বাংলাদেশে সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচিতে শরিয়াহভিত্তিক পদ্ধতি চালু করতে চাচ্ছে সরকার।
জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ বলছে, দেশের অধিক সংখ্যক মানুষকে দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক নিরাপত্তার আওতায় আনতে প্রচলিত সুদভিত্তিক কাঠামোর পাশাপাশি শরিয়াহভিত্তিক পদ্ধতি চালুর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তাদের ভাষ্য, শরিয়াহভিত্তিক পদ্ধতি চালু করার মাধ্যমে সর্বজনীন পেনশনে বিভিন্ন ধরনের গ্রাহককে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি হবে।
বিদ্যমান চারটি স্কিম থাকার পরও কেন শরিয়াহভিত্তিক পদ্ধতির প্রয়োজন হলো, এটি কীভাবে চলবে, কতটা কার্যকর হবে এ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিশেষজ্ঞরা।
কেন শরিয়াহভিত্তিক উদ্যোগ?
জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের তথ্যের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, ২০২৩ সালে চালু হওয়া সর্বজনীন পেনশনের চারটি স্কিমে এখন পর্যন্ত মোট নিবন্ধিত গ্রাহকের সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজার।
এই কর্মসূচিতে জমা হওয়া প্রায় ৩২০ কোটি ৩০ লাখ টাকা সরকারি ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ করা হয়েছে।
সর্বজনীন পেনশনের চারটি স্কিমের মধ্যে ‘সমতা’ স্কিমে সর্বোচ্চ ২ লাখ ৮৭ হাজার ২২৪ জন নিবন্ধন করলেও বাকি তিনটি-`সুরক্ষা’, ‘প্রবাস’ ও ‘প্রগতি’-স্কিমে নিবন্ধনের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম।
এমন পরিস্থিতিতে সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষের আগ্রহ বাড়াতে নতুন প্যাকেজ হিসেবে শরিয়াহভিত্তিক পদ্ধতি যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ।
গত ১৭ সেপ্টেম্বর সচিবালয়ে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের পরিচালনা পর্ষদের চতুর্থ বৈঠকে এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব অনুমোদনের পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
নতুন এই পদ্ধতির আইনগত ভিত্তি তৈরির জন্য আইনের খসড়া প্রণয়ন করে তা জাতীয় সংসদে পাঠানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রশাসন ও অর্থ) শেখ কামরুল হাসান জানfন, শরিয়াহভিত্তিক পদ্ধতি আলাদা কোনো পঞ্চম স্কিম নয়; বরং বিদ্যমান চারটি স্কিমেরই ইসলামিক সংস্করণ।
তিনি বলেন, ‘প্রবাস’ স্কিমের পাশাপাশি ‘প্রবাস শরিয়া’ থাকবে। একইভাবে ‘প্রগতি’, ‘সুরক্ষা’ ও ‘সমতা’ স্কিমের ক্ষেত্রেও শরিয়াহভিত্তিক বিকল্প রাখা হবে।
অর্থাৎ, প্রতিটি স্কিমেই গ্রাহকের সামনে দুটি পদ্ধতি বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকবে-প্রচলিত মুনাফা পদ্ধতি অথবা শরিয়াহভিত্তিক পদ্ধতি।
যেসব গ্রাহক সুদভিত্তিক ব্যবস্থায় অংশ নিতে চান না, তারা শরিয়াহভিত্তিক পদ্ধতি বেছে নিতে পারবেন।



