর্যবীর্জের প্রতীক। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাঘ এবং বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনকে রক্ষা করতে হবে। সমাজসেবক ও রাজনীতিক শেখ রুস্তুম আলী বলেন সুন্দরবন রক্ষায় আমাদের নীতি নির্ধারকদের গুরুত্ব দিতে হবে। সমন্বিত উদ্যোগ ও পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। পরিবেশযোদ্ধা মেহেদী হাসান বলেন প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গ এবং রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় বাঘ ও বাঘের আবাসস্থল সুন্দরবন ধ্বংস করা হচ্ছে। কোনোভাবেই আমরা আমাদের অহংকার বাঘ এবং বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনকে ধ্বংস করতে পারি না।”

আলোচনার সভার আগে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি চাঁদপাই ও মিঠাখালী বাজার এলাকা পরিদর্শন করে। এছাড়া বিকেল ৪টায় মিঠাখালী মাঠে বাঘ ও সুন্দরবন রক্ষায় সচেতনতা সৃষ্ঠিতে বাঘ মহড়া এবং প্রীতি ফুটবল ম্যাচের আয়োজন করা হয়।

   

About

Popular Links

x