Tuesday, September 01, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

এলএনজি গ্যাসের সরবরাহ নিয়ে দুঃসংবাদ পেলো বাংলাদেশ

চলতি বছরের মার্চ মাস থেকেই এই স্থগিতাদেশ দিয়ে আসছে কাতারএনার্জি যা প্রতি মাসে বাড়ানো হচ্ছে

আপডেট : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৪১ পিএম

হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল সীমিত থাকার কারণে তরলিকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের ওপর জারি করা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি (ফোর্স মেজার)-র মেয়াদ আরও বাড়িয়েছে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান কাতারএনার্জি। এর ফলে আগামী অক্টোবর পর্যন্ত এলএনজি সরবরাহ চুক্তি স্থগিত বা বাতিল থাকতে পারে বলে এশীয় ও ইউরোপীয় ক্রেতাদের কাছে পাঠানো নোটিশে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। সরবরাহ বাতিলের এই তালিকায় পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশও রয়েছে।

কাতারি সংবাদমাধ্যম দোহা নিউজের বরাতে জানা যায়, হরমুজ প্রণালিতে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অস্বাভাবিক পরিস্থিতির জেরে প্রতিষ্ঠানগুলোকে আইনগত দায় থেকে অব্যাহতি দিতে আন্তর্জাতিক নিয়মে এ ধরনের বিশেষ পরিস্থিতি জারি রাখা হয়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ এবং বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, বাংলাদেশের জন্য বহাল থাকা এই স্থগিতাদেশের মেয়াদ সেপ্টেম্বরের পরেও বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে পাকিস্তানের জন্য অক্টোবর এবং ইউরোপীয় ক্রেতা যেমন ইতালির জন্য আগামী নভেম্বর পর্যন্ত এই ফোর্স মেজার বহাল করা হয়েছে। ইতালীয় প্রতিষ্ঠান এডিসন এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, নভেম্বর পর্যন্ত তাদের অতিরিক্ত পাঁচটি কার্গো সরবরাহ বাতিল করেছে কাতারএনার্জি। ফলে সামগ্রিকভাবে এখন পর্যন্ত মোট ২৯টি এলএনজি কার্গো থেকে বঞ্চিত হয়েছে তারা।

চলতি বছরের মার্চ মাস থেকেই এই স্থগিতাদেশ দিয়ে আসছে কাতারএনার্জি এবং সংকট দীর্ঘায়িত হওয়ার সাথে সাথে প্রতি মাসে তা বাড়ানো হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও রাস লাফানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর কাতারএনার্জির প্রেসিডেন্ট ও দেশটির জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী সায়াদ শেরিদা আল-কাবি জানান, তাদের এলএনজি রপ্তানি সক্ষমতা অন্তত ১৭% কমে গেছে। আইসিআইএসের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের প্রথম ছয় মাসে কাতার যেখানে ৫০৯টি কার্গো রপ্তানি করেছিল, সেখানে এ বছর একই সময়ে মাত্র ১৮টি কার্গো পাঠানো সম্ভব হয়েছে। এতে কাতারের প্রায় ২ হাজার ৪০০ কোটি (২৪ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে।

কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির সেন্টার অন গ্লোবাল এনার্জি পলিসির গবেষণা ফেলো অ্যান-সোফি করবেউ জানান, হরমুজ প্রণালি দিয়ে স্বাভাবিক রপ্তানি ব্যবস্থা ফিরতে এমনকি ২০২৮ সাল পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে। রাজনৈতিক সমঝোতা ছাড়া এ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া কঠিন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, বৈশ্বিক এই গ্যাস সংকটে যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়া বা নাইজেরিয়া কিছুটা বিকল্প সরবরাহ সহজ করলেও সামগ্রিক ঘাটতি পূরণ হচ্ছে না। ফলে উচ্চমূল্যে স্পট মার্কেট থেকে গ্যাস কিনতে বাধ্য হওয়া বা জ্বালানির ঘাটতিতে পড়া দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও ভারত সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

   

About

Popular Links

x