Wednesday, July 22, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

উৎসব এলেই বাড়ে পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যু

মূলত উৎসবের সময় বাবা-মাসহ পরিবারের বড়রা ব্যস্ত থাকেন, তাদের অসতর্কতার কারণে শিশুরা অপরিচিত জায়গায় চলে যায় ও দুর্ঘটনার শিকার হয়

আপডেট : ২৫ জুন ২০২৩, ০৪:১৬ পিএম

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার তেঁতুলিয়া নদীতে গত ২৯ এপ্রিল পরিবারের সঙ্গে বিয়ের উৎসবে গিয়েছিল আট বছর বয়সী দুই শিশু খাদিজা ও মারিয়া। ফেরার সময় ডুবে যায় নৌযানটি। নিখোঁজ হয় দুটি শিশুসহ চারজন। দুইদিন পর প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে দক্ষিণের বন্দরচর এলাকায় ভাসমান অবস্থায় একে একে দুজনেরই মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে গত ৩০ এপ্রিল বাড়ির পাশে পানিতে ডুবে মারা যায় রাতুল ইসলাম ফাহিম নামে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোর। মৃতের বাবা ফারুক মিয়া জানান, তার সন্তান মানসিক ভারসাম্যহীন ছিল। ঘটনাটি ঘটে ঈদের মাত্র এক সপ্তাহ পরে। 

ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স ফর ড্রাউনিং প্রিভেনশন (এনএডিপি) বলছে, উৎসবের সময় শিশুদের ডুবে মৃত্যুর ঘটনা বাড়ে। বিশেষ করে ঈদে। এই সময়গুলোতে পাঁচ বছরের কম বয়সী অন্তত ৩০টি শিশু প্রতিদিন পানিতে পড়ে যায়।

কারণ ব্যাখ্যা করে সংস্থাটি বলছে, মূলত উৎসবের সময় বাবা-মাসহ পরিবারের বড়রা ব্যস্ত থাকেন। তাদের অসতর্কতার কারণে শিশুরা অপরিচিত জায়গায় চলে যায় এবং দুর্ঘটনার শিকার হয়।

এনএডিপির আহ্বায়ক সদরুল হাসান মজুমদার বলেন, উৎসবের সময় অনেকেই গ্রামের বাড়ি যান। দেখা যায়, তাদের শিশু সন্তানরা গ্রামের জীবনে অভ্যস্ত নয়। তারা সাঁতার জানে না। ফলে ডুবে মারা যায়।

২০২২ সালে ঈদ-উল-আজহার সময় চট্টগ্রাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, শেরপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও সিলেটে পানিতে ডুবে আট শিশুর মৃত্যু হয়। এনএডিপির তথ্য বলছে, প্রায় ৬৮% ডুবে মৃত্যুর ঘটনা ঘটে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টার মধ্যে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ডুবে যাওয়ার ঘটনা বাড়ির কাছের জলাশয়ে। দেখা গেছে, শিশুর ডুবে যাওয়ার সময় অভিভাবক বিশেষ করে মায়েরা বাড়ির অন্য কাজে ব্যস্ত ছিলেন।

বিএসএমএমইউর সাবেক অধ্যাপক মো. আব্দুল জলিল চৌধুরী বলেন, ডুবে যাওয়ার বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। না হলে এটি কমানো যাবে না। উৎসবের সময়েও বাড়ির বড়দের শিশুদের দিকে নজর রাখতে হবে। ইউনিসেফ বলছে, বাংলাদেশে প্রতি বছর ১৪ হাজারের বেশি শিশু পানিতে ডুবে মারা যায়।

বিষয়টি নিয়ে তেমন আলোচনা না হলেও জনস্বাস্থ্যের প্রতি এটি অন্যতম বড় একটি হুমকি।

বাংলাদেশে প্রতি বছর বন্যার সময় স্থলভাগের বড় একটি অংশ তলিয়ে যায়। ফলে সাঁতার না জানলে এটি বড় হুমকির কারণ হতে পারে। এমনকি যারা পানির কাছাকাছি থাকে, এমন শিশুরাও ডুবে যাওয়ার হুমকিতে রয়েছে।

মৃত্যুর মিছিলে অনূর্ধ্ব-৯ বছর বয়সী শিশু

এ বছরের শুরুতে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২২ সালে ৮৮৬টি নৌ দুর্ঘটনায় ১,১৩০ জনের মৃত্যু হয়। এর মধ্যে ৮১% শিশুর বয়স নয় বছরের কম। যার ৬১% শিশুর বয়স ছিল চার বছরের কম।

২০২০ ও ২০২১ সালে ৯ বছরের কম বয়সী শিশুর ডুবে মৃত্যুর হার ছিল যথাক্রমে ৬৫% এবং ৭৩%। এ দুই বছরে মৃত্যুর সংখ্যা যথাক্রমে ৮০৭ ও ১,৩৪৭ জন।

২০২২ সালে ডুবে মৃত্যুর ৯৪%-এর বয়স ছিল ১৮ বছরের কম। তাদের মধ্যে ৫৫৬ জনের বয়স চার বছরের কম। ৩৬৩ জনের বয়স ৫ থেকে ৯ বছর। ১০২ জনের বয়স ১০-১৪ ও ৪৩ জনের বয়স ১৫-১৮ বছর। ৬৬ জন ছিলেন ১৮ বছরের বেশি বয়সী।

   

About

Popular Links

x