Monday, August 10, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

‌‌বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক এগিয়ে নিতে সহায়ক পরিবেশ চায় ঢাকা

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান

আপডেট : ১০ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৩৩ পিএম

বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নিতে সহায়ক পরিবেশ তৈরির জন্য ভারতকে তাগিদ দিয়েছে বাংলাদেশ। সোমবার সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে প্রথমবারের মতো সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। ওই বৈঠকেই এ বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সোমবার (১০ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকের বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।

তিনি বলেন, "দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার জন্য যে সহায়ক পরিবেশ (এনেবলিং এনভায়রনমেন্ট) দরকার, সেই ধরনের পরিবেশ সৃষ্টির ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।"

বৈঠকে মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণের প্রক্রিয়া দ্রুত করার জন্যও দিল্লির প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির হত্যা মামলার আসামিদেরও বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ জানানো হয়।

হাদি হত্যা মামলার সন্দেহভাজন আসামিরা ভারতে গ্রেপ্তার হওয়ার কথা উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "ভারত যেসব কাগজপত্র চেয়েছিল, সবকিছু তাদের দিয়েছি। আমাদের জন্য এটা অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়। আমরা বলেছি, হত্যাকারীদের যত দ্রুত সম্ভব আমাদের কাছে প্রত্যর্পণ করার জন্য।"

সীমান্ত হত্যা ও পুশ-ইন নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে খলিলুর রহমান বলেন, "এগুলো আলোচনা হয়েছে। এগুলো খুব সংক্ষেপে আলোচনা হয়েছে। এগুলো তো প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ে আলোচনার নয়। গতকাল তার সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।"

৫ আগস্টের ঘটনা নিয়ে ভারতকে পাঠানো চিঠি এবং এ বিষয়ে বাংলাদেশের অসন্তোষ বৈঠকে এসেছে কি না জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "৫ আগস্টের ব্যাপারে আমাদের যে অবস্থান, আমরা স্পষ্টভাবে বলে দিয়েছি এবং সেটা গুরুত্বের সঙ্গে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করেছে। এটা গতকাল আমাকে তারা জানিয়েছে, আজকেও তারা প্রধানমন্ত্রীকে সেটা বলেছে।"

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে ৫ আগস্ট নয়াদিল্লিতে শেখ হাসিনাকে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার ঘটনায় ভারত দুঃখ প্রকাশ করেছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে খলিলুর রহমান বলেন, "এখানে দুঃখ প্রকাশের ব্যাপার নয় তো। আপনাকে ভালো করে বুঝতে হবে কী হয়েছে জিনিসটা। একটা রাষ্ট্রের তিনটা স্তম্ভ থাকে, নির্বাহী, আইন প্রণয়ন এবং বিচার বিভাগ। দণ্ডপ্রাপ্ত হাসিনা, তার জায়গা হলো জুডিশিয়ারি। বাংলাদেশের একটা কোর্ট তার বিচার করেছেন, তাকে দণ্ড দিয়েছেন। দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির বিষয়ে কী হয়? তাকে হেফাজতে নেওয়া হয় এবং তার যদি কিছু বক্তব্য থাকে, আত্মপক্ষ সমর্থনের কিছু থাকলে সেটা আদালতে বলবেন।"

তিনি আরও বলেন, "৫ তারিখ হাসিনা যে কাজটা করেছেন, সেটা হলো বাংলাদেশের জুডিশিয়ারি, রাষ্ট্রের একটি স্তম্ভের প্রতি বিদ্বেষ ছড়িয়েছে এবং সেই কাজটি ভারত সরকার করতে দিয়েছে। গতকালও আমি বলেছি, আমাদের পুরো রাষ্ট্রের কাঠামোর প্রতি আমরা চাই সব দেশ শ্রদ্ধাশীল হোক এবং আমরা আশা করব, আমাদের এই বিষয়টি ভারত সরকার অনুধাবন করতে পারবে এবং বুঝতে পেরেছে।"

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "আমার ধারণা হচ্ছে, তারা এই বিষয়টি বুঝতে পেরেছে এবং আশা করব আমাদের রাষ্ট্রের কোনো স্তম্ভকে আন্ডারমাইন করার কিছু তারা আর করবে না। তাদের সঙ্গে আমার যা কথা হয়েছে, আমি কিছুটা হলেও আশ্বস্ত, এ ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না।"

নয়াদিল্লি থেকে প্রধানমন্ত্রীকে দুই দফা আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "প্রথম কথা হচ্ছে, আমি গণক নই। দুই নম্বর জিনিসটা হচ্ছে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ব্রিকসে দাওয়াত দেওয়া হয়নি। দাওয়াত দেওয়া হয়েছে বিমসটেকের চেয়ারপারসন হিসেবে। এই পার্থক্যটা আপনারা বোঝার চেষ্টা করবেন।"

তিনি জানান, এর আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠনের দিন একটি চিঠি পাঠিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন।

ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে সোমবারের বৈঠকে দিল্লি সফরের আমন্ত্রণ নিয়ে আলোচনা হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে খলিলুর রহমান বলেন, "আমরা এখনো এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিইনি।"

   

About

Popular Links

x