Saturday, September 26, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ব্রহ্মপুত্রের তীর রক্ষা বাঁধের বড় অংশ জুড়ে ধস

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে কয়েক গ্রামের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে

আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৫৫ পিএম

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ব্র্রহ্মপুত্র নদের ডান তীর রক্ষা বাঁধের চারটি পৃথক স্থানে প্রায় ২০০ মিটার ধস দেখা দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে উপজেলার কাঁচকোল বাজার এবং পুঁটিমারি এলাকার মধ্যবর্তী স্থানে নদের ডান তীর রক্ষা বাঁধে নতুন করে প্রায় ৩৫ মিটার অংশে ধস দেখা দেয়।

গত এক সপ্তাহে স্বল্প দূরত্বের পরপর তিনটি স্থানে ফাটলসহ ধস দেখা দেওয়ায় বাঁধের প্রায় ৬০০ মিটার অংশ ভাঙন ঝুঁকিতে পড়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

এর আগে, গত ১ জুলাই, ১৬ জুলাই এবং ২০ জুলাই তিন দফায় ব্রহ্মপুত্রের ডান তীর রক্ষা বাঁধে ধস দেখা দেয়। পরে সেখানে জরুরি ভিত্তিতে বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে ধস ঠেকানোর উদ্যোগ নেয় পাউবো। দুই মাসের ব্যবধানে একই বাঁধে ফের বড় অংশজুড়ে ধস দেখা দিয়েছে।

এদিকে, বাঁধে ধসের খবরে শুক্রবার দুপুরে চিলমারীতে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গেছেন পাউবো রংপুর বিভাগীয় অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এবং কুড়িগ্রাম নির্বাহী প্রকৌশলী। তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দ্রুত মেরামত কাজ শুরুর উদ্যোগের আশ্বাস দেন।

স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার রাতে বাঁধে তীব্র ধস দেখা দেয়। একের পর এক ব্লক ও জিও ব্যাগ ধসে যেতে থাকে। ভাঙনের ফলে কাঁচকোল ওপুঁটিমারি এলাকার মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) জানিয়েছে, কাঁচকোল বাজার থেকে পুঁটিমারি পযন্ত তীর রক্ষা বাঁধের ৬০০ মিটার দূরত্বে চারটি অংশে অন্তত ২০০ মিটার ধস দেখা দিয়েছে। এত বাঁধের ৬০০ মিটার অংশ ঝুঁকিতে পড়েছে। বাঁধটির ওই স্থান বেশ দুর্বল কাঠামোর উপর নির্মিত। ওই অংশে প্রায়ই ধস দেখা দেয়। জরুরি প্রতিরক্ষা কাজ করে সেগুলো ঝুঁকিমুক্ত করা হয়।

ডান তীর ঘেঁষে নদের মূল প্রবাহ প্রবাহিত হওয়ায় বাঁধটিতে বারবার ফাটল ও ধস দেখা দিচ্ছে। বিষয়টি জানিয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, গত এক সপ্তাহ আগে কাঁচকোল বাজার সংলগ্ন স্থানে ডান তীর রক্ষা বাঁধের প্রায় ২৮ মিটার অংশে ধস দেখা দেয়। এর ৬০০ মিটার দূরত্বে পুঁটিমারি বাজার সংলগ্ন তীরের আরও ৩০ মিটার অংশের জিও ব্যাগ সরে গিয়ে ব্লক পিচিংয়ে ফাটল দেখা দেয়। সেগুলো মেরামত শুরু করার আগেই বৃহস্পতিবার রাতে আগের দুই স্থানের মধ্যবর্তী বাঁধের আরও ৩৫ মিটার অংশে ধস দেখা দিয়েছে। তীর রক্ষা বাঁধের কংক্রিটের ব্লক নদীতে ধসে পড়ছে। জরুরি ভিত্তিতে প্রতিরক্ষা কাজ শুরু না করলে তীরবর্তী এলাকার বহু বাড়িঘর ও আবাদি জমি নদে বিলীন হয়ে যেতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দা কবিরুল ইসলাম বলেন, “কয়েক দিন ধরে পানি বাড়ছে। যে হারে ভাঙন চলছে, তাতে দ্রুত এটি বন্ধ করার ব্যবস্থা না নেওয়া হলে বাঁধটির বড় অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।”

পাউবো কুড়িগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, “প্রায় ৬০০ মিটার অংশ জুড়ে চারটি স্থানের কোথাও ফাটল আবার কোথাও  ধস দেখা দিয়েছে। আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মূল্যায়ন করছি। মূল্যায়ন শেষে মোট দূরত্ব বলা যাবে। প্রয়োজনীয় মেরামত কাজের জন্য  উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অনুমতি পেলেই কাজ শুরু করা হবে।”

আপাতত বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান এই প্রকৌশলী।

   

About

Popular Links

x