আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রের শিকার হয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ কম্বোডিয়ায় প্রায় ১ হাজার ৮০০ জনেরও বেশি বাংলাদেশি আটকে আছেন বলে দাবি করেছে ‘অনির্বাণ সারভাইভার ভয়েস ফাউন্ডেশন’ নামের একটি সংগঠন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আটকে থাকা এসব নাগরিককে বিশেষ ফ্লাইটে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জোর দাবি জানানো হয়েছে।
রবিবার (১৮ অক্টোবর) প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, পররাষ্ট্র সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব এবং ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক বরাবর পাঠানো এক চিঠিতে অনির্বাণ সারভাইভার ভয়েস ফাউন্ডেশন এ দাবি উপস্থাপন করে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, বৈধ পাসপোর্ট, ভিসা ও সরকারি ছাড়পত্র নিয়ে কম্বোডিয়ায় গমন করলেও পরবর্তীতে অনেক বাংলাদেশিকে জোরপূর্বক বিভিন্ন অনলাইন স্ক্যাম কম্পাউন্ডে অবৈধ কাজ করতে বাধ্য করা হচ্ছে। ভুক্তভোগীরা সেখানে নিয়োগে প্রতারণা, ভয়ভীতি প্রদর্শন, চলাচলে বাধা, পাসপোর্ট আটকে রাখা, শারীরিক নির্যাতন এবং মুক্তির বিনিময়ে মোটা অঙ্কের অর্থ দাবির শিকার হচ্ছেন।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, কম্বোডিয়া সরকার ভিসার মেয়াদোত্তীর্ণজনিত জরিমানা মওকুফের সুযোগ দিলেও বিমানের উচ্চ ট্রাভেল ফি ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে অনেকেই দেশে ফিরতে পারছেন না। ইতিমধ্যে ১ হাজার ৭৯৭ জন বাংলাদেশির একটি তালিকা কম্বোডিয়া কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং আরও প্রায় ৪০০ জন একই ধরনের চরম সংকটের মুখোমুখি রয়েছেন।
কম্বোডিয়া সরকারের দেওয়া জরিমানা মওকুফের মেয়াদ আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে শেষ হতে যাচ্ছে। এ সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই তাদের দ্রুত প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা, মানবপাচার চক্রের বিচার এবং ভুক্তভোগীদের পুনার্বসনের আহ্বান জানানো হয়েছে চিঠিতে।
এ ছাড়া পাচারের শিকার ব্যক্তিদের অপরাধী না ভেবে তাদের মানবাধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক ‘নন-পানিশমেন্ট প্রিন্সিপাল’ বা অ-শাস্তি নীতি অনুসরণের দাবি তোলা হয়। পাশাপাশি দেশে ফেরার পর তাদের বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, আইনি সহায়তা ও দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
চিঠিতে কম্বোডিয়া ও বাংলাদেশে সক্রিয় মানবপাচারকারী নেটওয়ার্ক এবং সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে সরকারি ছাড়পত্র থাকার পরেও কীভাবে সাধারণ নাগরিকরা এভাবে পাচারের শিকার হলেন, তা তদন্ত করে অভিবাসন ব্যবস্থা সংস্কারের অনুরোধ করা হয়েছে।
অনির্বাণ সারভাইভার ভয়েস ফাউন্ডেশনের সভাপতি আল আমিন নয়ন বলেন, “নাগরিকদের বিদেশে পাঠানোই শেষ কথা নয়; তাদের নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষা করাও রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব। কোনো নাগরিক আন্তর্জাতিক পাচারের শিকার হলে তাকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনা, পুনর্বাসন করা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।”



