Wednesday, October 14, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

চুয়েট উপাচার্য: মুচলেকা দেইনি, সুস্থ হয়ে দায়িত্ব পালন করব

এক প্রতিবাদলিপিতে এ কথা জানিয়েছেন চুয়েট উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম

আপডেট : ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৪৮ পিএম

পদত্যাগ এবং ভবিষ্যতে ক্যাম্পাসে আর না ফেরার শর্তে উপাচার্যকে বের করে নেওয়া হয়েছে, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এমন খবরকে অসত্য ও ভিত্তিহীন দাবি করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য শেখ শরীফুল আলম।

তিনি জানিয়েছেন, সুস্থ হয়ে আবারও বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব পালন করবেন।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে পাঠানো এক প্রতিবাদলিপিতে চুয়েট উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম এ কথা জানান।

তিনি বলেন, গত মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) প্রায় ৩০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর চুয়েটের প্রশাসনিক ভবনে নিজ কার্যালয় থেকে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের উপস্থিতিতে আমাকে ক্যাম্পাসের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে যে, আমি আর কখনও ক্যাম্পাসে ফিরব না এমন শর্তে শিক্ষার্থীরা আমাকে বের হতে দিয়েছেন। কোনো কোনো সংবাদে আমার পদত্যাগের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ এ ধরনের কোনো বক্তব্য বা বিবৃতি আমি দেইনি। আমার বক্তব্য না নিয়েই এ ধরনের অসত্য ও ভিত্তিহীন তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনভিপ্রেত।

আমি স্পষ্টভাবে জানাতে চাই, অসুস্থতার কারণেই আমাকে ক্যাম্পাস থেকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। গত সোমবার দুপুর ১২টা থেকে বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় অবরুদ্ধ থাকার কারণে আমি শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ি। একই সময়ে সেখানে অবস্থানরত আরও কয়েকজনের স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটে। প্রায় ১১ জনের শারীরিক অবস্থার অবনতির বিষয়টিও সামনে আসে। এর আগে গত সোমবার রাতে আমাদের দুজন অ্যালামনাই সদস্য অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদের একজনকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। পরবর্তী সময়ে সরকারি চিকিৎসক ও সিভিল সার্জনের পরামর্শক্রমে আমাকেও হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এ বিষয়ে আমি আমার বক্তব্যে স্পষ্ট করে বলেছি, বিভিন্ন গণমাধ্যমে অসত্য সংবাদ প্রচার করা হচ্ছে যে আমি পদত্যাগ করেছি এবং ভবিষ্যতে কখনও চুয়েট ক্যাম্পাসে পদার্পণ করব না। এ ধরনের কোনো বক্তব্য বা বিবৃতি আমি দিইনি। কারণ, আপনারা জেনে থাকবেন, যখন আমাকে নিয়ে আসা হচ্ছিল, তখন আসলে আমি কথা বলার মতো অবস্থাতেই ছিলাম না। অসুস্থতার কারণেই আমি ক্যাম্পাস ছেড়েছিলাম। এখনও আমি অসুস্থ এবং চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে আছি। সুস্থ হয়ে আমি আবারও বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব পালন করব।

আমার শারীরিক অসুস্থতার বিষয়টি উপেক্ষা করে পদত্যাগ এবং ভবিষ্যতে ক্যাম্পাসে না ফেরার মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা আমার নামে প্রচার করা দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পরিপন্থী। বিশেষ করে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য না নিয়ে এ ধরনের সংবাদ প্রকাশের ফলে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কোনো ঘটনা নিয়ে ভিন্ন পক্ষের বক্তব্য বা দাবি সংবাদে উঠে এলে তা যথাযথভাবে যাচাই করা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য গ্রহণ করা সাংবাদিকতার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

আমি পুনর্ব্যক্ত করতে চাই, রাষ্ট্র আমাকে যে দায়িত্ব দিয়েছে, আমি সেই অর্পিত দায়িত্ব পালন করতেই চট্টগ্রামে এসেছি। কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ, বিশেষ কোনো এজেন্ডা বাস্তবায়ন কিংবা দলীয় বা স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোনো উদ্দেশ্য নিয়ে আমি এখানে আসিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব পালন এবং প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম সচল রাখার বিষয়টি আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রতিও আমার আহ্বান রয়েছে। আমি চাই না, কোনো স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর প্ররোচণা বা ব্যবহারের কারণে তোমাদের অমূল্য শিক্ষাজীবন ও একাডেমিক কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হোক। তোমরা যথেষ্ট মেধাবী ও সচেতন। তোমাদের শিক্ষাজীবন যেন আরও দীর্ঘায়িত না হয়, সে জন্য দ্রুত শ্রেণিকক্ষে ফিরে আসার আহ্বান জানাচ্ছি। আমিও এই ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থী ছিলাম। সেই সম্পর্ক থেকেই তোমাদের আমার অ্যালামনাই ছোট ভাই-বোন হিসেবে বিবেচনা করি।

প্রসঙ্গত, সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটের দিকে রাউজানে অবস্থিত চুয়েট ক্যাম্পাসে যান নতুন উপাচার্য শেখ শরীফুল আলম। ভবনের সামনের দরজায় থাকা তালা ভেঙে ভবনের ভেতর প্রবেশ করেন। নতুন উপাচার্যকে ভেতরে রেখে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে প্রশাসনিক ভবনের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এরপর পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়।

   

About

Popular Links

x