নদীরপাড়ে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে ছিলেন অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তি। মৃত ভেবে পুলিশে খবর দেন স্থানীয়রা। পুলিশ এসে নিথর দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এ সময় হঠাৎ তার শরীর নড়ে ওঠে। এরপর তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়।
রবিবার (১১ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার মনতলা এলাকায় অজন্তা রাইস মিলের পেছনে উব্দাখালী নদীর তীরে এ ঘটনা ঘটে।
অজ্ঞাতনামা ওই ব্যক্তিকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ হোসেন সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, রবিবার সকাল ১০টার দিকে স্থানীয় কয়েকজন উপজেলা ডাকবাংলোর বিপরীত পাশে উব্দাখালী নদীর তীরে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তির রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। খবর পেয়ে আরও কয়েকজন পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে আসেন। ওই ব্যক্তিকে মৃত ভেবে তারা বিষয়টি থানার ওসিকে জানান। এরপর সেখানে পৌঁছায় পুলিশ।
বিষয়টি নিয়ে ওসি ফিরোজ হোসেন বলেন, “নদীর তীরে বস্ত্রহীন ও রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা ওই ব্যক্তিকে স্থানীয় লোকজন মৃত ভেবে পুলিশকে খবর দেন। কয়েকজন পুলিশ সদস্য সেখানে গিয়ে আমাকে ফোন দিয়ে জানান, ওই ব্যক্তি মারা গেছেন। পরে আমি সেখানে যাই। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ হাসপাতালে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছিল। হঠাৎ ওই ব্যক্তির চোখ ও হাত নড়েচড়ে ওঠে। দ্রুত তাকে কলমাকান্দা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে ময়মানসিংহ মেডিকেলে নেওয়া হয়।”
ওসি জানান, ওই ব্যক্তির বয়স আনুমানিক ৩০ বছর। তার পিঠে কাঁচিজাতীয় কিছু দিয়ে এল আকৃতির মতো আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, পূর্বশত্রুতাবশত তাকে দুর্বৃত্তরা হত্যার উদ্দেশ্যে মারধর জখম করে মৃত ভেবে ফেলে রেখে যায়। ওই ব্যক্তির পরিচয় শনাক্তসহ বিষয়টি তদন্ত করছে পুলিশ।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “ওই ব্যক্তির পিঠে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন আছে। তার প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক; নড়াচড়া করার মতো শক্তি হারিয়ে ফেলছেন। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।”



