Tuesday, June 09, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ১০ হাজার কোটি টাকার সহায়তা চাচ্ছে ইসলামী ব্যাংক

চেয়ারম্যান নিয়োগ নিয়ে অস্থিরতার কারণে গ্রাহক আমানত তুলে নেওয়ায় এ পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে

আপডেট : ০৯ জুন ২০২৬, ০৫:১৯ পিএম

চেয়ারম্যান নিয়োগকে কেন্দ্র করে চলমান বিতর্ক ও গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে তারল্য সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ১০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ সহায়তা চেয়েছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি।

ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ঈদুল আজহার ছুটির পর রবিবার পর্যন্ত পাঁচ কার্যদিবসে ব্যাংকটিতে জমার তুলনায় প্রায় ৪ হাজার ৩০০ কোটি টাকা বেশি উত্তোলন হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, চেয়ারম্যান নিয়োগ নিয়ে চলমান অস্থিরতার কারণে একাংশ গ্রাহক আমানত তুলে নেওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

অতিরিক্ত অর্থ উত্তোলনের ফলে ব্যাংকটির বিধিবদ্ধ নগদ সংরক্ষণ হার (সিআরআর) বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। কয়েকদিন আগেও বাংলাদেশ ব্যাংকে ইসলামী ব্যাংকের চলতি হিসাবে ৭ হাজার ১৫ কোটি টাকার বেশি অর্থ ছিল। তবে সাম্প্রতিক উত্তোলনের চাপে তা কমে প্রায় ২ হাজার ৬০০ কোটি টাকায় নেমে এসেছে।

ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গ্রাহকদের চাহিদা নির্বিঘ্নে পূরণ এবং সম্ভাব্য সিআরআর ঘাটতি মোকাবিলার জন্যই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে বিশেষ সহায়তার আবেদন করা হয়েছে। তিনি বলেন, “চেয়ারম্যান নিয়োগের আগে ব্যাংকটির সিআরআর বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত চাহিদার তুলনায় বেশি ছিল। কিন্তু গত এক সপ্তাহে ব্যাপক অর্থ উত্তোলনের কারণে তা ঘাটতিতে চলে গেছে।“

বর্তমানে ব্যাংকগুলোর মোট আমানতের গড়ে ৪ শতাংশ বাংলাদেশ ব্যাংকে সিআরআর হিসেবে সংরক্ষণ করতে হয়। ইসলামী ব্যাংকের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য। ব্যাংকটির কর্মকর্তাদের মতে, তাদের সিআরআর সংরক্ষণের প্রয়োজন প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই পরিমাণ অর্থ ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছে না।

২৪ মে ইসলামী ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান জোবায়দুর রহমান পদত্যাগ করার পর বাংলাদেশ ব্যাংক সাবেক ডেপুটি গভর্নর খুরশীদ আলমকে নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয়। এরপর থেকেই “ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরাম” এর ব্যানারে একদল গ্রাহক তার নিয়োগের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করে।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, বাংলাদেশ ব্যাংকে দায়িত্ব পালনকালে খুরশীদ আলম বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সিদ্ধান্ত বা প্রমাণ প্রকাশ হয়নি। আন্দোলনকারীরা তার নিয়োগ বাতিলের দাবি জানিয়ে রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে কর্মসূচি পালন করছেন।

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সাল থেকে ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে ছিল এস আলম গ্রুপ। ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করা হয়। সম্প্রতি চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে পরিবর্তনের মধ্যেই নতুন করে ব্যাংকটির তারল্য পরিস্থিতি ও গ্রাহকদের আস্থা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

   

About

Popular Links

x