Tuesday, May 21, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

অগ্রণী ব্যাংকের এমডিসহ পাঁচ কর্মকর্তার কারাদণ্ডের রায় স্থগিত

এর আগে, আদালত অবমাননার কারণে অগ্রণী ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তাদের হাইকোর্ট তিন মাসের দেওয়ানি বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়

আপডেট : ২৫ জানুয়ারি ২০২৪, ০৫:১০ পিএম

আদালতের আদেশ অমান্য করায় অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. মুরশেদুল কবীরসহ পাঁচ শীর্ষ কর্মকর্তাকে ৩ মাসের কারাদণ্ড দিয়ে হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছেন, সেটি স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত।

হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে করা আবেদনের শুনানি নিয়ে বৃহস্পতিবার (২৫ জানুয়ারি) আপিল বিভাগের বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বাধীন চেম্বার জজ আদালত এ আদেশ দেন।

আদালতে অগ্রণী ব্যাংকের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন। ব্যাংক কর্মকর্তাদের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মো. মোমতাজ উদ্দিন ফকির, অ্যাডভোকেট শামীম খালেদ ও ব্যারিস্টার তানজীবুল আলম।

আইনজীবীরা জানান, চেম্বার আদালতের আদেশের ফলে আপাতত ১৮ মার্চ পর্যন্ত হাইকোর্টের রায় স্থগিত থাকবে। ফলে এই শীর্ষ কর্মকর্তাদেরকে এই সময়ের মধ্যে বিচারিক আদালতে অত্মসমর্পণ করতে হবে না এবং পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করতে পারবে না। 

আদালতের আদেশ অমান্য করে ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোর (সিআইবি) তালিকায় মুন গ্রুপের নাম অন্তর্ভুক্ত করায় গত ২৩ জানুয়ারি (মঙ্গলবার) অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোরশেদুল কবিরসহ পাঁচ শীর্ষ কর্মকর্তাকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়ে রায় প্রকাশ করেন হাইকোর্ট।

অন্য চার কর্মকর্তা হলেন অগ্রণী ব্যাংকের প্রিন্সিপাল শাখার জেনারেল ম্যানেজার মো. ফজলুল করিম, অবসরোত্তর ছুটিতে (এলপিআর) যাওয়া আরেক জেনারেল ম্যানেজার এ কে এম ফজলুল হক, অগ্রণী ব্যাংকে ডেপুটি ম্যানেজার-২ শ্যামল কৃষ্ণ সাহা, ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর-১ মিসেস ওয়াহিদা বেগম।

মুন গ্রুপের আইনজীবী অ্যাডভোকেট নুরুল আমীন বলেছিলেন, আদালত অবমাননার কারণে অগ্রণী ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তাদের হাইকোর্ট তিন মাসের দেওয়ানি বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন। একইসঙ্গে তাদের সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ দিয়েছেন। বিস্তারিত পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হলে জানা যাবে।

পরে হাইকোর্টের সাজার রায়ের বিরুদ্ধে বুধবার আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালতে আবেদন করা হয়।

জানা গেছে, ২০২১ সালের ২০ সেপ্টেম্বর অগ্রণী ব্যাংকের প্রধান শাখা থেকে পাওনার ২৫% কিস্তিতে পরিশোধের জন্য মুন গ্রুপের কাছে চিঠি দেওয়া হয়। চিঠিতে বলা হয়, ২০২১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ঋণের ২৫% পরিশোধ না করলে মুন গ্রুপকে খেলাপি তালিকাভুক্ত করে বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবিতে পাঠানো হবে।

এই ব্যাংকের চিঠির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে নিম্ন আদালতে ঘোষণামূলে ডিক্রি প্রার্থনা করা হয়। একইসঙ্গে ব্যাংকের চিঠির বিরুদ্ধে আদেশ প্রার্থনা করে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয়। নিম্ন আদালত এই আদেশ নামঞ্জুর করেন। এই আদেশের বিরুদ্ধে মুন গ্রুপ হাইকোর্টে বিবিধ আপিল দায়ের করে। হাইকোর্ট ২০২১ সালের ২ ডিসেম্বর ব্যাংকের চিঠির ওপর স্থিতাবস্থা জারি করেন। পাশাপাশি রুল দেন।

এদিকে, নির্ধারিত সময়ে ঋণের ২৫% কিস্তি পরিশোধ না করায় মুন গ্রুপকে খেলাপি তালিকাভুক্ত করে বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবি পাঠায় অগ্রণী ব্যাংক। পরে মুন গ্রুপ অগ্রণী ব্যাংকের এমডিসহ চার নির্বাহীর বিরুদ্ধে ভায়োলেশন মোকাদ্দমা দায়ের করে।

মামলার শুনানি শেষে অগ্রণী ব্যাংকের এমডি, ডিএমডিসহ চার নির্বাহীকে তিন মাসের দেওয়ানি কারাদণ্ড দেন আদালত। আইনজীবীরা জানান, ২০১৭ সাল পর্যন্ত মুন গ্রুপের কাছে অগ্রণী ব্যাংকের ডিক্রিমূলে পাওনা ৫৩৯ কোটি টাকা।

About

Popular Links