Friday, June 05, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

যুদ্ধাপরাধী সাঈদীকে সেবা দেওয়া চিকিৎসককে হত্যার হুমকি

যুদ্ধাপরাধের মামলায় জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছিলেন আদালত

আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০২৩, ০৯:৩৪ এএম

মানবতাবিরোধী অপরাধে আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে চিকিৎসা দেওয়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালের এক চিকিৎসককে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে মঙ্গলবার (১৫ আগস্ট) রাতে রাজধানীর ধানমণ্ডি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বঙ্গবন্ধু মেডিকেলের হৃদরোগ বিভাগের ওই অধ্যাপক।

জিডিতে তিনি উল্লেখ করেন, ১৩ আগস্ট মানবতাবিরোধী অপরাধে আমৃত্যু কারাদণ্ড পাওয়া আসামি দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী অসুস্থ অবস্থায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি হন। হৃদরোগ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক চৌধুরী মেশকাত আহমেদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৪ আগস্ট রাত ৮টা ৪০ মিনিটে মারা যান। সেই চিকিৎসক দলের একজন বিশেষজ্ঞ হিসেবে ছিলেন তিনি।

অভিযোগে তিনি বলেন, “কতিপয় ব্যক্তি সামাজিক মাধ্যম এবং ইউটিউবে বিভিন্ন আইডি থেকে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছে। ফেসবুক, মেসেঞ্জারে বিভিন্ন গ্রুপের পাশাপাশি আমার ব্যক্তিগত আইডিতে ভয়-ভীতি এবং প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। আমি এসব ব্যক্তিদের এ ধরনের আচরণে ভীত, শঙ্কিত।”

কয়েকটি ফেসবুক এবং ইউটিউব ব্যবহারকারীর লিংক উল্লেখ করে তিনি জানান, তাদের অনুসারী ব্যক্তিরা যেকোনো সময় তার নিজের এবং পরিবারের সদস্যদের খুন, জখনসহ বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে।

ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পারভেজ ইসলাম জিডির বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, “সাধারণ ডায়েরি গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”

যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে প্রথম অভিযুক্ত ব্যক্তি হিসাবে জামায়াতের নায়েবে আমির সাঈদীর বিচার শুরু হয়েছিল ২০১১ সালের ৩ অক্টোবর। ৮০ বছর বয়সী সাঈদী তার আগে থেকে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে ছিলেন।

আরও পড়ুন: সাঈদীকে যুদ্ধাপরাধী বলায় সাংবাদিকদের ওপর হামলা

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট, নির্যাতন ও ধর্মান্তরে বাধ্য করার মতো ২০টি মানবতাবিরোধী ঘটনার অভিযোগ আনা হয় সাঈদীর বিরুদ্ধে।

২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি এসব মামলায় রায় ঘোষণা করে ট্রাইবুনাল। ঘোষিত রায়ে বলা হয়, ১৯৭১ সালে সংঘটিত হত্যা, লুণ্ঠন, নির্যাতনসহ অন্তত ২০টি মানবতাবিরোধী অভিযোগের মধ্যে আটটি অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে।

এর মধ্যে দুটো অপরাধে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। যার মধ্যে রয়েছে পিরোজপুরে ইব্রাহিম কুট্টি হত্যা এবং বিসা বালি হত্যা।

ওই রায়ের পর দেশজুড়ে সহিংসতা চালায় জামায়াত ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের কর্মীরা। ওই তাণ্ডবে প্রথম তিন দিনেই নিহত হন অন্তত ৭০ জন। এছাড়া বহু গাড়ি-দোকানপাট ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ, হিন্দুদের মন্দির-ঘরবাড়ি ভাংচুর করা হয়।

সাঈদী আপিল করলে ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে রায় দেয়। তাতে সাজা কমে আমৃত্যু কারাদণ্ডের আদেশ আসে। ওই রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন হলেও তাতে কোনো পরিবর্তন আসেনি।

দেলাওয়ার হোসেন সাঈদী গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি ছিলেন। বুকের ব্যথায় অসুস্থ হয়ে পড়ায় রবিবার সেখান থেকে তাকে বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে আনা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার তার মৃত্যু হয়।

   

About

Popular Links

x