Monday, October 19, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

মোবাইল নম্বর ব্লক করায় বান্ধবীদের জুতাপেটা

ঘটনা তদন্তে দুই সদস্যের কমিটি গঠন করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ

আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০০ পিএম

মোবাইল নম্বর ব্লক করে রাখায় বরিশালের মুলাদী সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণে দুই ছাত্রীকে জুতাপেটা করার অভিযোগ উঠেছে তাদের এক সহপাঠীর বিরুদ্ধে। ক্লাস থেকে ডেকে এনে কলেজের সামনে ওই দুই ছাত্রীকে জুতাপেটা করেন ওই সহপাঠী ও তার সঙ্গে থাকা বহিরাগতরা।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) ভুক্তভোগী ছাত্রীরা কলেজের অধ্যক্ষ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। ঘটনা তদন্তে দুই সদস্যের কমিটি গঠন করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।

কলেজের অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন লিখিত অভিযোগের বরাত দিয়ে জানান, ভুক্তভোগী দুই ছাত্রীর সঙ্গে তাদের এক সহপাঠীর বন্ধুত্ব ছিল। তারা একসঙ্গে কলেজে যাতায়াত করতেন। কয়েক দিন আগে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে বাক্‌বিতণ্ডা হয়। এর জেরে ভুক্তভোগী দুই ছাত্রী তাদের ওই সহপাঠীর মোবাইল নম্বর ব্লক করে রাখেন।

এতে ক্ষুব্ধ হয়ে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ওই সহপাঠী অন্য এক সহপাঠীর মাধ্যমে তাদের শ্রেণিকক্ষ থেকে ডেকে নেন। পরে ওই সহপাঠীর বড় বোন নাসরিন আক্তারসহ কয়েকজন বহিরাগত তাদের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অধ্যক্ষ বলেন, লিখিত অভিযোগে দুই ছাত্রী জানিয়েছেন, অভিযুক্ত সহপাঠী ও তার সঙ্গে থাকা বহিরাগতরা তাদের চুল ধরে টানাটানি করেন। এ ছাড়া জুতা দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। তাদের প্রাণনাশের পাশাপাশি কলেজে আসা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

এদিকে, এ ঘটনার একটি ভিডিও কে বা কারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দিয়েছেন। ভিডিওতে কলেজ চত্বরে দুই ছাত্রীসহ পাঁচ থেকে ছয় তরুণীকে বাক্‌বিতণ্ডায় জড়াতে দেখা যায়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে মারামারি শুরু হয়। ভিডিওতে কয়েকজনকে দুই ছাত্রীর চুল ধরে টানতে এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করতে দেখা যায়। তাদের জুতা দিয়ে মারধরের দৃশ্যও ভিডিওতে স্পষ্ট।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কলেজের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, মোবাইল নম্বর ব্লক করে রাখার কারণে নয়, বরং আগে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনার প্রতিশোধ নিতেই এ হামলা চালানো হয়।

ভুক্তভোগী ছাত্রীরা বলেন, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তারা কলেজের অধ্যক্ষ ও উপজেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েছেন। তা না হলে কলেজে আসা-যাওয়া নিরাপদ বলে মনে করছেন না তাঁরা।

তবে অভিযুক্ত ছাত্রীর বোন নাসরিন আক্তার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, ওই দুই ছাত্রীর কারণেই সেখানে হামলার ঘটনা ঘটেছে। তারা বহিরাগত লোকজন নিয়ে তাদের ওপর হামলার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। এ নিয়ে বাক্‌বিতণ্ডার একপর্যায়ে তারা হামলা চালালে তা প্রতিহত করতে গিয়ে এ ঘটনা ঘটে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যারা ভিডিও ধারণ করে ছড়িয়ে দিয়েছেন, তারাও ওই দুই ছাত্রীর লোক বলে দাবি করেন নাসরিন।

নাসরিন আরও বলেন, এ ঘটনার বিচার চেয়ে তারাও কলেজের অধ্যক্ষ ও ইউএনওর কাছে আবেদন করেছেন। তারাও ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চান।

মুলাদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গোলাম সরওয়ার বলেন, ছাত্রীদের মধ্যে সৃষ্ট সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব কলেজের অধ্যক্ষকে দেওয়া হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, তিনি বিষয়টি সুষ্ঠুভাবে সমাধান করতে পারবেন। তার জানামতে, কলেজ কর্তৃপক্ষ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। ওই কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই সুষ্ঠু সমাধান হবে।

মুলাদী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন বলেন, কলেজের ছাত্রীদের মধ্যে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্তে দুই সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই ঘটনার সমাধান করা সম্ভব হবে। ভবিষ্যতে কলেজে যেন এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে, সে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে বলেও জানান অধ্যক্ষ।

   

About

Popular Links

x