Wednesday, July 22, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ঢাকার সব শপিংমলে নেই ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার

রাজধানীর তিনটি বড় শপিংমলে আছে ব্রেস্টফিডিং কর্নার

আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০২৩, ০৩:০২ পিএম

জন্মের পর শিশুর প্রধান খাবার মায়ের বুকের দুধ। বুকের দুধে থাকা অপরিহার্য উপাদানগুলো শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পাথেয়।

ইউনিসেফের মতে, জন্মের প্রথম ঘণ্টার মধ্যে নবজাতককে বুকের দুধ খাওয়ানো উচিত। এটি নবজতাকের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জন্মের পর মাতৃদুগ্ধের অভাব শিশুর জীবনের জন্যও হুমকি হতে পারে। মাতৃদুগ্ধ শিশুদের ডায়াবেটিস, হাঁপানি, হৃদরোগ এবং স্থূলতাসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা থেকে রক্ষা করে। এছাড়া এই প্রক্রিয়া মা-শিশুর সম্পর্ক এবং উভয়ের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।

ধনী-দরিদ্র উভয় ধরনের দেশের ওপর পরিচালিত এক সমীক্ষায় বুকের দুধ পান করানোর সুবিধাগুলো তুলে ধরা হয়েছে। ২০১৬  সালে দ্য ল্যানসেটে প্রকাশিত সমীক্ষাটিতে দেখা যায়, বিশ্বব্যাপী স্তন্যপান করানোর হার সর্বস্তরে বেড়েছে। ফলে বছরে ৮ লাখ ২৩ হাজার পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু এবং ২০ হাজার মা’কে স্তন ক্যান্সারে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচানো যেতে পারে।

ঢাকার নামিদামি শপিংমলগুলোতে প্রতিদিন ভিড় করেন হাজার হাজার মানুষ। এই ভিড়ের মাঝে প্রায়ই দেখা যায় দুগ্ধপোষ্য শিশুকে কোলে নিয়ে শপিং করছেন মা।

কথা হলো এসব শপিংমলে মায়েরা কি শপিংমলে তার শিশুকে দুধ পান করাতে পারেন?

রাজধানীর তিনটি বড় শপিংমলে আছে ব্রেস্টফিডিং কর্নার।

বসুন্ধরা সিটি কমপ্লেক্সের চতুর্থ তলায় নারীদের নামাজের জায়গার ঠিক পাশে আছে একটি ব্রেস্টফিডিং কর্নার। প্রতিটি কক্ষের সামনে পর্দা টাঙানো। সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়াতে মায়েদের যেতে হয় চতুর্থ তলায় যেতে হবে।

তবে শপিংমলটির প্রত্যেক তলার “ডি” ব্লকে বাথরুমের সঙ্গে আছে শিশুদের ডায়পার পরিবর্তনের জায়গা।

বসুন্ধরা শপিংমলে কথা হয় তানজিলা নামে এক মায়ের সঙ্গে। ঢাকা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, “বাচ্চাদের জন্য সব মার্কেটেই একটি করে জায়গা থাকা প্রয়োজন। এখানে (বসুন্ধরা সিটি) বাচ্চাদের ডায়পার পরিবর্তনে জায়গাটি খুবই ছোট। এখানে প্রচুর মানুষ আসেন। তাই এটি আরও বড় করা প্রয়োজন।”

ঢাকার আরেকটি বড় শপিংমল যমুনা ফিউচার পার্কে প্রত্যেক তলায়ই নারীদের বাথরুমের সামনে আছে “বেবি চেঞ্জিং রুম”। কক্ষটি একটি পর্দা দিয়ে ঢাকা। রয়েছে শিশুদের ডায়পার পরিবর্তন বা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য আলাদা বেড।

যমুনা ফিউচার পার্কে কথা হয় ইভা নামে এক নারীর সঙ্গে। তিনি বলেন, “এ শপিংমলের বাথরুমের সাথে বেবি চেঞ্জিং রুমে গিয়েছিলাম। সব ফ্লোরে আছে কি-না জানা নেই। সব ফ্লোরে থাকলে ভালো হতো।”

সীমান্ত স্কয়ারের চতুর্থ তলায়ও রয়েছে একটি ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার। তবে সেটি শপিংমলের তুলনায় বেশ ছোট।

সুপরিচিত মার্কেট গাউসিয়া, নূর ম্যানশন, চিশতিয়া, ইসমাইল ম্যানশনের মধ্যে শুধুমাত্র নুর ম্যানশনে দেখা গেছে ব্রেস্টফিডিংয়ের ব্যবস্থা। মার্কেটটির তৃতীয় তলায় পাওয়া যায় নারীদের বাথরুমের পাশে কিছু বেঞ্চ রাখা হয়েছে এজন্য।

