চাঁদপুর শহরে একটি ভবনের বারান্দায় খেলতে গিয়ে ৩৩ হাজার ভোল্টের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের সংস্পর্শে এসে ফাইজা আক্তার (৬) ও মো. সাব্বির (৪) নামে দুই শিশু দগ্ধ হয়েছে। গুরুতর অবস্থায় তাদের প্রথমে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়েছেযে
শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুর ২টার দিকে শহরের নিউ ট্রাক রোড এলাকার আরএস টাওয়ারের পঞ্চম তলার পশ্চিম পাশের একটি ফ্ল্যাটে এ ঘটনা ঘটে।
পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আত্মীয়ের বাসায় বেড়াতে এসে শিশু দুটি দুর্ঘটনার শিকার হয়। ফাইজা লক্ষ্মীপুরের রায়পুর থানার বাসিন্দা। সাব্বির একই এলাকার বাসিন্দা।
যে ফ্ল্যাটে শিশু দুটি বেড়াতে এসেছিল, তার ভাড়াটে প্রবাসী সোহেল দেওয়ান। তিনি বর্তমানে প্রবাসে থাকেন। তার স্ত্রী ইয়াছমিন আক্তার সন্তানদের নিয়ে ওই বাসায় থাকেন। তদের গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার কালীবাজার এলাকায়। প্রায় আড়াই বছর ধরে তারা ওই বাসায় ভাড়া থাকছেন।
ইয়াছমিন আক্তার জানান, শনিবার দুপুর ১২টার দিকে তার দুই খালাতো বোন শিশুদের নিয়ে বেড়াতে আসেন। একপর্যায়ে দুই শিশু বারান্দায় খেলতে যায়। কিছুক্ষণ পর বিকট শব্দ শুনে তারা বারান্দায় গিয়ে দুই শিশুকে দগ্ধ ও রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।
ইয়াছমিনের ধারণা, শিশুদের হাতে থাকা লোহার মতো কোনো পাইপের মাধ্যমে পাশ দিয়ে যাওয়া বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের সংস্পর্শে এলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, ফ্ল্যাটের বারান্দার খুব কাছ দিয়েই ৩৩ হাজার ভোল্টের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন চলে গেছে। তবে ওই লাইন থেকে নিরাপত্তার জন্য বারান্দার পাশে কোনো সুরক্ষাব্যবস্থা চোখে পড়েনি।
এ বিষয়ে জানতে বাড়ির মালিক রাসেল মিয়ার মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। পরে তার বাসায় গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) আসিবুল হাসান বলেন, “তিনি নিজেই দগ্ধ দুই শিশুকে চিকিৎসা দিয়েছেন। ফাইজার শরীরের প্রায় ৫০ শতাংশ পুড়ে গেছে। অন্য শিশুটির শরীরের প্রায় ৬০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে এবং তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য দুজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।”
চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ আহমেদ বলেন, “এ ঘটনায় থানায় কোনো অভিযোগ হয়েছে কি না, তা তিনি জানেন না। ঘটনার সময় তিনি থানার বাইরে কাজে ছিলেন। পরে থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) এর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।”



