Thursday, June 04, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

“গরুর চামড়া কিনছি ৯০০ টাকা, আড়তদার কয় ৮০০” 

হতাশা প্রকাশ করে কথাগুলো বলছিলেন নড়াইলের লক্ষিপাশার চামড়া বিক্রেতা রনজিত দাস

আপডেট : ৩০ মে ২০২৬, ০৪:৩৯ পিএম

যশোর-খুলনা মহাসড়কের গা ঘেঁসে গড়ে উঠেছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সর্ববৃহৎ চামড়ার বাজার রাজারহাট। এই বাজারে আশপশ থেকে আড়তদাররা আসেন চামড়া কিনতে। 

শনিবার (৩০ মে) দুপুরে এই হাটের এক কোণে ৯০ পিচ গরু ও ৫৫ পিচ খাসির চামড়া এনেছেন নড়াইলের লক্ষিপাশার রনজিত দাস। কাঠফাটা রোদ্দুরে মাথায় গামছা পেছিয়ে হাঁটু গেড়ে বসেছে চামড়ার পাশে। পাশে দাঁড়িয়ে তার বড় ছেলে রোমেন দাস। 

একটু পর পর তার চামড়ার কাছে আড়ৎদাররা আসছেন; আর উল্টে-পাল্টে দেখছেন। তবে আড়ৎদাররা যে দাম বলছেন; তাতে বিক্রি করতে রাজী নন রনজিত। ৫ আড়ৎদার তার কাছে আসলেও কাউকেও কম দামে চামড়া দিতে রাজী হননি তিনি। 

ঢাকা ট্রিবিউনের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে বাজারদর কেমন জানতে চাইলে, তিনি বলেন, “বাড়ি বাড়ি ঘুরে ৫০০ থেকে ৯০০ টাকা পর্যন্ত গরুর চামড়া কিনেছি। আর খাসির চামড়া ৫০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত। এরপর প্রতিটি গরুর চামড়ায় লবণ লেগেছে ১০০ টাকার। খাসির চামড়ায় ২০ টাকা। লবণ শ্রমিক, বাজারে আনা সবমিলিয়ে প্রতিটি চামড়ায় খরচ হয়েছে ২০০ টাকার মতো। অথচ হাটে গরুর চামড়ার সর্বোচ্চ দাম বলছে ৮০০ টাকা। আর খাসির দাম কয় ৫০ টাকা।”  

হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “সরকারের রেট অনুযায়ী আমার প্রতিটি গরুর চামড়ার দাম হয় ১৫০০ থেকে ১৭০০ টাকা। অথচ বাজারে এনে দাম বলছে অর্ধেক। তাদের দামে চামড়া দিলে আসলও থাকবে না।”  

যশোরের রাজারহাটে ঈদ পরবর্তী প্রথম হাট ছিলো শনিবার। কাঁকডাকা ভোর থেকেই খুলনা বিভাগের ১০ জেলা ও ঢাকার গোপালগঞ্জ রাজবাড়ি থেকে মৌসুমি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন যানবাহন ভর্তি করে চামড়া নিয়ে এসেছেন। অন্তত ১৫ হাজার চামড়া উঠলেও বাইরের পাইকার ও ট্যানারি মালিকের প্রতিনিধিরা না আসায় বেঁচাকেনা জমেনি। 

সরকার নির্ধারিত মূল্য উপেক্ষা করে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা অর্ধেকেরও কম দামে চামড়া কিনছেন বলে অভিযোগ করেছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। এতে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, মাদ্রাসা ও এতিমখানাগুলোও। 

সরকার এবার জেলা পর্যায়ে গরুর চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ৬০ টাকা নির্ধারণ করেছে। এ ছাড়া খাসির চামড়া ২৫ থেকে ৩০ টাকা এবং বকরির চামড়া ২২ থেকে ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়। সে হিসাবে মাঝারি গরুর চামড়ার মূল্য হওয়ার কথা ৯৫০ থেকে ১২০০ টাকা এবং বড় গরুর চামড়া ১৫০০ থেকে ২০০০ টাকা পর্যন্ত। 

অথচ যশোরের বাজারে মাঝারি গরুর চামড়া বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৬০০ আর বড় সর্ব্বোচ ৮০০ টাকা। সেই অনুযারি সরকারের নির্ধারিতের চেয়ে যশোরের বাজারে বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ টাকা ফুট। 

চামড়া বিক্রেতাদের অভিযোগ, একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। সরকারি রেট কার্যকরে প্রশাসনের কোনো তদারকি না থাকায় ব্যবসায়ীরা ইচ্ছামতো দাম নির্ধারণ করছেন। 

তবে চামড়া ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, সরকার দাম বাড়ালেও ট্যানারিমালিকরা সেই দামে চামড়া কিনতে রাজি নন। 

রাজারহাট হাটের ইজারাদার রাজু আহম্মেদ বলেন, “ঈদ পরবর্তী প্রথম হাট হওয়াতে সেই পরিমাণ চামড়া উঠেনি। বাইরের আড়তদার বা ট্যানারি মালিকের প্রতিনিধিরা না আসাতে বিক্রিও হয়নি ভালো। আশা করছি আগামি হাটে পর্যপ্ত চামড়া আমদানি হবে; পাইকাররাও আসবে। সেই দিন জমজমাট ব্যবসা হবে।” 

ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতি শনিবার ও মঙ্গলবার বসে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল সর্ববৃহৎ এই হাট। তিন শতাধিক আড়তদারের মাধ্যমে ঈদ মৌসুমে লক্ষাধিক চামড়া বিক্রি হয় এই বাজারে। 

   

About

Popular Links

x