Friday, October 09, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

নোয়াখালীতে জমি নিয়ে বিরোধে বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ

পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে চলে আসার পর আবারও ভাঙচুর করা হয়েছে বলে জানা গেছে 

আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৪৬ পিএম

জমি কেনা নিয়ে পূর্ব বিরোধের জেরে নোয়াখালীতে রাতের আঁধারে ঘরবাড়ি ভাঙচুর হামলা ও লুটের ঘটেছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাত ৯ টায় জেলার সদর উপজেলার এওজবালিয়া ইউনিয়নের পূর্ব এওজবালিয়া গ্রামের ইসমাইল ব্যাপারি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এওজবালিয়া গ্রামের পূর্ব এওজবালিয়া ইউনিয়নের মৃত শহীদুল ইসলামের ছেলে হাসান থেকে ১২% জমি কিনে একই গ্রামের মৃত ইসমাইলের ছেলে নুরুল হুদা। জমিটি কিনার পর থেকে হাসানের ভাই হোসেন ও জাবেদ বিভিন্ন সময় নুরুল হুদাকে জমিটি দখল করতে বাধা দেয়।

এ বিষয়ে উভয় পক্ষের একাধিকবার গ্রাম্য শালিসি বৈঠকে একত্রিত হওয়ার কথা থাকলেও হোসেন ও জাবেদ বৈঠকে বসতে অস্বীকৃতি জানায়। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে হোসেন ও জাবেদের নেতৃত্বে নুরুল হুদার ক্রয়কৃত জমির উপর একটি ঘর তুলতে গেলে নুরুল হুদা ও তার ভাইয়েরা বাধা দেয়। এ সময় সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত সাত জন আহত হয়।

নুরুল হুদার দাবি, সংঘর্ষ শেষে ঘটনাস্থলে পুলিশ পরিদর্শন করে চলে যাওয়ার পর রাত আনুমানিক নয়টার দিকে কয়েকজন এসে তাদের তিন ভাইয়ের বাড়ি ঘরে হামলা চালায় এবং ভাংচুর ও মারধর করে। এ সময় তাদের ঘরে থাকা মোবাইল ফোন, নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে যায়। হোসেন ও জাবেদ এসব সন্ত্রাসীদেরকে ভাড়া করে এ হামলা চালায়।

নুরুল হুদার ভাই মাওলানা নুরুদ্দিন বলেন, “আমার ভাইয়ের সাথে জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে আমার ঘরে ভাঙচুর চালা এবং আমাকে ঘর থেকে টেনে বাইরে নিয়ে মারার জন্য প্রস্তুতি নেয়। এই সময় আমার বউ এসে তাদের পায়ে ধরে আমাকে উদ্ধার করে। তারা আমাদের ঘরে থাকা নতুন মোবাইল ফোন, ৪৫,০০০ টাকা ও একজোড়া কানের দুল ছিনতাই করে নিয়ে যায়।”  

এওজবালিয়া ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান নুরুল আমিন বলেন, “জমি নিয়ে পূর্ববিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের পর আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। উভয় পক্ষকে সালিশি বৈঠকে বসার প্রস্তাব দিয়েছি। কিন্তু কেউই আমাদের কথা শুনছে না। তারা নিজেদের মধ্যে মারামারি ও ভাঙচুর করছে। এক্ষেত্রে আমাদের আর কী করার আছে!”

ভাঙচুরের অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি জানান, পৈতৃক সূত্রে পাওয়া জমিতে ঘর নির্মাণ করতে গেলে প্রতিপক্ষ তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে তারা আহত হয়ে হাসপাতালে যান। তাদের বাড়িঘর কারা ভাঙচুর করেছে, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে দাবি করেন। ভাঙচুরের সময় তারা হাসপাতালে ছিলেন বলেও জানান হোসেন। 

সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, “গতকাল সংঘর্ষের খবর পেয়ে ৯৯৯-এর মাধ্যমে পাওয়া ফোনকলের ভিত্তিতে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে চলে আসার পর কারা ভাঙচুর করেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।” 

   

About

Popular Links

x