পৃথিবীতে ক্ষমতাসীন নেতারা বহুবার হত্যার শিকার হয়েছেন। এসব নেতাদের দেশ শাসনের ইতিহাস নানানরকম বৈচিত্র্য আর লড়াই-সংগ্রামের গল্প দিয়ে ভরা। তেমনি একজন কিউবার বিপ্লবী নেতা ফিদেল ক্যাস্ত্রো। ফিদেলের নাম শুনেননি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর।
আজ ১৩ আগস্ট ফিদেল কাস্ত্রোর জন্মশতবার্ষিকী। ১৯২৬ সালের ১৩ আগস্ট কিউবার বিরান শহরে জন্মগ্রহণ করেন এই সমাজতান্ত্রিক কমিউনিস্ট নেতা।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বিভিন্ন প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, পৃথিবীতে ফিদেল একমাত্র রাষ্ট্রনায়ক যাকে হত্যা করার জন্য গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ (CIA), যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষাবাহিনী ও যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র বিভাগ এবং পুঁজিবাদীগোষ্ঠী এমন কোনো তৎপরতা নেই যা প্রয়োগ করেনি।
দ্য গার্ডিয়ান তাদের এক প্রতিবেদনে কিউবার গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক প্রধান ফ্যাবিয়ান এসকালান্তের মন্তব্য প্রকাশ করে। যেখানে তিনি জানান, ফিদেল কাস্ত্রোকে তার ৯০ বছরের জীবনে মোট ৬৩৮ বার হত্যার চেষ্টা বা ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। কিউবার সরকারি সংস্থাও এ বিষয়ে বিভিন্ন নথি প্রকাশ করেছে।
বিশেষ করে, ক্যাস্ত্রোকে হত্যা করার জন্যে তার প্রাক্তন প্রেমিকা মারিতা লোরেঞ্জকে ভাড়া করা, সিগার বা চুরুটের ভেতরে বিস্ফোরক ঢুকিয়ে দেওয়া, ফিদেলের দাড়ি ফেলে দেওয়া, সামুদ্রিক শামুক ঝিনুকের খোলসের বিস্ফোরক ঘটানোসহ বিচিত্র রকমের পরিকল্পনা ছিল আমেরিকার।
ফিদেলের প্রাক্তন প্রেমিকা মারিতা লোরেঞ্জ নিউ ইয়র্কের একটি সংবাদপত্রকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে বলেছিলেন, ‘‘ক্যাস্ত্রো তখন আমাকে বলেন, তুমি আমাকে মারতে পারবে না। আমাকে কেউ মারতে পারবে না। তারপর একরকম হাসতে হাসতে মুখে চুরুট চিবুতে লাগলেন তিনি। তখন আমি দমে যাই। কারণ তিনি আমার ব্যাপারে খুবই নিশ্চিত ছিলেন। তিনি আমাকে জড়িয়ে ধরলেন। তারপর আমরা সেক্স করি।’’
ক্যাস্ত্রো শুধু একজন কমিউনিস্ট নেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন- সাম্রাজ্যবাদবিরোধী নেতা, সমাজতান্ত্রিক তাত্ত্বিক, আইনবিজ্ঞ, সামরিক যোদ্ধা, লেখক এবং প্রেমিক। কাস্ত্রো-র ব্যক্তিগত জীবনে দুজন স্ত্রী ছিল।
তবে, ইতিহাস সৃষ্টিকারী এই বিপ্লবী যুক্তরাষ্ট্রের ১০ জন প্রেসিডেন্টের শাসনকাল পার করে বেঁচে ছিলেন মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে। যুক্তরাষ্ট্রের সবকটি হত্যা পরিকল্পনাকে ব্যর্থ করে দিয়ে ২০১৬ সালের ২৫ নভেম্বর ৯০ বছর বয়সে নিজ শহর হাভানায় মারা যান কিউবার এই জনক।
হাভানা থেকে ওয়াশিংটন মাত্র ১৪৫ কিলোমিটার দূরত্ব। এ স্বল্প দূরত্বের মধ্যে পুঁজিবাদী রাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্র আর কিউবার সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের পার্থক্য বুঝিয়েছেন এই নেতা।
ফিদেল কাস্ত্রো ও বঙ্গবন্ধু
মুক্তিযুদ্ধের সময় সোভিয়েত ইউনিয়ন ও কিউবা বাংলাদেশের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ও সহাযোগতিার হাত এগিয়ে দিয়েছিলো। মুক্তিযুদ্ধের পর থেকে এখন পর্যন্ত কিউবা বাংলাদেশের বন্ধুপ্রতীম রাষ্ট্র।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে কিউবান বিপ্লবী নেতা ফিদেল কাস্ত্রোর সাক্ষাৎ হয়েছিল ১৯৭৩ সালে। আলজেরিয়ায় অনুষ্ঠিত জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের (ন্যাম) চতুর্থ সম্মেলনে ফিদেল বঙ্গবন্ধুকে আলিঙ্গন করে একটা কথা বলেছিলেন। যা সারাবিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।
ফিদেলের বলা কথাটি হচ্ছে- ‘‘আই হ্যাভ নট সিন দ্য হিমালয়েজ। বাট আই হ্যাভ সিন শেখ মুজিব। ইন পারসোনালিটি অ্যান্ড ইন কারেজ, দিস ম্যান ইজ দ্য হিমালয়েজ। আই হ্যাভ দাজ হ্যাড দ্য এক্সপিরিয়েন্স অব উইটনেসিং দ্য হিমালয়েজ।’’
এর বাংলা হচ্ছে- ‘‘আমি হিমালয় দেখিনি। তবে শেখ মুজিবকে দেখেছি। ব্যক্তিত্ব ও সাহসে এই মানুষটি হিমালয়ের সমান। এভাবে আমি হিমালয় দেখার অভিজ্ঞতাই লাভ করলাম।’’



