Saturday, September 26, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

কক্সবাজার থেকে সাইকেলে ৩৮ দিনে এভারেস্ট বেস ক্যাম্পে কাপ্তাইয়ের বীর কুমার

এর আগে তিনি সাইকেলে বাংলাদেশের ৬৪ জেলা ভ্রমণ করেছেন

আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:২৩ পিএম

কক্সবাজারের সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে সাইকেলে যাত্রা শুরু করে ৩৮ দিন পর নেপালের এভারেস্ট বেস ক্যাম্পে পৌঁছেছেন রাঙামাটির কাপ্তাইয়ের সাইক্লিস্ট ও অভিযাত্রী বীর কুমার তনচংগ্যা।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে ৫ হাজার ৩৬৪ মিটার উচ্চতার এভারেস্ট বেস ক্যাম্পে পৌঁছান তিনি।

বীর কুমারের দাবি, স্থলপথে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে সাইকেলে এভারেস্ট বেস ক্যাম্পে পৌঁছানো প্রথম বাংলাদেশি এবং প্রথম পাহাড়ি সাইক্লিস্ট তিনি।

“সি টু হিমালয়াস এক্সপেডিশন ফর অ্যাওয়ারনেস” নামে এই অভিযানের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় গত ১৬ আগস্ট সকাল ৮টা ৩৯ মিনিটে কক্সবাজারের কবিতা চত্বর বিচ থেকে। সেখানে প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহের মাধ্যমে অভিযানের সূচনা করেন বীর কুমার। এরপর সাইকেলে বাংলাবান্ধা সীমান্ত হয়ে ভারতে প্রবেশ করেন। শিলিগুড়ি হয়ে নেপালে পৌঁছে শুরু করেন হিমালয়ের দুর্গম পাহাড়ি পথের অভিযান।

দীর্ঘ এই অভিযাত্রায় তাকে মোকাবিলা করতে হয়েছে ঝড়-বৃষ্টি, তীব্র ঠান্ডা, আবহাওয়ার দ্রুত পরিবর্তন ও দুর্গম পাহাড়ি পথের নানা ঝুঁকি। প্রতিকূলতার মধ্যেও প্রতিদিনের যাত্রার অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরেছেন তিনি।

এভারেস্ট বেস ক্যাম্পে পৌঁছানোর আগে হিমালয়ের কয়েকটি দুর্গম চূড়া ও গিরিপথ অতিক্রম করেন বীর কুমার। ১৮ সেপ্টেম্বর ৫ হাজার ৮৩ মিটার উচ্চতার নাংকার্তশাং পিক সামিট করেন তিনি। ওই দিন বিকেল ৪টা ৩৫ মিনিটে চূড়ায় পৌঁছান। পরদিন ১৯ সেপ্টেম্বর ৫ হাজার ৫৫০ মিটার উচ্চতার ছুকুং রি পিক সামিট করেন। সেখানে পৌঁছান বিকেল ৪টা ৫১ মিনিটে।

এরপর ২১ সেপ্টেম্বর ৫ হাজার ৫৩৫ মিটার উচ্চতার কংমা লা পাস অতিক্রম করেন তিনি। পরদিনই তার চূড়ান্ত গন্তব্য ছিল এভারেস্ট বেস ক্যাম্প।

বেস ক্যাম্পে পৌঁছে নিজের ফেসবুক পোস্টে বীর কুমার লেখেন, “স্বপ্ন বড় হলে পথ যত কঠিনই হোক, থেমে যাওয়া যায় না।“ দীর্ঘ অভিযানে সহযোগিতা, ভালোবাসা ও উৎসাহ দেওয়ায় সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। তার ভাষায়, এই অর্জন শুধু তার একার নয়, পুরো বাংলাদেশের মানুষের।

বীর কুমার জানান, দীর্ঘ পথ, আবহাওয়ার পরিবর্তন, দুর্গম পাহাড়ি ট্রেইল এবং শারীরিক-মানসিক চাপ প্রতিটি ধাপেই তাকে নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। তবে দেশের মানুষের শুভকামনা ও ভালোবাসা তাকে এগিয়ে যাওয়ার সাহস জুগিয়েছে। সামনে থাকা লক্ষ্যগুলো পূরণ করে বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকা নিয়ে নিরাপদে দেশে ফেরার প্রত্যয়ও জানিয়েছেন তিনি।

এই অভিযানের উদ্দেশ্য শুধু হিমালয়ের দুর্গম পথ পাড়ি দেওয়া নয়। রক্তদান, পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু ন্যায্যতা বিষয়ে সচেতনতা তৈরি এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরাও ছিল অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য। পাশাপাশি বাংলাদেশের অ্যাডভেঞ্চার পর্যটনের সম্ভাবনাকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে চেয়েছেন তিনি।

সাইকেল অভিযানে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা রয়েছে বীর কুমারের। এর আগে তিনি সাইকেলে বাংলাদেশের ৬৪ জেলা ভ্রমণ করেছেন। দেশের দীর্ঘতম ক্রস-কান্ট্রি রুট টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়াও সাইকেলে পাড়ি দিয়েছেন। এছাড়া ভারতের ১০টি রাজ্য ভ্রমণের অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে শুরু করে প্রায় ৭১ দিনে ৫ হাজার ৭০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ২০২৪ সালের মার্চে দেশে ফেরেন তিনি।

কাপ্তাই উপজেলার ওয়াগ্গা ইউনিয়নের বাসিন্দা বীর কুমার কাপ্তাই ব্লাড ব্যাংক ও ওয়াগ্গা ভলান্টিয়ারের প্রতিষ্ঠাতা। দীর্ঘদিন ধরে স্বেচ্ছায় রক্তদান, মানবসেবা এবং পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ে সচেতনতামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত তিনি।

কক্সবাজারের সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে সাইকেলে যাত্রা শুরু করে বাংলাবান্ধা ও শিলিগুড়ি হয়ে নেপালের দুর্গম পাহাড় পেরিয়ে ৫ হাজার ৩৬৪ মিটার উচ্চতার এভারেস্ট বেস ক্যাম্পে পৌঁছানো ৩৮ দিনের এই অভিযাত্রায় একের পর এক চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন কাপ্তাইয়ের বীর কুমার তনচংগ্যা।

   

About

Popular Links

x