Monday, August 31, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও মিলছে না সুরাহা, গ্যাস সংকটে বিপর্যস্ত সাভার

সব বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি সাভার তিতাস গ্যাসের কোনো কর্মকর্তা

আপডেট : ৩১ আগস্ট ২০২৬, ০৪:০০ পিএম

সাভারে গ্যাসের সংকট কাটেনি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও সিএনজি স্টেশনগুলোতে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। একই অবস্থা আবাসিক ও শিল্প এলাকাতেও। আবাসিক গ্রাহকরা বিকল্প হিসেবে বৈদ্যুতিক চুলা বা সিলিন্ডার ব্যবহার করছেন। আর গ্যাসের সংকটে শিল্প মালিকদের কারখানা বন্ধ রাখতে হচ্ছে।

সরেজমিনে সাভার পৌরসভার কলেজ রোডের কয়েকটি বাড়িতে গিয়ে কথা হয় বাসিন্দাদের সঙ্গে।

তারা জানান, দিন কিংবা রাত, কোনো সময়ই গ্যাস পান না তারা। বিকল্প হিসেবে রান্না শুরু হয়েছে মাটির চুলায়। কেউ কেউ ব্যবহার করছেন সিলিন্ডার ও বৈদ্যুতিক চুলা।

প্রায় দেড় মাস ধরে পুরো সাভারে গ্যাসের এই সংকট চলছে।

সাভার রেডিও কলোনি এলাকায় একটি বাসার ভাড়াটিয়া নাজনীন সুলতানা বলেন, “দুই মাস ধরে গ্যাস নাই আবার লাকড়ি কিনতে হয় লাকড়ির সংকটও দেখা দিছে।”

তানিয়া আক্তার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “সিলিন্ডারও কিনার মতো সামর্থ্য নাই গ্যাস বিল দিতে হয় ঠিকই মাস শেষে। আমাদের অনেক কষ্ট খাওয়া-দাওয়া একবেলা খাইলে দুইবেলা খাইতে পারি নাই গ্যাসের কারণে।”

একই অবস্থা সিএনজি স্টেশনগুলোতেও। আমিনবাজার, হেমায়েতপুর ও সাভার পৌরসভার সাতটি সিএনজি স্টেশনের মধ্যে পাঁচটিতে গ্যাসের চাপ থাকে না। সেখানে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করতে গিয়ে চালকদের ভোগান্তি বাড়ছে।

নুর আলম নামে এক সিএনজি চালক বলেন, “যেমন আটটা বাজে আইছি বেলা বাজে একটা বাজে। গ্যাস পাইনি।”

শহীদুল ইসলাম নামে অপর এক বাসচালক বলেন, “আমরা মানিকগঞ্জ থেকে এই সাভার আসছি। আমরা কোথাও কোনো গ্যাস পাই না। রাত দিন মনে করেন যে একই অবস্থা। দিনও এরকম ভোগান্তিতে লাগে।”

ব্যবসায়ী ও শিল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, সাধারণ সময়ে গ্যাসের চাপ ৮ থেকে ১০ পিএসআই পাওয়া যেত। বর্তমানে গ্যাসের চাপ দুই থেকে তিন পিএসআইয়ে নেমে এসেছে।

সাভারের একটি সিএনজি স্টেশনের কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির বলেন, “সাধারণত একটা সিএনজি স্টেশন চালাইতে হলে ৮ থেকে ১০ পিএসআই লাগে সেখানে আমাদের আছে তিন পিএসআই।”

সাভারের হেমায়েতপুর এলাকার একটি পোশাক কারখানার কর্মকর্তা খায়রুল আলম বলেন, “বর্তমানে জেনারেটর চালাতে গিয়ে আমাদের প্রতিনিয়ত অয়েল সংগ্রহ করতে হচ্ছে এবং আমাদের আশেপাশে যে সকল ইন্ডাস্ট্রিগুলো আছে সকলে একই সাথে জেনারেটর চালু রাখার জন্য তাদেরও যে অয়েল সংকট সেটাও এখন তীব্র আকার ধারণ করেছে।”

তবে এসব বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি সাভার তিতাস গ্যাসের কোনো কর্মকর্তা।

   

About

Popular Links

x