নুর ম্যানশন মার্কেটের সহ-সভাপতি হাজী মো. শাহাদাত হোসেন খান ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “আমাদের এখানে ব্র্যাকের সহায়তায় একটি ব্রেস্টফিডিং কর্নার করা হয়েছে। তবে এটি পর্যাপ্ত নয়। আমাদের এ বিষয়টি নিয়ে ভাবতে হবে। যেহেতু আমাদের মার্কেটে নারীরা বেশি আসেন তাই এই বিষয়টি খুবই প্রয়োজনীয়। আমরা আগামীতে এর সম্প্রসারণ করব।”

শপিংমলগুলোতে ব্রেস্ট ফিডিংয়ের সুবিধা নিয়ে রয়েছে প্রচার এবং সচেতনতার অভাব। কেনাকাটা করতে আসা অনেকেই ব্রেস্টফিডিং কর্নারের কথা জানেনই না।

এ বিষয়ে ইভা বলেন, “যমুনায় ব্রেস্টফিডিং কর্নার থাকলেও অন্য কোথাও আমি এ ব্যবস্থা পাইনি।”

নুর ম্যানশনের একজন মায়ের (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) সাথে কথা হলে তিনি জানান, “আমার বাচ্চাকে ব্রেস্টফিড করাতে হয়। তবে এ মার্কেটে কোনো ব্রেস্টফিডিংয়ের ব্যবস্থা আছে কি-না জানা নেই।”

ব্রেস্ট ফিডিং সুবিধা নিয়ে প্রচার এবং সচেতনতার অভাব নিয়ে জানতে চাইলে সহ-সভাপতি হাজী মো. শাহাদাত হোসেন খান বলেন, “আমরা সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি এ বিষয়ে প্রচার বাড়ানোর চেষ্টা করব। যাতে সবাই বিষয়টি জানতে পারে যে আমাদের মার্কেটেও ব্রেস্টফিডিংয়ের ব্যবস্থা আছে।”

এদিকে, আনাম র‍্যাংগস, রাপা প্লাজা, আড়ং, মেট্রো শপিংমলের মতো উল্লেখযোগ্য মলগুলোতে কোনো ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার দেখা যায়নি।

দুই বছর পর্যন্ত শিশুকে প্রতি দুই ঘণ্টা পর পর বুকের দুধ খাওয়ানো বাঞ্ছনীয়।

এ বিষয়ে ইউনিসেফের হেলথ অফিসার সাবরিনা রাফি জানান, “দুই বছর পর্যন্ত শিশুকে দুই ঘণ্টা পর পর মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানো খুবই প্রয়োজন। শিশু পর্যাপ্ত পরিমাণে মায়ের বুকের দুধ না পেলে তা শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।”

বছরের অন্যান্য সময়ের তুলনায় উৎসব-পার্বণে ক্রেতার সংখ্যা বাড়ে শপিংমলগুলোতে। যমুনা কিংবা বসুন্ধরার মতো বিশাল আকৃতির শপিং সেন্টারগুলোর তুলনায় ব্রেস্ট ফিডিং কর্নারগুলোর সুযোগ-সুবিধা খুবই নগণ্য।

শপিং করতে আসা মা তানজিলা আরও জানান, “বিভিন্ন গার্মেন্টসে ডে-কেয়ার দেখা যায়। তেমনি মার্কেটগুলোতে থাকলে সুবিধা হয়।”

এ বিষয়ে ইউনিসেফ কর্মকর্তা সাবরিনা রাফি বলেন, “প্রতিটি শপিংমলে ব্রেস্টফিডিং কর্নার করা খুবই প্রয়োজন। বড় বড় মার্কেটগুলোতে ব্রেস্টফিডিং কর্নার দেখা যায়। তবে সব মার্কেটে বা শপিং মলে ব্রেস্টফিডিং কর্নার থাকা খুবই প্রয়োজনীয়। একজন মা যেন নিশ্চিন্তে তার সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়াতে পারে তা নিশ্চিত করা খুবই প্রয়োজন। এখন অনেক মায়েরাই চাকরি করেন, সেক্ষেত্রে সব কর্মক্ষেত্রেই ব্রেস্টফিডিং কর্নার থাকা প্রয়োজন। পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে প্রয়োজন ডে-কেয়ার সেন্টারেরও। শিশুদের জন্য শুধুমাত্র একটি কক্ষ নয় যথাযথ যত্নের প্রয়োজন।”

 
   

About

Popular Links

x