Wednesday, July 22, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

কফি কি আসলেই রক্তচাপ বা ব্লাড প্রেশার বাড়ায়?

সিস্টোলিক রক্তচাপ ১৬০ বা ডায়াস্টোলিক ১০০ হলে দিনে এক কাপের বেশি কফি না খাওয়াই শ্রেয় 

আপডেট : ২২ জুলাই ২০২৬, ০১:৪২ পিএম

কফি স্বল্পমেয়াদে রক্তচাপ বা ব্লাড প্রেশার বাড়িয়ে দিতে পারে। যদি নিয়মিত কফি পানে অভ্যস্ততা না থাকে কিংবা আগে থেকেই উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা থাকে। 

তবে এর মানে এই নয় যে- উচ্চ রক্তচাপ থাকলে বা হার্টের স্বাস্থ্যের কথা ভেবে কফি পুরোপুরি ছেড়ে দিতে হবে। 

কফি মানুষের জীবনে প্রবেশ করে প্রায় ৬০০ বছর আগে। সেই থেকে এটি আমাদের শিরা-উপশিরায় মিশে আছে। এখন প্রতি বছর গড়ে একজন মানুষ প্রায় দুই কেজি কফি পান করেন। একেকজনের কফি বানানোর পদ্ধতি বা স্বাদ একেক রকম। তবে কেউ কতটা কফি পান করতে পছন্দ করেন, তা অনেকটাই নির্ভর করে তার জিন এবং মস্তিষ্কের গঠনতন্ত্রের ওপর। 

কফি রক্তচাপ বা ব্লাড প্রেশার বাড়িয়ে দিতে পারে। বিশেষ করে যদি নিয়মিত কফি পানে অভ্যস্ততা না থাকে কিংবা আগে থেকেই উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা থাকে। 

তবে এর মানে এই নয় যে, উচ্চ রক্তচাপ থাকলে বা হার্টের স্বাস্থ্যের কথা ভেবে কফি পুরোপুরি ছেড়ে দিতে হবে। আসল কথা হলো পরিমিতিবোধ। 

উচ্চ রক্তচাপ-

হৃৎপিণ্ড যখন পাম্প করে, তখন রক্ত ধমনির দেওয়ালে যে চাপ দেয়, সেটাই রক্তচাপ।  স্বাভাবিক রক্তচাপ বলতে বোঝায় সিস্টোলিক ১২০ মিলিমিটার এবং ডায়াস্টোলিক ৮০ মিলিমিটার। 

যদি রিডিং বা মাপ নিয়মিত ১৪০/৯০ বা তার বেশি হয়, তবে একে উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন বলা হয়। 

রক্তচাপের মাপ জানা খুবই জরুরি। কারণ হাইপারটেনশনের কোনো লক্ষণ থাকে না। এটি নিয়ন্ত্রণে না থাকলে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক এবং কিডনি ও হার্টের রোগ হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। 

প্রাপ্তবয়স্কদের প্রায় ৩১ শতাংশই উচ্চ রক্তচাপে ভোগেন, অথচ এদের অর্ধেকই জানেন না যে তাদের এই সমস্যা আছে। 

কফি যেভাবে রক্তচাপ প্রভাবিত করে-

কফিতে থাকা ক্যাফেইন পেশি উদ্দীপক হিসেবে কাজ করে। এটি কিছু মানুষের হৃদস্পন্দন বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে অনিয়মিত হৃদস্পন্দন বা অ্যারিদমিয়া হতে পারে। 

ক্যাফেইন অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি থেকে অ্যাড্রেনালিন হরমোন নিঃসরণ বাড়ায়। এতে হৃদস্পন্দন দ্রুত হয় এবং রক্তনালি সংকুচিত হয়ে যায়। ফলে রক্তচাপ বেড়ে যায়।

এক কাপ কফি পান করার ৩০ মিনিট থেকে দুই ঘণ্টার মধ্যে রক্তে ক্যাফেইনের মাত্রা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। ক্যাফেইনের প্রভাব শরীরে ৩ থেকে ৬ ঘণ্টা থাকে। এই সময়ের মধ্যে রক্তে এর মাত্রা অর্ধেকে নেমে আসে। 

তবে এই সময়সীমা বয়স, জিনগত বৈশিষ্ট্য এবং কফি পানের অভ্যাসের ওপর নির্ভর করে। যেমন শিশুদের লিভার ছোট ও অপরিণত হওয়ায় তারা ক্যাফেইন দ্রুত হজম করতে পারে না। আবার যারা নিয়মিত কফি খান, তাদের শরীর থেকে এটি দ্রুত বেরিয়ে যায়। 

গবেষণায় দেখা গেছে, কফি (পাশাপাশি কোলা, এনার্জি ড্রিংকস ও চকলেট) খাওয়ার পর সিস্টোলিক রক্তচাপ ৩-১৫ এবং ডায়াস্টোলিক রক্তচাপ ৪-১৩ পর্যন্ত বাড়তে পারে। 

যাদের আগে থেকেই উচ্চ রক্তচাপ, হার্ট বা লিভারের রোগ আছে, তাদের ক্ষেত্রে রক্তচাপ বৃদ্ধি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে পান করা ভালো।

তবে কারও সিস্টোলিক রক্তচাপ ১৬০ বা ডায়াস্টোলিক ১০০-এর বেশি হলে দিনে এক কাপের বেশি কফি না খাওয়াই শ্রেয় এবং এ বিষয়ে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। 

   

About

Popular Links

x