বগুড়ার আদমদীঘিতে ঘরে তালাবদ্ধ থাকা বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী নাতিকে মুক্ত করে দেওয়ায় নানীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে খাতুন বেওয়া (৬০) নামে ওই নারী মারা গেছেন।
রবিবার (৩০ আগস্ট) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার তেতুলিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয়রা অভিযুক্ত নাতি সামসুল হককে (২৯) আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত খাতুন বেওয়া তেতুলিয়া গ্রামের মৃত দবির উদ্দিন ফকিরের স্ত্রী। অভিযুক্ত সামসুল হক একই গ্রামের বাসিন্দা। কয়েকদিন ধরে সামসুল হককে একটি ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছিল।
রবিবার বিকেলে নানী খাতুন বেওয়া তাকে ঘরের মধ্যে তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখতে পান। বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি ঘরের তালা খুলে নাতিকে বাইরে বের করে দেন। অভিযোগ, এরপরই সামসুল হক নানীর ওপর চড়াও হন।
একপর্যায়ে তিনি খাতুন বেওয়াকে ওড়না দিয়ে বেঁধে কিল-ঘুষি ও লাথি মারতে মারতে ঘরের বাইরে নিয়ে আসেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে আদমদীঘি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
সেখানে অবস্থার অবনতি হলে খাতুন বেওয়াকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।
ঘটনার পর স্থানীয়রা সামসুল হককে আটক করে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখেন। পরে তাকে আদমদীঘি থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
আদমদীঘি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান জানান, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে বগুড়া শজিমেক হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের জামাই আলম ফকির বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা করেছেন।
তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তার সামসুল হককে সোমবার আদালতের মাধ্যমে বগুড়া কারাগারে পাঠানো হয়েছে।



