Wednesday, October 28, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

আগেভাগে ঈদ করা কতটুকু ইসলামসম্মত

সাধারণত সৌদি আরবে যেদিন ঈদ হয় তার পরদিন বাংলাদেশে ঈদ পালিত হয়। আবার কিছু জায়গায় পালিত হয় সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে। আর চাঁদ দেখা নিয়ে প্রতি বছরই হয় বিতর্ক

আপডেট : ০২ মে ২০২২, ১২:১০ এএম

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের চাঁদ দেখা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাংলাদেশে মুসলিমদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদ-উল-ফিতরের দিন চূড়ান্ত হয়। সাধারণত ২৯ রোজার দিন বিকেলে এ কমিটি বৈঠকে বসে।

সেদিন দেশের কোথাও চাঁদ দেখা গেলে পরদিন ঈদের ঘোষণা দেয় ফাউন্ডেশন। অন্যথায় ৩০ রোজা শেষেই ঈদ হয়ে থাকে।

ঈদ পালনের এই সময়সূচি নিয়ে মতপার্থক্য এবং এর বিভিন্ন দিক উঠে এসেছে বিবিসির এক প্রতিবেদনে।

এতে বলা হয়, সাধারণত সৌদি আরবে যেদিন ঈদ হয় তার পরদিন বাংলাদেশে ঈদ পালিত হয়। আবার কিছু জায়গায় পালিত হয় সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে। আর চাঁদ দেখা নিয়ে প্রতি বছরই হয় বিতর্ক।


আরও পড়ুন-  দুদিন আগেই ঈদ উদযাপন চাঁদপুরের যে দুই গ্রামে!


বাংলাদেশের সুপরিচিত পদার্থবিজ্ঞানী এবং ইসলাম ও বিজ্ঞান বিষয়ক লেখক ড. শমসের আলী বলছেন, ইসলাম ধর্মের বিধান মেনেই মুসলিম বিশ্ব একদিনেই ঈদ পালন করতে পারে। তিনি মনে করেন, চাঁদ নিজের দেশেই দেখতে হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।

তিনি বিবিসিকে বলেন, “কোরআনে আছে এই মাসের সাক্ষ্য পেলে রোজা রাখবা। নিজে দেখতে বলেনি। কারও সাক্ষ্য পেলে হবে। রাসুল (সা.) সাক্ষ্য পেয়ে রোজা ভেঙেছেন, ঈদ করেছেন।”

“সেটা নিজের দেশে হতে হবে তার কোনো মানে নেই। ঈমাম আবু হানিফা ও নবী বলে গেছেন, তোমরা একই দিনে রোজা রাখবে ও রোজা ভাঙবে। চাঁদ উঠে গেলে চান্দ্রমাস শুরু। এটা করলেই আর অসুবিধা হবে না,” বলেন ড. শমসের।

শমসের আলীর কথা হলো, “মক্কা মুসলমানদের পবিত্র স্থান। সেখানে চাঁদ দেখা গেলে তার ভিত্তিতেই সব মুসলিম দেশে ঈদ পালিত হতে পারে। দেশগুলোর মধ্যে কয়েক ঘণ্টার সময়ের ব্যবধান এক্ষেত্রে বড় কোনো সমস্যা নয়।”

এছাড়া মুসলিম দেশগুলোর সংস্থা ওআইসিও একই দিনে রোজা ও ঈদের সুপারিশ করেছে।

তারপরেও বাংলাদেশে সৌদি আরবের পরদিন হচ্ছে। কারণ হিসেবে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি মনে করে, ইসলামের নবী চাঁদ দেখে রোজা রাখা এবং রোজা ছাড়ার কথা বলেছেন।

চাঁদ বিশ্বের কোথাও দেখা গেলেই হবে?

