Friday, June 05, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

শ্রেণিকক্ষের সঙ্কট-শিক্ষকের অভাবে ভুগছে পিরোজপুরের শতবর্ষী বালিকা বিদ্যালয়টি

নানা সঙ্কটে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে ১৯০৭ সালে প্রতিষ্ঠিত পিরোজপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের

আপডেট : ১১ জানুয়ারি ২০২৩, ১০:১১ পিএম

প্রয়োজনের তুলনায় অর্ধেক শ্রেণিকক্ষ, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ আর  শিক্ষক স্বল্পতা নিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে পাঠদান। তিনটি বিভাগে আটটি শ্রেণির প্রায় ১,৭০০ শিক্ষার্থীর জন্য ২৬টি কক্ষের প্রয়োজন, আছে সাকুল্যে ১২টি। শতবর্ষী এই বিদ্যায়তনে ৪৯টি পদের বিপরীতে শিক্ষক রয়েছেন মাত্র ৩০ জন।

বলা হচ্ছে পিরোজপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের কথা। ঐতিহ্যবাহী এ বিদ্যালয়টি ১৯০৭ সালে বলেশ্বর ও দামোদর নদের তীরে প্রতিষ্ঠিত হয়। শুরুতে পড়াশোনার মান ও ফলাফলে সুখ্যাতি অর্জন করে দক্ষিণবঙ্গের এ প্রাচীন বিদ্যাপীঠ। 

সময়ের ব্যবধানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ে। এরই মধ্যে ২০১৯ সালের দিকে একটি অতি পুরনো ভবন ভেঙে ফেলা হয়। এতে দেখা দেয় শ্রেণিকক্ষের সংকট।

বিদ্যালয় সূত্র জানায়, কোনো কোনো শ্রেণিতে দুই শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। এমন ক্ষেত্রে দুটি শাখার ছাত্রীদের এক কক্ষেই গাদাগাদি করে বসতে হয়। ফলে পড়াশোনায় মারাত্মক বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। এদিকে, কক্ষের অভাবে ভেঙে ফেলা ভবনের আসবাবপত্র রাখা হয়েছে খোলা আকাশের নিচে। অযত্নে সেগুলো ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দীলিপ কুমার মৃধা বলেন, “একাডেমিক ভবনের সংকটের পাশাপাশি শিক্ষক স্বল্পতা রয়েছে বিদ্যালয়ে। নবম-দশম শ্রেণিতে বিজ্ঞান, বাণিজ্য আর মানবিক শাখা রয়েছে। তবে বাধ্য একই কক্ষে ভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের পাঠদান করতে হচ্ছে। এতে শিক্ষার গুণগত মান রক্ষা করা যাচ্ছে না।”

তিনি আরও বলেন, “স্কুলের সীমানা প্রাচীরও ভাঙা। ফলে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি নিরাপত্তা সঙ্কট রয়েছে পুরো বিদ্যালয়ের। অন্যদিকে ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভালো না থাকায় বর্ষাকালে মাঠে পানি জমে। এ কারণে সৃষ্ট অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে স্বাস্থ্যঝুঁকিও রয়েছে।

অন্যান্য সরকারি বিদ্যাপীঠের মতো প্রধান শিক্ষকের জন্য কোনো বাসভবন নেই বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

প্রধান শিক্ষক জানান, ইংরেজি বিষয়ের জন্য আটজন শিক্ষকের পদ রয়েছে তার বিদ্যালয়ে, তবে বর্তমানে কর্মরত তিনজন। একইভাবে গণিতে ছয়জনের বিপরীতে চারজন, ইসলাম শিক্ষায় চারজনের বিপরীতে তিনজন, ভৌত বিজ্ঞানে চারজনের বিপরীতে দুইজন। জীববিজ্ঞানে চারজনের বিপরীতে একজন, ভুগোলে দুইজনের বিপরীতে একজন, ব্যবসায় শিক্ষায় চারজনের বিপরীতে তিনজন শিক্ষক কর্মরত আছেন। আর সামাজিক বিজ্ঞান বিষয়ে চারজন শিক্ষকের সবগুলো পদই ফাঁকা এ বিদ্যালয়ে। 

পিরোজপুর শহরের সি আই পাড়া এলাকার বাসিন্দা শেখ হাসান মামুন ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “আমার এক নিকটাত্মীয়ের সন্তান এ বিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। তাকে ভর্তি করাতে এসে জানলাম এ বিদ্যালয়ে একডেমিক ভবনের সংকটের কথা। বিষয়টি দুঃখজনক।”

এ বিষয়ে পিরোজপুর জেলা শিক্ষা অফিসার মো. ইদ্রিস আলী আযিযী বলেন, “আমি পিরোজপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ২০১৮ সালের ৮ নভেম্বর থেকে ২০২১ সালের ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে ছিলাম। যোগদানের পরে জানতে পারি, এ বিদ্যালয়ের একটি ভবন ২০০৭ সালে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছিল। তখন আমি চেষ্টা চালিয়ে তৎকালীন জেলা প্রশাসক আবু আলী মো. সাজ্জাদ হোসেনের সহযোগিতায় পরিত্যক্ত ভবনটি  দ্রুততম সময়ে অপসারণ করি। পাঠদানের জন্য সেখানে নতুন একটি ভবন খুবই জরুরি।”

তিনি আরও বলেন, “জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির এ বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের দুরাবস্থাসহ অন্যান্য সঙ্কটের কথা  তুলে ধরা হয়েছে।”

জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী বলরাম কুমার মন্ডল জানান, “পিরোজপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ভবন সঙ্কটে পাঠদান বিঘ্ন হওয়ার বিষয়টি প্রধান শিক্ষক আমাকে জানিয়েছেন। এ বিদ্যালয়ে নতুন একটি একাডেমিক ভবন নির্মাণের চেষ্টা চলছে। বিষয়টি প্রাণিসম্পদ মন্ত্রীও (স্থানীয় সংসদ সদস্য) জানেন।”

এ বিষয়ে পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য এবং প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেন, “আমি গত ১ জানুয়ারি পিরোজপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে বই বিতরণ অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম। তখন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক একাডেমিক ভবনসহ নানা সঙ্কটের কথা তুলে ধরেছেন। বিদ্যালয়ে একটি নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণের পাশাপাশি দ্রুত সময়ের মধ্যে যাতে অন্যান্য সমস্যা দূর হয় সে বিষয়ে চেষ্টা করছি।”

   

About

Popular Links

x