Friday, November 06, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

এবার শীত কেমন হবে, জানালো আবহাওয়া অধিদপ্তর

দেশের ওপর দিয়ে ৪ থেকে ৬টি মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে

আপডেট : ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১১:৩০ এএম

নভেম্বর থেকে আগামী জানুয়ারি পর্যন্ত দেশের ওপর দিয়ে চার থেকে ছয়টি মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এর মধ্যে দুই থেকে তিনটি তীব্র শৈত্যপ্রবাহে রূপ নিতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।  

দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, এ সময়ে বঙ্গোপসাগরে দুই থেকে চারটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে এক বা দুটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) ও দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসবিষয়ক বিশেষজ্ঞ কমিটির চেয়ারম্যান মো. মমিনুল ইসলাম স্বাক্ষরিত পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী তিন মাসে শৈত্যপ্রবাহের পাশাপাশি কুয়াশা, লঘুচাপ ও ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাবনাও রয়েছে।

অধিদপ্তরের তথ্যমতে, তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলে তাকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়। তাপমাত্রা ৬ থেকে ৮ ডিগ্রির মধ্যে থাকলে মাঝারি এবং ৪ থেকে ৬ ডিগ্রির মধ্যে নামলে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে গেলে তাকে অতি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়।

শৈত্যপ্রবাহের সময় ও অঞ্চল সম্পর্কে আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, “সাধারণত ডিসেম্বরে এক থেকে দুটি মৃদু শৈত্যপ্রবাহ হতে পারে। এ সময় দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চল, বিশেষ করে রাজশাহী, রংপুর এবং খুলনা বিভাগের কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে আসতে পারে।”

তবে জানুয়ারিতে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহের সম্ভাবনা বেশি। এ মাসে এক বা দুটি তীব্র শৈত্যপ্রবাহও হতে পারে। তখন তাপমাত্রা ৪ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসতে পারে বলে জানান তিনি।

তিন মাসে শেষরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন এলাকায় এবং নদ-নদীর অববাহিকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। অন্য এলাকাগুলোতে হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশার সম্ভাবনা রয়েছে।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঘন কুয়াশার কারণে দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য কমে আসতে পারে। এতে শীতের অনুভূতি বাড়বে। তবে সামগ্রিকভাবে এ সময়ে দিন ও রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকতে পারে।

এর কারণ ব্যাখ্যা করে ড. আবুল কালাম মল্লিক বলেন, “এল নিনো সক্রিয় থাকা এবং বৈশ্বিক উষ্ণতার প্রভাবে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ায় তাপমাত্রা তুলনামূলক বেশি থাকতে পারে। এ কারণে এবারের শীত মৌসুমে গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে কিছু সময় তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে শৈত্যপ্রবাহ দেখা দিতে পারে।”

তিনি আরও বলেন, “শৈত্যপ্রবাহ থাকলেও অতি তীব্র শৈত্যপ্রবাহের দিনসংখ্যা, মাত্রা ও স্থায়িত্ব তুলনামূলক কম হতে পারে। সব মিলিয়ে এবারের শীত মৌসুম কিছুটা উষ্ণ থাকতে পারে।”

এল নিনো সক্রিয় থাকায় শৈত্যপ্রবাহের সংখ্যা ও স্থায়িত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে উল্লেখ করে এই আবহাওয়াবিদ বলেন, “এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। তবে সামগ্রিকভাবে কিছুটা উষ্ণ শীতের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।”

শীতের পাশাপাশি আগামী তিন মাসে বঙ্গোপসাগরে ২ থেকে ৪টি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে এক বা দুটি লঘুচাপ ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে ড. আবুল কালাম মল্লিক বলেন, “অক্টোবর ও নভেম্বর মাস সাধারণত ঘূর্ণিঝড়প্রবণ। প্রতিবছর এ সময় বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ তৈরি হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এসব লঘুচাপ শক্তি সঞ্চয় করে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়।”

তিনি বলেন, “এ সময় সূর্যের দক্ষিণায়নের কারণে দিনের দৈর্ঘ্য কমে এবং রাতের দৈর্ঘ্য বাড়ে। একইসঙ্গে বঙ্গোপসাগর এলাকায় সূর্যের আলোর প্রাপ্যতা বেশি থাকায় সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বাড়ে।”

এটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হলেও প্রতিবছর এমন পরিস্থিতি তৈরি হয় না বলে জানান তিনি। এ ধরনের ব্যবস্থাকে ট্রানজিয়েন্ট বা ক্ষণস্থায়ী সিস্টেম বলা হয়।

বৃষ্টিপাতের বিষয়ে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী তিন মাসে দেশে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হতে পারে। বিভাগভিত্তিক হিসাবে, নভেম্বরে চট্টগ্রাম বিভাগে সবচেয়ে বেশি ৩৫ থেকে ৪০ মিলিমিটার বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বরিশাল বিভাগে ৩০ থেকে ৪০ মিলিমিটার বৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া ঢাকা, সিলেট ও খুলনা বিভাগে ১৫ থেকে ২৫ মিলিমিটার, ময়মনসিংহ ও রাজশাহী বিভাগে ১০ থেকে ১৫ মিলিমিটার এবং রংপুর বিভাগে ৪ থেকে ৮ মিলিমিটার বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে বৃষ্টির পরিমাণ আরও কমতে পারে। ডিসেম্বরে ঢাকা বিভাগে ৮ থেকে ১০ মিলিমিটার এবং সিলেট বিভাগে ১০ থেকে ১৫ মিলিমিটার বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। জানুয়ারিতে খুলনা বিভাগে ১০ থেকে ১৪ মিলিমিটার এবং ঢাকা ও অন্যান্য বিভাগে ৬ থেকে ১০ মিলিমিটার বৃষ্টি হতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আবহাওয়ার বিভিন্ন উপাত্ত, ঊর্ধ্বাকাশের আবহাওয়ার বিন্যাস, জলবায়ু মডেল এবং বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা অনুমোদিত আন্তর্জাতিক কেন্দ্রগুলোর মডেল পূর্বাভাস বিশ্লেষণ করে এই পূর্বাভাস তৈরি করা হয়েছে। এতে এল নিনো ও লা নিনা পরিস্থিতিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস তৈরির প্রক্রিয়া সম্পর্কে ড. মল্লিক বলেন, “১৯৪৮ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ সৃষ্টির তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, এ সময় গড়ে এক থেকে তিনটি লঘুচাপ তৈরি হয়। এর কোনো কোনোটি শক্তি সঞ্চয় করে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। দীর্ঘ সময়ের এমন গড় পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করেই দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস দেওয়া হয়।”

তবে এ ধরনের পূর্বাভাসে অনিশ্চয়তা বেশি থাকে বলে জানান তিনি। এ কারণে দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসের পাশাপাশি নিয়মিত দৈনন্দিন আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুসরণের পরামর্শ দেন এই আবহাওয়াবিদ।

এদিকে, গত অক্টোবর মাসে দেশে স্বাভাবিকের তুলনায় ৬৮% কম বৃষ্টিপাত হয়েছে। ওই মাসে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৭.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয় সিলেটে, ১৭ অক্টোবর। আর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ১৫.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ২৭ অক্টোবর।

গত মাসে দেশের সর্বোচ্চ, সর্বনিম্ন ও গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় যথাক্রমে ১.৮, ০.৪ ও ১.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল।

   

About

Popular Links

x