ভৌগোলিক কারণে বাংলাদেশে অন্যান্য দেশের একদিন পর নতুন চাঁদ দেখা যায়। আবার আরব বিশ্বে বাংলাদেশের তিন ঘণ্টা পর সূর্যাস্ত হয়। তাই তিন ঘণ্টা পর আরব বিশ্ব নতুন চাঁদ দেখতে পেলেও সময়ের ব্যবধানের কারণে বাংলাদেশে তা দেখতে পাওয়া যায় না।


আরও পড়ুন-  আফগানিস্তানের পর এবার আরবের সাথে একদিন আগে ঈদ করবে শতাধিক গ্রাম


তবে আবার সময়ের ব্যবধানে বাংলাদেশ থেকে এগিয়ে থাকা মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া আরব বিশ্বের মতো করেই ঈদ পালন করে। তাদের অনুসরণ করে আফ্রিকার কিছু মুসলিম দেশও।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের অধ্যাপক ড. যুবাইর মুহাম্মদ এহসানুল হক বলেন, এটিই সঠিক সিদ্ধান্ত অর্থাৎ বিশ্বের কোনো মুসলিম দেশে ইসলামি বিধান মোতাবেক চাঁদ দেখা নিশ্চিত হওয়া গেলে সেটিই সব মুসলিমের জন্য প্রযোজ্য হবে।

“বাংলাদেশের আমরা তো বেশিরভাগই হানাফি মযহাবে বিশ্বাসী। এর প্রধান আবু হানিফার বক্তব্য ছিল, পৃথিবীর কোনো এক জায়গায় চাঁদ দেখা গেছে এ সংবাদ পেলেই রোজা ও ঈদ হবে। এ জিনিসটা ওনার সময়ে পালন অসম্ভব ছিল কারণ তখন আরেক শহরের খবর আসতো না। এখন তো বিশ্বের এক প্রান্তের খবর মুহূর্তের মধ্যে পাই। তাই আবু হানিফার কথা পালন করা কর্তব্য।”

ড. যুবাইর আরও বলেন, “রোজা বা ঈদের জন্য চাঁদ তো দেখা যেতেই হবে, কিন্তু পৃথিবীর কোথাও দেখা গেলে তার আলোকেই সারা বিশ্বের মুসলমানরা রোজ ও ঈদ করতে পারবে।”

সরকারের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হওয়া উচিত

খালি চোখে চাঁদ দেখা যাওয়ার পরই হিজরি বছরের একটি নতুন চান্দ্র মাস শুরু হবে, এটাই ইসলামের বিধান। এ বিষয়ে সব পক্ষই একমত।

সে কারণে বহু ধর্মীয় নেতা এখনও নিজ নিজ দেশে খালি চোখে চাঁদ দেখা যাওয়ার ওপরই নির্ভর করতে চান।

কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আল কুরআন ও ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক এ এফ এম আকবর হোসেন বলেন, “ঈদের বিষয়ে যে শরিয়াহ বোর্ড সরকারকে পরামর্শ দেয় তাদের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হলে জনমনে বিভ্রান্তি হবে না।”

আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্ত

২০১৬ সালের মে মাসে ইস্তাম্বুলে এক আন্তর্জাতিক সম্মেলন হয়েছিল তুরস্কের উদ্যোগে। সেখানে তুরস্ক, কাতার, জর্ডান, সৌদি আরব, মালয়েশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মরক্কোসহ ৫০টি দেশের ধর্মীয় পণ্ডিত এবং বিজ্ঞানীরা অংশ নেন।

ইন্টারন্যাশনাল হিজরি ক্যালেন্ডার ইউনিয়ন কংগ্রেস নামে পরিচিত এই সম্মেলনে হিজরি ক্যালেন্ডার নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুসলিমদের মধ্যে যে বিভক্তি সেটা নিরসনে এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসে।

সেখানে বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞই বিশ্বের মুসলিমদের একটি বর্ষপঞ্জির মধ্যে নিয়ে আসার পক্ষে মতামত দিয়েছিলেন।

আর সেটি বাস্তবায়িত হলে রোজা যেমন একই দিন থেকে শুরু হতো তেমনি ঈদও একই দিন পালন করা সম্ভব হতো।

   

About

Popular Links

x