Thursday, June 04, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

রপ্তানি আয়ের তথ্যে গরমিল!

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, বর্তমানে দেশের অবাস্তব রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১.৪ বিলিয়ন ডলার

আপডেট : ১০ মে ২০২৩, ০১:৪৪ পিএম

বাংলাদেশের অপ্রত্যাবাসিত রপ্তানি আয় তিন বিলিয়ন ডলার, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এমন কোনো পর্যবেক্ষণ দেয়নি। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, বর্তমানে দেশের অপ্রত্যাবাসিত রপ্তানির পরিমাণ ১.৪ বিলিয়ন ডলার।

রবিবার (৭ মে) ঢাকায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে বৈঠকে বসে সফররত আইএমএফ প্রতিনিধিদল। বৈঠক শেষে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. মেজবাউল হক জানান, “কিছু সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী বর্তমানে অপ্রত্যাবাসিত রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৩ বিলিয়ন ডলার। আসলে এটি ১.৪ বিলিয়ন ডলার।”

যদিও ২ মে আইএমএফের সঙ্গে বৈঠকের পরে বাণিজ্য সচিব সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আইএমএফ-এর সঙ্গে আমাদের অনেকগুলো এজেন্ডা থাকলেও তারা রপ্তানিখাতে ৩ বিলিয়ন ডলার বকেয়া সম্পর্কে জানতে চেয়েছে। কেন এই টাকা ফিরিয়ে আনা হচ্ছে না তা জানতে চেয়েছে তারা।”

গণমাধ্যমে পূর্বে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক বলেন, “কিছু বিভ্রান্তিকর প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে অপ্রত্যাবাসিত রপ্তানি আয় ৩ বিলিয়ন ডলার। তবে এটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য নয়। এই ব্যবধানটি সংজ্ঞার পার্থক্যের কারণে হতে পারে। আইএমএফ দলের এই তথ্য সম্পর্কে কোনো পর্যবেক্ষণ নেই।”

“আইএমএফ দল আমাদের নীতিতে সন্তুষ্ট। কিন্তু এখনও কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। আমাদের সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার সময় আছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের নিম্নমুখী প্রবণতা একটি মূল চ্যালেঞ্জ। তবে আমি আশা করি, আমাদের অ্যাকাউন্টে কিছু বিদেশি ঋণ যুক্ত হলে আর্থিক অবস্থা আরও শক্তিশালী হবে,” তিনি যোগ করেন।

আইএমএফের পরামর্শ অনুযায়ী নেট ফরেক্স রিজার্ভের হিসাব পরবর্তী মুদ্রানীতিতে প্রকাশিত হবে বলেও জানান বাণিজ্য সচিব।

তিনি আরও বলেন, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখন বিভিন্ন দেশ সফর করছেন এবং ঋণ চুক্তি সই করছেন। যা বাংলাদেশের আর্থিক খাতে ইতিবাচকভাবে প্রতিফলিত হবে। এ বছরের জুন থেকে সুদের হার করিডোর চালু হবে।”

মেজবাউল হক যোগ করেন, “আইএমএফের শর্ত অনুযায়ী আমাদের মার্কিন ডলারের একক বিনিময়ের দিকে যেতে হবে এবং আমরা সেদিকে যাচ্ছি।”

সুদ হার বাস্তবায়ন ও একক বিনিময় হারের দিকে অগ্রসর হওয়ার ফলে আশা করা যায়, দেশের অর্থনীতির উন্নতি হবে ও অপ্রত্যাবাসিত রপ্তানি আয় অদূর ভবিষ্যতে সুরাহা হবে।

“আমাদের অনেকগুলো কর্মসূচি রয়েছে যা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করতে হবে, যার মধ্যে সুদ করিডোর ও অভিন্ন বিনিময় হার রয়েছে। আমরা পরবর্তী মুদ্রানীতি থেকে এ দুটি কর্মসূচি চালু করতে যাচ্ছি এবং এ বিষয়ে আইএমএফকে অবহিত করা হয়েছে।”

বৈঠকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আইএমএফ প্রতিনিধিদলকে তাদের পরিকল্পনা জানিয়েছে উল্লেখ করে মেজবাউল বলেন, “অন্য একটি মিশন অক্টোবরে চূড়ান্ত মূল্যায়নের জন্য বাংলাদেশ সফর করবে।”

যা বললেন বাণিজ্য সচিব

মঙ্গলবার আইএমএফের সঙ্গে বৈঠকের পর সিনিয়র বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষ সাংবাদিকদের বলেন, “এই বিষয়গুলো বৈঠকে তোলা হয়নি। পুরো আলোচনাটি ছিল রপ্তানি প্রক্রিয়ার জটিলতা, ৩০০ বিলিয়ন ডলারের মুলতবি রপ্তানি আয়, রপ্তানি ও আমদানিতে অর্থ বিনিময়ের জন্য একটি নির্দিষ্ট হার নির্ধারণ এবং রপ্তানি সম্প্রসারণের উপায়সহ রপ্তানি-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে।”

রপ্তানি থেকে মুলতবি থাকা ৩ বিলিয়ন ডলার সম্পর্কে আইএমএফের অনুসন্ধানে তাদের প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে বাণিজ্য সচিব বলেন, “আমরা বলেছিলাম অর্থ সাম্প্রতিক সময়ে অমিমাংসিত ছিল না, তবে দীর্ঘদিন ধরে জমা হয়েছে।”

এ বছরের জানুয়ারিতে বাংলাদেশের জন্য অনুমোদিত ৪.৭ বিলিয়ন ডলার ঋণের প্রথম পর্যালোচনা মূল্যায়ন করতে আইএমএফের একটি দল ২৫ এপ্রিল ঢাকায সফরে আসে।

   

About

Popular Links

x