Thursday, August 06, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

দিল্লিতে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার আলাপচারিতা নিয়ে ক্ষুব্ধ ঢাকা

বুধবার (৬ আগস্ট) রাতে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে এ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে সরকার

আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০২৬, ১১:১২ এএম

পলাতক ও ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নয়াদিল্লিতে সরাসরি গণমাধ্যমকর্মীদের মুখোমুখি হওয়ার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ।

বুধবার (৬ আগস্ট) রাতে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে সরকার জানিয়েছে, এ ঘটনাটি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত এবং ভারতের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য ক্ষতিকর।

বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “পলাতক ও সাজাপ্রাপ্ত গণহত্যাকারী” শেখ হাসিনাকে নয়াদিল্লিতে সরাসরি সংবাদমাধ্যমে আলাপচারিতার সুযোগ দেওয়ায় বাংলাদেশ ‘অত্যন্ত ক্ষুব্ধ’। 

সেখানে তিনি ও তার সহযোগীরা “বাংলাদেশ রাষ্ট্র ও তার জনগণের বিরুদ্ধে বিষোদগার করেছেন।”

ঢাকা জানায়, এ ধরনের অনুষ্ঠান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনর্গঠনের প্রচেষ্টায় কী ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, সে বিষয়ে আগেই ভারত সরকারকে উদ্বেগ জানানো হয়েছিল।

তা সত্ত্বেও অনুষ্ঠানটি হতে দেওয়ায় বাংলাদেশ “গভীর দুঃখ” প্রকাশ করছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বার্ষিকীর দিনে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচি ‘বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি এক অবমাননা এবং জুলাই বিপ্লবের শহীদদের প্রতি চরম অপমান।’

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঘটনায় শিশুসহ সাধারণ মানুষ হত্যার মতো যেসব তথ্য জাতিসংঘ নিশ্চিত করেছে, তা অস্বীকার করার মাধ্যমে ইতিহাস মুছে ফেলার ‘একটি ব্যর্থ চেষ্টা’ করা হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, “বাংলাদেশের জনগণ অতীতেও এ ধরনের জঘন্য চেষ্টা প্রত্যাখ্যান করেছে এবং এখনও করে যাচ্ছে।”

জুলাই বিপ্লবের চেতনার কথা পুনর্ব্যক্ত করে মন্ত্রণালয় জানায়, বাংলাদেশের জনগণ সংকল্পবদ্ধ যে দেশ ‘আর কখনোই ফ্যাসিবাদের কালো অধ্যায়ে ফিরে যাবে না’ এবং ‘কখনোই কোনো দেশের অনুগত রাষ্ট্র হবে না।’

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, “শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীদের স্থান ‘বাংলাদেশের রাজনীতিতে আর কখনোই হবে না।”

সার্বভৌম সমতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং জাতীয় মর্যাদার ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে “গঠনমূলক, পারস্পরিক লাভজনক ও ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্ক” বজায় রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

তবে বিজ্ঞপ্তিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলা হয়, ২০১৩ সালে স্বাক্ষরিত বাংলাদেশ-ভারত বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে ঢাকার বারবার করা অনুরোধে এখনও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, “বরং যেকোনো অজুহাতে তাকে প্রকাশ্য সংবাদমাধ্যমে কথা বলার সুযোগ দেওয়া আমাদের জনগণের অনুভূতিকে গভীরভাবে আঘাত করেছে। যা বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নের পথে ক্ষতিকর।”

   

About

Popular Links

x