নেত্রকোনার কলমাকান্দায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভা চলাকালে সহকারী শিক্ষিকা স্ত্রীকে থাপ্পড় মারার অভিযোগ উঠেছে সহকারী শিক্ষক মো. খুরশেদ আলমের বিরুদ্ধে। ঘটনার ভিডিও মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেলে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এর আগেই তদন্ত কমিটি অভিযোগের সত্যতা পেয়ে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে।
গত ১৫ সেপ্টেম্বর উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের ওই বিদ্যালয়ে ঘটনাটি ঘটে। ১ মিনিট ৫৮ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, সভায় প্রধান শিক্ষক মো. সিরাজুল ইসলামের সঙ্গে খুরশেদ আলমের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় চলছে। পাশে বসা স্ত্রী তাকে শান্ত হতে বললে খুরশেদ তাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “থাপ্পড় দিয়া দাঁত ফালাইয়া দিবো, কথা কস ক্যারে?”
জবাবে ওই শিক্ষিকাকে বলতে শোনা যায়, “এখন রাখুন, এটা অফিস।” এতে খুরশেদ আরও ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, “অফিস হইছে দেইখখা কী হইছে? আমি কি কেউর কর্মচারী?” একপর্যায়ে তিনি স্ত্রীকে থাপ্পড় মেরে “বাইর হ” বলে ধমক দেন।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্র জানায়, ঘটনার পাঁচ দিন পর ২০ সেপ্টেম্বর প্রধান শিক্ষক উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। এরপর উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা শীতেষ চন্দ্র পালের নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি সোমবার (৫ অক্টোবর) প্রতিবেদন জমা দেয়।
কলমাকান্দা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোশাররফ হোসেন খান বলেন, “তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত শিক্ষক খুরশেদ আলমের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে সুপারিশ করা হয়েছে।”
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শহীদুল আজম বলেন, “স্বামী-স্ত্রী হলেও বিদ্যালয়ের মধ্যে কোনো শিক্ষক আরেকজন শিক্ষককে থাপ্পড় মারতে পারেন না। এ ধরনের আচরণ চাকরি বিধির পরিপন্থী। তদন্ত প্রতিবেদন পেয়েছি। বিভাগীয় মামলার প্রস্তুতি চলছে।”
অভিযোগ প্রসঙ্গে খুরশেদ আলম বলেন, “ঘটনার সময় তিনি রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি। এ জন্য তিনি অনুতপ্ত এবং ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় বিব্রত। বর্তমানে তিনি ও তার স্ত্রী নিয়মিত বিদ্যালয়ে যাচ্ছেন।”
ভুক্তভোগী শিক্ষিকার বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।



