দেশের ৫২তম ও আওয়ামী লীগ সরকারের ২৪তম বাজেট বৃহস্পতিবার (১ জুন) জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।
২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৭ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট পেশ করা হয়েছে। সবশেষ বাজেটটি আগের অর্থবছরের চেয়ে ১২.৩৪% বড়। ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৬,৭৮,০৬৪ কোটি টাকার বাজেট দেওয়া হয়েছিল।
প্রস্তাবিত বাজেটে সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের আওতায় বয়স্ক ভাতাভোগীদের জন্য মাসিক বরাদ্দ ১০০ টাকা এবং বিধবা নারীদের জন্য ৫০ টাকা ভাতা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেটে ঘোষিত প্রস্তাব অনুযায়ী, ১০০ টাকা বাড়লে বয়স্কভাতা দাঁড়াবে ৬০০ টাকা এবং বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা নারীর জন্য মাসিক বরাদ্দ দাঁড়াবে ৫৫০ টাকা।
বৃহস্পতিবার বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বয়স্ক ভাতাভোগীর সংখ্যা ৫৭ লাখ ১ হাজার জন থেকে ৫৮ লাখ ১ হাজার জনে উন্নীতের প্রস্তাব করেন। পাশাপাশি তাদের মাসিক ভাতা ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬০০ টাকা করার প্রস্তাব করেছেন।
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, “আমাদের সরকারের মৌলিক লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এবং বর্তমান আর্থসামাজিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আগামী অর্থবছরের জন্য সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমকে যৌক্তিকভাবে সাজিয়েছি। আগামী অর্থবছরে সামাজিক সুরক্ষা খাতে কিছু কিছু ক্ষেত্রে উপকারভোগীর সংখ্যা ও ভাতার হার পরিবর্তন করা হয়েছে।”
বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা নারী ভাতাভোগীর সংখ্যা ২৪ লাখ ৭৫ হাজার থেকে ২৫ লাখ ৭৫ হাজার জনে উন্নীত করার প্রস্তাবও করেন অর্থমন্ত্রী। সেইসঙ্গে এই নারীদের প্রতি মাসের ভাতা ৫০ টাকা বাড়িয়ে ৫৫০ টাকা করার প্রস্তাব করেছেন।
এছাড়া প্রতিবন্ধী ভাতাভোগীর সংখ্যা ২৩ লাখ ৬৫ হাজার থেকে বাড়িয়ে ২৯ লাখ করার প্রস্তাব করেছেন মন্ত্রী।
শিক্ষার্থীদের মাসিক শিক্ষা উপবৃত্তির হারও বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এক্ষেত্রে প্রাথমিক স্তরে ৭৫০ থেকে ৯০০ টাকা, মাধ্যমিক স্তরে ৮০০ টাকা থেকে ৯৫০ টাকা এবং উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের জন্য ৯০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯৫০ টাকা করার প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী।
হিজড়া জনগোষ্ঠীর ভাতাভোগীর সংখ্যা ৪ হাজার ৮১৫ জন থেকে ৬ হাজার ৮৮০ জনে উন্নীত করা এবং বিশেষ ভাতাভোগীর সংখ্যা ২ হাজার ৬০০ জন থেকে বাড়িয়ে ৫ হাজার ৬২০ জনে উন্নীতের প্রস্তাব করেছেন মুস্তফা কামাল।
অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কার্যক্রমে উপকারভোগীর সংখ্যা ৬৯ হাজার ৫৭৩ জন থেকে ৮২ হাজার ৫০৩ জনে এবং বিশেষ ভাতাভোগীর সংখ্যা ৪৫ হাজার ২৫০ জন থেকে ৫৪ হাজার ৩০০ জনে উন্নীত করার প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী।
সরকারের মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচির উপকারভোগীর সংখ্যা ১২ লাখ ৫৪ হাজার জন থেকে বাড়িয়ে ১৩ লাখ ৪ হাজার জনে উন্নীত করার প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী।
এছাড়া অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কার্যক্রমে উপকারভোগীর ভাতার হার দৈনিক ২০০ টাকার পরিবর্তে ৪০০ টাকা করার প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী।
বৃহস্পতিবার বাজেট উপস্থাপনের জন্য স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর অনুমতি নেন অর্থমন্ত্রী। স্পিকারের অনুমতিক্রমে মন্ত্রী বাজেট বক্তব্য শুরু করেন। তার আগে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভায় প্রস্তাবিত বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়।
“উন্নয়নের দেড় দশক: স্মার্ট বাংলাদেশের অভিমুখে” শিরোনামে বাজেট বক্তৃতা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। ব্যবসা সম্প্রসারণের মাধ্যমে জনগণের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।
এবারের বাজেটে অনেকগুলো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে সরকারকে। যুদ্ধ ও মহামারি আক্রান্ত অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, আইএমএফের শর্ত বাস্তবায়ন, নির্বাচনী বছরের চাপ, কর্মসংস্থান তৈরি, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ধরে রাখা, রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি, বাজেট ঘাটতির অর্থায়ন, উন্নয়ন কর্মসূচি চলমান রাখাসহ প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার মতো নানামুখী চাপের মধ্যে এই “স্মার্ট ইকোনমির” বাজেট প্রণয়ন করতে যাচ্ছে সরকার।



